সর্বত্র সে আছে, তার দেখা পাবে

ssss

কেদার  কেদার  //     ইন্দ্র দাশগুপ্ত

–“কেদার”- “কেদার”-ডাকছিল কেউ? ঘরের বাইরে  দরজায়,
শব্দের স্বর চিনে নিতে নিতে বুঝলো না কে যে কি চায়।
“কে, কে”? বলাতে এলো যা জবাব মাত্র দুটি সে আখরে,
-“খোলো”–, হয়রান অবাক নিজেই দিশেহারা 
মহাফাঁপরে।
দিনযাপনে বিরোধ জ্ঞাপনে তার পথ ছিল হাঁটার-
স্বার্থসিদ্ধি-লোভরা বসালো ‘আ’-কার, সে দিশা কাটার।
খুন হয়ে গেল গোপনে কেদার-কেদারার মসনদে,
যখনই কপাট হাট করেছিল ক্ষমতার দাসখতে।
চারপায়াটাই জুড়ে গেল যেন দ্বিপদ চারণভূমিতে,
তুমি তো কেদারা হলে রাজপাটে – কেদার হারালো তুমিতে।

“কেদার কেদার”-ডাক ছিল কেউ, খোঁজ ছিল না তো একার,
দেওয়ালের কান শ্রুতিতে না আসে আপ্রাণ তাই রোখার,
কতো যে কেদার কে দ্বারও বোঝেনি খুলে দেওয়া অর্গলে,
মোহাবেশে সব যুক্তি ডুবেছে পাতা ফাঁদ শোরগোলে।
কেদার তখনও সত্যি চেনেনি চৌকাঠ সীমারেখা,
অনীতির সব দুয়ারেই ছিল তার দহনের শিখা,
জ্বালানি সেদিন অবধি গুদামে জমা ছিল
পর্যাপ্ত, 
জানতো না কারা তলে তলে ঘুন ধরাতেই ছিল ব্যাপ্ত।

“কেদার কেদার”  করাঘাতগুলো কেদারা করতে নিশি-ডাক,
কেদাররা আজ শাসনে আসন,কেদারা-দূর্বিপাক।

.

.

.

123

সুখ  //  শান্তনু জানা

প্রকৃত সুখ আছে কীসে?

সেকি আছে বাতাসে মিশে?

জানলে পারে বলো কিন্তু,

আমিও যাবো সুখের দেশে।

সুখের জন্য ছুটতে ছুটতে,

ভুলে যাই জীবনের মানে।

তবু সুখ খুঁজে না পাই,

কোথায় যে সুখ কেইবা জানে।

কষ্টের মাঝে জীবন ভরা,

দুঃখের মাঝেই ভুবন।

প্রকৃত সুখ কিসেও নেই,

শুধু মায়াজালে ভরা এই ত্রিভুবন।।

.

.

.

WILLIAM WORDSWORTH এর  Three years she grew in sun and shower কবিতার  ভাবানুবাদ 

ইংরেজি আমার বিষয় নয়, আমি এই ভাষায় বিশেষজ্ঞ নই। তাই ত্রুটি থাকলে উল্লেখ করবেন । 

ভাবানুবাদ 

কবির কন্যা রোগ্যন্ত্রনায় ভুগে তিন বছর বয়সে মারা যায়। তাকে হারিয়ে কবি শোকস্তব্ধ। তার অনুপস্থিতি কবির কাছে অসহনীয়। কিন্তু একইসঙ্গে তিনি ভাবেন প্রকৃতি তাকে মুক্তি দিয়েছে। নিয়ে গেছে নিজের তদারীকে সাহচর্যে তাকে গড়ে তুলবে বলে। আর মানুষতো প্রকৃতির সন্তান। তার ইচ্ছেতেই তার আবির্ভাব তিরোভাব। সময় হলে যেমন সবাইকে যেতে হয় তাকেও যেতে হয়েছে। কিন্তু সে বেঁচে তার হৃদয়ে। প্রকৃতির কোলে পরিণত হয়ে সুস্থ সবল শরীরে সে বেঁচে থাকবে তারই সাথে। দুজনে এক স্বর্গীয় সুখ ভোগ করবে। তাই অনুশোচনা নয় যদিও তার শারীরিক অনুপস্থিতি তার কাছে পীড়াদায়ক। কবির মনের এই দ্বৈত মনন ভাষা পেয়েছে তাঁর এই কবিতায়।

213

সে চলে গেছে  //  রণেশ রায়

সময় বয়ে যায় 

তিন বছর হয়ে গেল, 

রোদে জলে বেড়ে ওঠে সে,

কিন্তু প্রকৃতি জানিয়ে যায়,

“ এমন সুন্দর অঙ্কুর অঙ্কুরিত হয় নি কোনদিন আগে

কখনও ফোটে নি এমন ফুল এ ধরা মাঝে

সে যে একান্ত আমারই,

তাকে গড়ে তুলব আমার মত করে

আমারই দুহিতা সে যে,

তার এ কি যন্ত্রনা এই বিশ্বে

এ ধরা উপযুক্ত নয় তার জন্যে।

“তাকে আমি নিয়ে যাই আমার কাছে

সে বেড়ে উঠবে আমার কোলে,

আমার যত্নে আদরে।

আমারই দুহিতা সে যে,

পাহাড়ে সমভূমিতে ধরিত্রীর বুকে

স্বর্গে মর্তে  নিকুঞ্জ বনে 

সর্বত্র সে আছে, তার দেখা পাবে, 

এক অদৃশ্য ক্ষমতা বলে 

সে প্রজ্বলিত হবে 

 ধীর শান্ত পূর্ণ রমণী রূপে।”

মৃগশিশু সে খেলে বেড়ায়, 

নেচে বেড়ায় আনন্দ কোলাহলে 

প্রকৃতির নীরব নিশ্চিত কোলে 

পাহাড়ের ঝর্ণায় বা তৃণ প্রান্তরে 

শান্তির নিঃশ্বাস আকাশে বাতাসে।

নিশ্চুপ পিতা  যন্ত্রনায় কাতর, 

সে ভেবে চলে, 

কন্যা তার ভেসে বেড়ায় মেঘের  ডানা  বেয়ে, 

বৃক্ষরাজি স্বাগত জানায় তাকে, 

আকাশ থেকে সে উঁকি মারে নিচে, 

শোকস্তব্ধ পৃথ্বী নিঃশব্দ শোকে 

সে তার সহমর্মী আকাশ পারে। 

আকাশের নক্ষত্র সমাজ কত আপন তার

মহাবিশ্বের সর্বত্র তার বাস অনন্ত সুখে 

উর্বশী নেচে চলে তার ভ্রমন পথে 

সে মর্মর ধ্বনিতে আলোকিত কন্যার  মুখমন্ডল। 

প্রকৃতির সাহচর্যে কন্যা বেড়ে ওঠে 

যেন কলি ফুল হয়ে ফোটে সে কাননে, 

শিশু পরিণত হয় কুমারী কিশোরি হয়ে 

প্রকৃতির সোহাগে আদরে

সে জীবনের স্পন্দন শোনে,

যেখানেই থাকুক না সে 

অন্তের  ওপ্রান্তে ওই সুদূর অনন্তে,

পিতা তাকে খুঁজে পায় তার অন্তরে। 

কন্যার বিচ্ছেদে মর্মাহত শোকস্তব্ধ সে 

তার বিচ্ছেদ  প্রতিমুহূর্ত ব্যথা দেয় তাকে, 

কিন্তু সে জানে প্রকৃতি সর্বশক্তিমান 

তার ইচ্ছেতে যেতে হয় সবাইকে

অনুশোচনা করে না সে আর 

সময় হওয়ায়  আদরের কন্যা চলে গেছে তার, 

সে এখন বেঁচে আছে প্রকৃতির সাহচর্যে

শোক কষ্টের উর্ধে সে প্রকৃতির কোলে, 

অনন্ত সুখের স্বর্গে তার বাস 

মরোজগতের যন্ত্রনা বেঁধে না তাকে আর

যখনই তাকে খোঁজে তার দেখা পায়

সুখে দুখে আদরে সোহাগে

তারই অন্তরে যে কন্যার নিবাস।

Three Years She Grew

Then Nature said, “A lovelier flower 

On earth was never sown; 

This Child I to myself will take; 

She shall be mine, and I will make 

A Lady of my own. 

“Myself will to my darling be 

Both law and impulse: and with me 

The Girl, in rock and plain, 

In earth and heaven, in glade and bower, 

Shall feel an overseeing power 

To kindle or restrain.

“She shall be sportive as the fawn 

That wild with glee across the lawn 

Or up the mountain springs; 

And hers shall be the breathing balm, 

And hers the silence and the calm 

Of mute insensate things. 

“The floating clouds their state shall lend 

To her; for her the willow bend; 

Nor shall she fail to see 

Even in the motions of the Storm 

Grace that shall mould the Maiden’s form 

By silent sympathy. 

“The stars of midnight shall be dear 

To her; and she shall lean her ear 

In many a secret place 

Where rivulets dance their wayward round, 

And beauty born of murmuring sound 

Shall pass into her face.

.

.

.

মণি নয়, মুক্ত নয় // বিশ্বনাথ পাল

বিপন্ন এ সময়ের মাঝে
উতল হাওয়ায় 
এ কোন বিষাদে
বাঁধলে আমায়?
মণি নয়, মুক্ত নয়
স্রেফ ভয় দিয়ে
প্রতিবাদের শুনশান
রাস্তা বাটোয়ারা নিয়ে
উত্তাল হয়
পৈশাচিক আবিলতা
জাহির করে জয়
ছেঁড়া পালে গুটিকয়
হেঁকে কয় রাত্রি নয়
ঐ বুঝি ভোর।
আঁধার সিন্ধুক থেকে
খুলে দেবে মুক্তির ডোর।
এরপরে খুশি মনে
স্বস্তির আলো
বিষাদের ঘুলঘুলি
হাট করে দিক খুলি
প্রাণের প্রদীপ
আজ সব জ্বলে
অবিরত হুঙ্কার তার পদ তলে।।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *