হে নগর সভ্যতা // রণেশ রায়

William Wordworth এর   ‘Composed Upon West Minister Bridge’ কবিতা  অবলম্বনে লেখা আমার এই কবিতা। কবি লন্ডন শহরকে এক অবিশ্বাস্য সুন্দর নগর বলে চিহ্নিত করেন। তাঁর আমলে লন্ডনকে আধুনি সভ্যতার প্রতীক বলে মনে করা হত। আমি আজ বিপরীতটাই আধুনিক নগর সভ্যতা সম্পর্কে মনে করি। তাই এ ব্যাপারে যে ভাবনাটা আমার কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে তা কবির ভাবনার অনুরূপ নয় বরং বিপরীত বলা চলে। বিশেষ করে ভারত সহ এশিয়া আফ্রিকার নগর সভ্যতা সম্পর্কে। তাই ভাবনার দিক থেকে মিল পাওয়া যাবে না। তবে ওনার কবিতাটা পড়ে আমি এই কবিতাটা লেখায় উৎসাহ পাই। তাই  উনার লেখার অবলম্বনে বলে উল্লেখ করেছি ঋণ স্বীকারের দায়টা থাকে বলে। একে ঠিক অনুবাদ কবিতা বা ভাব অবলম্বনে কবিতা বলা চলে না।

 

213

হে নগর সভ্যতা! তুমি নিংড়ে নিয়েছ সব,

এ পৃথ্বীর যা কিছু সুন্দর, সৌন্দর্যরাশি,

ঝর্ণার কলকল পাখির কলরব;

বিবেককে দিয়ে বিসর্জন

তাকে করেছ সবহারা,

এ পৃথিবী হারিয়েছে যা ছিল তার,

নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার

কিছুই নেই তার আর।

নগর সভ্যতা সেজে এক কৃত্রিম সজ্জায়

সেই সদাহাস্যমান সূর্যালোক কোথায়?

কোথায় আলোকিত শান্তশুভ্র ভোরের সকাল!

শস্য ক্ষেতের বুক চিরে মাথা তুলে দাঁড়ায়,

আকাশপানে বোবা হয়ে  তাকায়,

জাহাজ ইমারত অট্টালিকা,

সব দেখি  মজে থাকে

চোখ ধাঁধানো জ্বলজ্বলে কৃত্রিমতায়।

দোলা হীন নীরব বাতাস,

উপত্যকা শিলাভূমি বা গিরি

জঙ্গল সমুদ্র আকাশ

হারিয়েছে বর্ণ গন্ধ রূপ,

দেখিনি আগে সূর্যের এমন তির্যক দহন,

অনুভবে ছিল না

এমন ভয়ঙ্কর স্তব্ধ নীরবতা,

প্রকৃতির স্তব্ধতা, দহন যন্ত্রনা

নদনদী হারিয়েছে গতি তার

তাও সে বয়ে চলে  নির্বিকার।

হে সর্বজ্ঞ সভ্যতা!

দেখ, এক কবর শয্যায়

এ নগরী যেন চির নিদ্রায়

নগরী জুড়ে সর্বত্র নীরবতা হাহাকার।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *