নূপুর যখন বাজে 

কলিজা  // বিকাশ দাস

কলিজার টুকরো পেলাম 
    যতনে পুষলাম হৃদয়ে ।
কলিজা আমার অনুভূতিগুলিকে 
   শিহরণ জাগায় ।
শিরাগুলি আমার মনকে 
         যতন করে আগলে রাখত।
ঘুম পারাত,ঘুম পাড়ানি গানে
    আমি দেখতাম হৃদয় তীরের ঘর।
হটাত দেখি একদিন কলিজা 
         ভিজে গেছে।
জবুথবু কলিজা—-
   শুকাতে দিলাম বাইরে—
শুকালই না।
শেষে সেও নেই,
বুক টা খুব তখন টনটন করে–
এখনও–
.
..

 

.ক্ষমা কর হজরৎ // সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

মাটির ধুলো চুল্লি শ্মশান

 কোলাজ কবর সুন্নত
হারিয়েছে আপন গরিমা
  মুখোশে ঢাকা কালো পিচ মাখা
হয়েছে নাকি রাজপথ
 ক্ষমা কর হজরৎ।
টাকা এখন মন্দির মসজিদ
   টাকাই জগৎময়
টাকা পদে মন করিলে অর্পণ
   হারায় আপন রথ
 ক্ষমা কর হজরৎ।
    কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান
       হাঁকিছে ভবিষ্যৎ
   অর্থের বলে বলিয়ান যারা
      সততাকে করছে বধ   
   তাদের ক্ষমা কর হজরৎ।
.
.
.

নূপুর যখন বাজে // সুব্রত মজুমদার  

গোলাপ বাগে তন্দ্রা জাগে ঘুমিয়ে আছে ফুলগুলি
আসবে কি মোর নিঠুর প্রিয়া দখিন হাওয়ায় চুলখুলি ? 
লাল অধরের মিষ্টি চুমু আর কি পাব ও সাকি ? 
তোমার বুকে লুটাতে চাই আর যে ক’টা দিন বাকি। 
তোমার নূপুর যখন বাজে আমার হৃদয় গলির পথে 
ভালোবাসার লাল গুলাবের লালি মেশে খুনের সাথে। 
লাইলা-সিরিন-রাইকিশোরী সব ছাড়িয়ে তোমার প্রেম, 
নিকষ কালো কষ্টিযাচা আগুন শুদ্ধ নিখাদ হেম। 
তোমার জন্যে আসবো আমি নতুন রুপে বারম্বার ;
অমর মহাকাব্য হয়ে রইবে লেখা মোদের প্যার । 
.
.
.

বিধাতার রীতি  //  রিঙ্কু মণ্ডল

অন্ধকার ছেয়ে গেছে ধরিত্রীর বুকে
প্রদীপের আলো জ্বেলে স্বল্প জনা বসে।
পুষ্টির অভাব হেতু কুষ্ঠ রোগে ধুঁকে
বাতাসের শিহরনে অঙ্গ গুলো খসে।
সঞ্চিত দ্রব্যসমূহ পাশে নেই আজ
অঙ্গীর অঙ্গই শুধু বলি দিতে হয়।
হবি রূপে অঙ্গ দিলে হবে নাকো কাজ
প্রাণ যেন দিতে পারে এই বাণী রয়।

অল্পদিনের চুক্তিতে পাঠালেন স্রষ্টা
হাজারো রীতি-নীতির প্রতিজ্ঞা বচনে।
মেনে নিতে সব রীতি আমরণ চেষ্টা
ব্যস্ত প্রভু ধরিত্রীর ভিন্ন রীতি দানে।
প্রভাকর ঢেকে দিয়ে অন্ধকারে বলে
আলো নামের দ্রব্যটি নিজ মনে চলে।

অরক্ষিতা // শ্যামল কুমার রায় 

চারিদিকে শুধু হায়নার দল
এক তাল মাংস খুবলে নেওয়ার ছল।
                     আমারই জঠর হতে জাত তুমি!
ধিক! পুরুষ , পথে ঘাটে সর্বত্রই অরক্ষিত আমি।
সুরক্ষিত নই আমি গৃহকোণে
                   ইনসেস্টের থাবা বসে সেখানে।
পিদিমের আলো হতে নিয়নের আলো
মনের অন্ধকার কই আর ঘুচলো!
প্রাচ্যে আমি ‘মাতৃরূপেণ সংস্থিতা’
            পাশ্চাত্যে আমি ‘পত্নী রূপে’ আরাধ্যা।
ধিক! মুকুন্দ! ধিক!
পাঞ্চালীকে রক্ষার বাইরে কি কর্তব্য অনধিক?
                           তুমি থাকতেও নির্ভয়া আমি! 
গলি থেকে রাজপথ- যৌন হেনস্থার শিকার আমি।
বয়স এখানে ভীষণ গৌণ,
আট থেকে আশি সবই আজ পণ্য।
পুরুষের শরীর বাদ বিচার মানে না আর
নারী শরীরে তার একছত্র অধিকার।
ট্রেনে, বাসে , গৃহকোণে 
                     হায়নার থাবা আছে সবখানে ।
আসছি আমি দুর্গা রূপে 
                          সংহার করতে নরাসুরকে।
পুরুষ তুমি ভুলো না-
               ঈশ্বর থাকেন সেখানে
                              নারী সম্মানিত যেখানে।
.
.
.                   

    প্রান্তিক নারী //  শ্যামল কুমার রায়,

               আমি প্রান্তিক নারী,
লোকের বাড়ি কাজ করে, দিন গুজরান করি।
          ঘুম ভাঙে না সূর্যের যখন-
            শয্যা ছাড়ি আমি তখন।  
       গর্ভজাতরা তখন ঘুমের ঘোরে 
           আমার আঁচল টেনে ধরে।
            ছাড়িয়ে নিয়ে ওদের হাত 
               উনুন ধরাই তৎক্ষণাৎ।
               শাকান্ন সব রান্না করে-
             শেকল তুলি রান্না ঘরের।
          ‘ঝি স্পেশাল’ এ সওয়ার হয়ে-
       হাজির আমরা হাউড়া স্টেশনে 
জনবহুল ইস্টিশান্ তখন কেমন শুনশান।
কলকলিয়ে ঝিয়ের দল কল্লোলিনী কোলকাতা চল।
কলিং বেলে চাপ দিয়ে দিন শুরু করি চল।
স্বামী , শাশুড়ি, সংসার বৌদিমণির অধিকার
  দায় দায়িত্ব সবই কাজের বউয়ের উপর।
দাদাবাবুর আপিসের ভাত, সোনামনির স্কুলের চাপ-
              ঠেলা সামলাও তুমি এবার!
               যতই তুমি খেটে মরো
শুনবে শুধু – ‘ একটু সকাল করে তো আসতে পার!’
বাছাই করা বাসি রুটি, সরিয়ে রাখা এঁটো তরকারি 
     এ দিয়েই সকালের ব্রেকফাস্ট সারি।
          মিটিয়ে নিয়ে পেটের জ্বালা 
     মডিউলার এ ঢোকার পালা।
         ঢাঁই করে রাখা বাসনের সার
           একে একে পরিষ্কার কর।
স্যুপ, স্টু যখন রান্না করি , ছেলে মেয়েটার কথা মনে করি।
       লুকিয়ে নিয়ে চোখের জল
       আর এক বাড়ি কাজে চল।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *