সোনালী সিংহ টামারিন

সুদীপ ঘোষাল

কিশোর গল্প পত্রিকার সহকারী সম্পাদক জয়ন্ত ভট্টাচার্য ও সহকারী সম্পা সচিব হৈমন্তী দি এবার অন্য এক সু দূরের আহ্বানে প্রকৃতির সৌন্দর্য্য দেখতে এক দূরের গ্রামে যাবেন । সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে । এখন শুধু ট্রেনে চাপতে পারলেই হবে ।

নির্দিষ্ট দিন এসে গেলো । এবার পরিচিত কেউ নেই । শুধু হারিয়ে যাওয়া । জয়ন্ত দা খুব রসিক মানুষ । দিনের আলোতে তিনি টর্চ হাতে ট্রেনে বসে আছেন। হঠাৎ একটি লোক জিজ্ঞাসা করলো, কি দাদা, দিনের বেলা হাতে টর্চ কেন? দাদা উত্তর দিলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ তো অন্ধকার তাই এখন থেকেই টর্চ ব্যবহারের অভ্যাস করে রাখছি ।যদি একটু আলোর খোঁজ পাই ।

শিবলুন স্টেশনে নেমে একটা জঙ্গল । তারপরে শিবলুন গ্রাম । একটা বাড়ি ভাড়া করে কয়েকটা দিন খোলা পরিবেশে থাকা । আর কিছু না । শুধু একটু সবুজের পরশ ।

বেশ দিন কাটছিলো আনন্দে । কিন্তু গ্রামে গঞ্জে মানুষ গুলোকে সহজ সরল পেয়ে একদল মানুষ শুধু ঠকিয়ে যায় ।

আর তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো দাদার লক্ষ্য ।

কিছু দিন একসাথে থাকার ফলে গ্রামের অনেকের সাথে পরিচয় হয়েছে দিদি ও দাদার সঙ্গে । বিকালবেলা  ছেলে মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরে আসেন জঙ্গল থেকে। গ্রামের ছেলে মেয়েরা দাদা ও দিদিকে খুব ভালোবাসে । কয়েকদিনের মধ্যেই এক আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তাদের সঙ্গে ।

একদিন ছোটোরা দল বেঁধে ছুটতে ছুটতে এসে দাদা ও দিদিকে বললো, একটা প্রাণী দেখলাম আমরা সবাই । অনেকটা হনুমানের মত দেখতে কিন্তু লেজ নেই । দেহ একটা বিড়ালের মত । লোম গুলি খুব বড়ো বড়ো । চোখ গুলো লাল ।

দিদি বললেন, আমাদের দেখাতে পারবি । চল তোদের সঙ্গে যাই ।

বিকালবেলা জঙ্গলে লোকে লোকারণ্য । এই অদ্ভূত প্রাণী দেখতে সবাই ভিড় করেছে । একটা পাড়ায় সাঁওতালদের  বাস । তারা জাল ফেলে প্রাণী টি ধরে ফেলেছে ।

জয়ন্ত দা বললেন, তোমরা একে নিয়ে যাবে না । আমরা বন দপ্তরে পাঠিয়ে দেবো ।

একজন বললো, বাবু আমরা ইঁদুর, হনুমান শিকার করি খাবার জন্য।

হৈমন্তী দি বললেন, কেন তোমরা নিরীহ প্রাণী দের মারো । ইঁদুর না হয় বাদ দিলাম কিন্তু বিভিন্ন ধরণের পাখি তাদেরও তোমরা মারো কেন ।

জয়ন্ত দা বললেন, শুধু ঘাস খেয়েই তো হাতির এতবড় শরীর । তবু মানুষ কেন নিরীহ পশু দের হত্যা করে ।

এরা হয়তো আর পশু হত্যা করবে না , কিন্তু সমগ্র পৃথিবীর এই সমস্যা কবে বন্ধ হবে, বললেন হৈমন্তী দি ।

ছেলেমেয়ে যারা ছিলো তারা বললো, এই প্রাণী টি র নাম কি?  কোথায় থাকে ।

জয়ন্ত দা বললেন,  হনুমানের অনেক রকম প্রজাতি আছে । যেমন রোগা লরিস , লাল হাওলা  হনুমান, মারমোসেট, লোম যুক্ত মাকড়সা হনুমান ।আর এটি হচ্ছে, সোনালী সিংহ টামারিন ।

সোনালী সিংহ টামারিনের বৈজ্ঞানিক নাম লিয়নটোপথিকাস রোমালিয়া ।বললেন হৈমন্তী দি ।আরও বললেন, এদের দৈর্ঘ্য বেশি নয় । এরা বেশির ভাগ দক্ষিণ পূর্ব ব্রাজিলে বাস করে আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে দুই একটা এদেশ ওদেশেও থাকে।

এদের সারা দেহ দেখো সোনালী লোমে ঢাকা থাকে।  লম্বা সিল্কের মতো কেশর এদের সারা মুখ কে ঢেকে রেখেছে। তাই এদের নামের সঙ্গে সিংহ কথাটা যোগ করা হয়েছে ।

মেয়েরা বললো, এর কি হবে তাহলে ।

জয়ন্ত দা বললেন, তোমরা মন খারাপ করবে না । একে আমরা বন দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি ।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: