কবির মনেও ছন্দ অমলিন !

ng

দিন-পুরাণ //  তন্মনা চ্যাটার্জ্জী

আলগোছে ঘুম সোহাগ চাদর ঢাকে
ঘুম পেরোলে অভিমানের ডিঙ্গা;
রক্ত-গোলাপ বইয়ের ফাঁকে বন্দী,
তুমুল ঢেউয়েও রুদ্ধ করে রাখে!
দিন পেরিয়ে আসবে আরেক দিন
নতুন সফর হোকনা কিছু অন্য,
ঘুম ভেঙে যেই হঠাৎ শব্দ ফেরে
কবির মনেও ছন্দ অমলিন!
শব্দ সাজায় কবির নতুন সাজ~
সময় পেরোয় আলোর অভিলাষ!
রংপুরেতে চুপকথাদের ভীড়ে;
কান্না-হাসির অস্ফুট মন্তাজ!!
.
.
.

এক রমনীর প্রতি //  রনেশ রায় 

মধুসূদন দত্তের ইংরেজিতে লেখা কবিতা অনুসরণে

         ১

 পৃথক যে নহ তুমি

  অন্তরে বাহিরে,

 নয়ন ভরিয়া

 দেখি যে তোমারে

  তুমি সুন্দরী তুমি উর্বশী

   জেনেছি তোমারে

  হৃদয় দিয়া, পরখি হৃদয়ে,

    তুমি সুন্দরী তুমি মহিয়সী।

        কেন এ ধরনীতে

      তব আগমন

   কি লভিবে হেতা

হে সুন্দরতম।

            ২

 ও মহিয়সী! তুমি কত সুন্দরী

 তুমি ভাগ্যবতী

   লভিয়াছ বর,

  এ বসুন্ধরা

    সৃজিয়াছে তব কি সুন্দর,

    তবে কেন নিঠুর তুমি

    এই দুখীজন পরে

     বিমুখ কেন তারে অনুগ্রহে।

      অন্য রমনীর প্রতি

     যবে তোমাতে আমাতে

      মিলি নয়নে নয়নে

      বিরাগ হয়ো না মম পরে

      আঁখি তুলে চাহ

      এ অধম তরে

      তোমারে সে যে পেতে চায়

      রত তব অপেক্ষায়।

                ১

   আমি ভ্রমি সুখের সন্ধানে

      সুখ লোভী আনন্দে

হতাশ কন্ঠে আমি বলি

    কোথা সুখ

   সুখ কোথা গেলি?

     কোথা হোতে, কোন সে সূদুর,

 ভেসে আসে কন্ঠস্বর

  এ ভুবনে আনন্দ লুকায়ে,

  তাহারি মাঝে সুখ বিরাজে

  সুখ লভিবে আনন্দে

 যদি সে সুখ থাকে ত্রিভুবনে`।

                  ২

     আমি যাহা খুঁজি, ভ্রমি যাহা

      তুমি কি দিতে পারিবে তাহা!

   ফিরাওনা মোরে সই

   লভিতে দাও যাহা পেতে চাই,

  পেয়েছি যে সুখের সন্ধান

    জেনেছি তোমায়,

 তোমাতেই সুখ

    সুখ বিরাজে হেথায়

       `যদি ত্রিভুবনে

   কোথাও তারে পাওযা যায়`।

            ৩

  আমি আনন্দ প্রয়াসী

  আমি সুখের সন্ধানী

   আমি লভি সুখ

তব আলিঙ্গনে, তব চুম্বনে,

ইহা হতে সুখ নাহি এখানে

`যদি আনন্দ সুখ থাকে এ ভুবনে`।

.

.

.

দুর্বিপাক //   প্রিয়নীল পাল

আমি পেরে উঠিনা, 
আঘাত গুলো রক্ত দেয় না 
দেই জমাট বাঁধা ক্ষত। 
তোকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকতে 
চেয়েছিলাম যেদিন প্রথম সম্পর্ক হয়েছিল, 
কিছু সময়ের পর থেকেই বুঝে গেলাম 
আমার ধারণা ভুল ছিল। 
তবুও প্রবাল দ্বীপের মতোন 
নষ্ট হতে হতেও আমি লাল হয়ে উঠি 
যদি পুনরায় ফিরে পায় সেই দ্যুতি। 
আমি রোজ রোজ ভেঙে পড়ি 
সেই তোর আঘাতে জখম হয়ে 
তোর কাছেই ওষুধের দাবি করি। 
বোকা বোকা আমার দুটি চোখে
গোলে গোলে পড়া স্বপ্ন গুলো 
বালিশ ভিজিয়ে দেই 
আর একটু তোর সান্ত্বনা দেওয়া কথা 
আমার নিজেকে বুঝিয়ে দিতে আর কিছু লাগে না।
তবে আঘাত থেকে অভিমান বেড়ে যায়
তোর তুই বদলে যাবি না 
আমার স্বপ্ন দেখিয়ে তোকে আমি 
নিজের ভালোবাসা আর বোঝাতে পারবো না।
দম বন্ধ হলে নীল হয়ে পড়ে শরীর 
তেমনই নীল আমার বুকের পাজর 
কষ্ট গুলো ঘুরতে থাকে 
শুধু পরে না তোর নজর। 
আজ গুটি কয়েক বসন্ত হাতে ছিল 
আজ কিছু স্বপ মাখা রুমাল ছিল
হঠাৎ করে দুর্বিপাক
যা হওয়ার তাই হলো। 
2635
.
.
.

একুশ মানে  //  সব্যসাচী নজরুল

একুশ মানে নব চেতনায়
নতুনত্বের ভাবনা
একুশ মানে আঁধার তাড়ানো
নব আলোর কণা।

একুশ মানে দৃঢ় প্রত্যয়
দুরন্ত নির্ভয়া অক্ষয়
একুশ মানে হার না মানা
নব অগ্রযাত্রা জয়।

একুশ মানে ভাষার মিছিলে
গুলি, রক্তস্রোত ঢল
একুশ মানে শুদ্ধাভিযান সদা
বাংলায় কথা বল।

একুশ মানে দৃঢ়তায় চলবো
মোরা সবসময়
একুশ মানে বাঙালিয়ানার
ষোল আনা অক্ষয়।

একুশ মানে কথা বলবো
শুদ্ধ বাংলা স্বরে
একুশ মানে মুক্তির গান
সবে গাইবো সমস্বরে।

.

.

.

0230125

Ode to the West Wind
BY PERCY BYSSHE SHELLEY

O wild West Wind, thou breath of Autumn’s being,
Thou, from whose unseen presence the leaves dead
Are driven, like ghosts from an enchanter fleeing,
Yellow, and black, and pale, and hectic red,
Pestilence-stricken multitudes: O thou,
Who chariot est to their dark wintry bed

The winged seeds, where they lie cold and low,
Each like a corpse within its grave, until
Thine azure sister of the Spring shall blow

Her clarion o’er the dreaming earth, and fill
(Driving sweet buds like flocks to feed in air)
With living hues and odors plain and hill:

Wild Spirit, which art moving everywhere;
Destroyer and preserver; hear, oh hear!

 

ভাবানুবাদ

 

পশ্চিমি বাতাস উৎসর্গ তোমায় // রণেশ রায় 

 

হে উন্মাদ পশ্চিমি বাতাস!

তুমি শরতের নিঃশাস

দেখা দেও না

বয়ে চল অবিরাম,

তবু তোমার অশরীরী উপস্থিতি।

শীতের প্রাদুর্ভাব, তোমার প্রবাহে

তরু হতে ঝরে পড়ে

বিবর্ণ নিষ্প্রাণ পত্ররাশি

মরণোন্মুখ পাতা বাহার,

পক্ষাঘাতে জীর্ণ

পীত কালচে ফেকাসে লাল,

কোন জাদুকরের জাদুবলে

পলায়ন তাদের!

বন প্রাঙ্গনে যেন মহামারী,

আকাল আজ বন অঙ্গনে।

বায়ু রাজ পশ্চিমি বাতাস,

তুমি তাদের তাড়িয়ে নিয়ে যাও

হিম প্রবাহে

কোন এক  অন্ধকার শৈত্য শয্যায়।

খোসা বীজ আশ্রয় নেয়

কুণ্ডুলি পাকিয়ে কোন এক

অন্ধকার কবরে আশ্রয় শিবিরে।

 

তোমার সোহাগিনী বসন্ত ভগিনী

তার বাঁশির সুর বেজে ওঠে

অদূরে স্বপ্নপুরী এ পৃথ্বীতে,

সে বেণুর সুরে প্রাণসঞ্চার,

রাখাল বালকের মত

সে তাড়িয়ে নিয়ে চলে ভ্রুনেরে,

বাতাসে  নিঃশ্বাস তাদের

জেগে ওঠে সবে কলকল রবে।

 

হে উন্মাদ পশ্চিমি বাতাস

তুমি অশরীরী, শোন তুমি

তুমি ধ্বংস তুমি সৃষ্টি

রক্ষাকর্তা তুমি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *