রবি মিশেল  //    অভ্র  ঘোষাল

121

“সখী ভালোবাসা কারে কয়.. ” তাহা বুঝিয়াছি যেই দিন দেখিয়াছিলাম তব “কালো হরিণ চোখ” । “আমার পানে দেখলে কিনা চেয়ে” তাহা বলিতে পারি না ; কিন্তু এইটুকু বলিতে পারি :ওই দুই আঁখির “আমি সুদূরের পিয়াসি”। “দিন চলে যায়, আমি আনমনে” কাহার সন্ধান করি অন্তরে বাহিরে, তাহা বুঝিতে পারি না !

তবে বুঝিতে পারি সে “মায়াবন বিহারিণী হরিণী, গহন স্বপন সঞ্চারিণী” । তবে একটি আর্জি ছিলো : “বাহির হইতে দেখো না এমন করে, আমায় দেখো না বাহিরে “। ওগো বান্ধবী মোর, “প্রেম-নদীতে উঠেছে ঢেউ–উতাল হাওয়া “। চির-প্রণয়ের বাণীর একত্র আন্দোলনে “আজি হতে শতবর্ষ পরে”ও যদি কোনওদিন দৈবের বশে দেখা হয় তোমার আমার ; তবে সেই দিনও বলিবো, “ভুলি নাই, ভুলি নাই, ভুলি নাই প্রিয়া “!

 ২

আমার প্রাণের মাঝে সুধা আছে, চাও কি ? “নাকি সুখ-দু:খের পালাগুলো নিজের সত্ত্বাটুকু দিয়েই লুটেপুটে নিতে চাও !  ঘুমের দেশে “যে ছিলো আমার স্বপ্নচারিণী “, সে তো তুমিই আমার প্রিয়া। “আমি দেখেছি শারদপ্রাতে তোমায় ” ঘোমটা মাথায় রৌদ্রের আলো-ছায়ায় । তুমি “কৃষ্ণকলি” নও, তুমি “বিদেশিনী”-ও নও ; তুমি আমার ” গহন স্বপন সঞ্চারিণী “।

“আমি শুধু বাসরীর সুরেতে”-ই না হয় তোমার সমস্ত লালিত‌্যটুকু ছন্দবন্ধনে বাঁধলাম আমার “নিভৃতে যতনে “। “বাঁধনবিহীন সেই যে বাঁধন ” তোমায় আমায় করেছে একাত্ম ; এসো তার সমস্ত সুধারসটুকুর রসাস্বাদন করি হৃদয় দিয়ে । তবে “অনেক কথাই বলেছিলেম কবে তোমার কানে কানে ” । একটি কথাই বলে উঠতে পারিনি কোনও দিন ।

সুযোগটুকু পেলে হয়তো “চরণে ধরিয়া তব কহিব প্রকাশি গোপনে তোমারে,  সখা, কতো ভালোবাসি । আমাকে একটু ভালোবেসো ওগো অতলস্পর্শী প্রেয়সী। ” আমি যে “তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা ।”

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: