মনে এলো প্রেমের চলন্তিকা

প্রেম নিম্নগামী  // সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

কী যে লিখি! মনে এলো প্রেমের চলন্তিকা। ছেলে বড় হবার সাথে সাথে পিতা- মাতার অধিকার থেকে
তোমাদের আকাশভরা সংসারের মাঝে  বানপ্রস্থে  যাওয়াই ভালো।চাণক্য সাহেব লিখেছেন- লালয়েত পঞ্চবর্ষাণি দশবর্ষাণি তাড়য়েৎ প্রাপ্তেতু ষোড়শ বর্ষানি পুত্র মিত্রবদাচরেৎ। এখন সেটা আরোও পরিবর্তন হয়েছে। ছেলে ১৬ বছর হলেই তাকে গেষ্ট ভাবতে হবে।— আসবে, খাবে, শোবে, মোবাইলে নোংরা ছবি দেখবে। তুমি বারণ করার কেউ নও। সে অতিরিক্ত সাবালক। তারপর বিয়ে হল– (তোমার মতে হতে পারে নাও হতে পারে)। তুমি নাক গলাতে পারবে না।
   কত গভীর , আত্মবোধ থাকা উচিত ছিল। হয়নি,– হবেও না।।বোধিবৃক্ষের নিচে বসে ছেলে অনেক আগেই বোধিত্ব লাভ করেছে। ছেলে পাশে একটা নারীকে পেয়ে আহ্লাদে আটখানা। কত কিছুই পেয়েছি ভেবে গল্প , নাচাগানা , বাইরে যাওয়া , অধিক রাতে বাড়ি ফেরা সবই চালায়। তোমার কোনো অধিকার নেই সেখানে নাকগলানোর। চিরহরিৎ প্যানেল।।
   বৌমার অবৈধ যৌন লীলা তার কাছে ছলনার। সে আনন্দে আত্মহারা। চুটিয়ে যৌবন উদযাপন। কালক্রমে তাদের সন্তান জন্মালে তুমি/ তোমরা বাচ্চার জন্য খাবার ইত্যাদির খোঁজ নিতে নিতে ছেলে বৌমার কথা কম হয়ে গেল। অর্থাৎ তোমার প্রেম নিম্নগামী হলো।
   ভালবাসা ,করুনা আর দয়ার পাত্রে স্নান সেরে জন্মদিনে নবীন হোলো।     প্রেম নিম্নগামী হলো ।

.

.

টুকিটাকি // ছোটবেলা – ১৫// বন্য মাধব

.
ছোটবেলায় দেখা দাগ কাটা মৃত্যুর ঘটনাগুলো আজও ভাবায়, আনমনা করে তোলে। যতদূর মনে পড়ে প্রথম যে মৃত্যুটা দেখি, সেটা রাসুর ভাইয়ের। জলে ডুবে। দুপুরের ঠিক আগে আগে হঠাৎ চিৎকার চেঁচামেচি। রাসুর সবে হাঁটতে শেখা ভাইটাকে পাওয়া যাচ্ছে না। খুঁজে খুঁজে যখন কোথাও কেউ পেল না, সবাই তখন বলতে লাগল নিশ্চয়ই জলে পড়ে গেছে। পাগলের মতো রাসুর মার অবস্থা। বড়রা খ্যাপলা জাল বার করল। সামনের পুকুরটাতে ফেলতে লাগল।
.
.
একদল জলে নেমে পালাও সরালো। বেশ ক’বার ফেলার পর রাসুর ভাইকে পাওয়া গেলো। পুকুর পাড়েই শুইয়ে পেট থেকে জল বের করার চেষ্টা চলতে লাগল। কিন্তু কিছুতেই জ্ঞান ফিরছে না। কান্নার রোল উঠল। রামপুর থেকে ডাক্তার আনা হল। সব চেষ্টা বিফলে গেলো। রাসুর ভাই আর চোখ খুললো না। ছোট্ট শরীরটা তখন ফুলে গেছে, সাদা হয়ে গেছে।
.
.
আমার পরের ভাইয়ের মৃত্যু আমার একেবারেই মনে পড়ে না। শুধু তেল মাখিয়ে তাকে পিঁড়িতে শুইয়ে রোদে রাখা হচ্ছে, এইটুকুই মনে পড়ে। তবে আমাদের শেষ দু’ ভায়ের বড় সুবলদার মৃত্যু খুব মনে পড়ে। সক্কালবেলা ঘুম থেকে উঠেই শুনি দাদা রাত থেকে জলের মত পায়খানা করছে। গিয়ে দেখি মশারির মধ্যে দাদা নিস্তেজ হয়ে শুয়ে, স্যালাইন চলছে। আমাদের ওখান থেকে সরিয়ে আনা হলো। সে দিন ছিল লক্ষ্মী পুজো। আগের দিন পুজোর বাজার সব সারা।
.
.
আমরা তিনজনে সারাক্ষণ গুলতানি করতাম, খেলতাম, কত কী প্ল্যান ভাঁজতাম। কালকেও পুজো নিয়ে কত কী হলো। আর আজ কিনা….। বড়রা বলাবলি করছে দাদার কলেরা হয়েছে। আর কলেরা তখন এত মারাত্মক ছিল যে, একবার হলে রোগীকে ফেরানো যেত না। ডাক্তার এসেছে। মা ডুকরে কাঁদছে। ঘন্টা দু’য়েকের মধ্যে সব শেষ।
(চলবে)
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *