যে লেখা মনে দাগ কেটে যাবে

 ‍শ্রুতিসাহিত্য =লেখার জগতে কি ভাবে এলেন – প্রথম লেখাটির বিষয়ে কিছু বলুন ।.

রক্তিম ভট্টাচার্য্য = লেখার জগৎ বলে কিছু ভাবি না। ছুট থেকে অল্প অল্প ছড়া লিখতে ভালোলাগা, আর সেই থেকেই এখনও অবসর সময়ে কবিতা, গল্প লিখি। তার মধ্যে কিছু কিছু প্রকাশের আলো দেখলে ভালোই লাগে।.

 ‍শ্রুতিসাহিত্য = লেখা কি শিখে লেখা যায়  না কোনো অনুভবের প্রয়োজন  আছে ? 

রক্তিম ভট্টাচার্য্য = শিখে লেখা বলে কিছু হয় না। প্রশ্ন হচ্ছে, কী শিখবে? কায়দা-কানুন? রসবোধ? আঙ্গিক? সেসব লিখতে লিখতে আসে। তাই শিখে লেখা নয়, লিখে শেখা প্রয়োজন। আর অনুভবের ক্ষেত্রেও খানিকটা তাই। কবিতা প্রসঙ্গে ওয়ার্ডসওয়ার্থ বলেছিলেন, “spontaneous overflow of powerful feelings”; তাই ভাবনা হঠাৎ করেই আসে। এবার সেটাকে পরিবেশন করাই লেখকের কাজ।.

 ‍শ্রুতিসাহিত্য =বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ কি ভাবে আরো উজ্জ্বল করা যায় ?
রক্তিম ভট্টাচার্য্য = এ প্রসঙ্গে লিটিল ম্যাগাজিনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। লিটিল ম্যাগাজিনে নানান জায়গা থেকে উৎসাহী লেখকরা লিখতে পারে। সম্প্রতি ফেসবুকের মাধ্যমেও বেশ কিছু ভালো লেখা উঠে আসছে। এবার প্রয়োজন তার সঠিক পরিমার্জন ও প্রচার। বাংলা সাহিত্যে ভালো উপাদানের অভাব কোনোদিনই হয়নি, হবেও না। লেখা প্রচুর হচ্ছে, তবে তা যথার্থভাবে পরিমার্জিত ও প্রচারিত হওয়া দরকার।.

 ‍শ্রুতিসাহিত্য = ইদানিং কোন কোন পত্রিকায় লিখছেন  ?
রক্তিম ভট্টাচার্য্য = আমি চন্দননগর থেকে প্রকাশিত ‘মকটেল’ পত্রিকার সম্পাদনার কাজে যুক্ত। এছাড়া ‘রঙ্গবিন্দু’ ই-ম্যাগ, কোলাঘাট থেকে প্রকাশিত ‘শব্দমালা’ প্রভৃতি বেশ কিছু চলতি সাহিত্য পত্রিকায় লিখেছি।.

 ‍শ্রুতিসাহিত্য = ফেসবুক  কি  বাংলা সাহিত্যকে নতুন কোনো আশার আলো দেখাচ্ছে ?

রক্তিম ভট্টাচার্য্য = অবশ্যই দেখাচ্ছে। মুখচোরা নবীন সাহিত্যিকরা চটজলদি প্রচারের আলোয় আসতে পারছে। তবে এটা খানিকটা টি-টোয়েন্টি খেলার মতো। জাতীয় দলে যেতে গেলে ঐ পরিমার্জন ব্যাপারটা বিশেষ প্রয়োজন। লেখা প্রচুর দেখা যাচ্ছে, কিন্তু তার সঠিক সমালোচনা সোশ্যাল মিডিয়াতে হয় বলে আমার মনে হয় না।.

 ‍শ্রুতিসাহিত্য = ভালো লেখা  লিখতে গেলে কি  ধরণের বই পড়তে হবে  ?  আমরা কবিতার কথা বলছি , 

রক্তিম ভট্টাচার্য্য = ভিন্ন স্বাদের কবিতা পড়তে হবে। নিজস্ব ভাবনাকে বেশি করে ত্বরান্বিত করার জন্য ভিন্ন সময়ের কবিদের কবিতা পড়তে হবে। নিজের মধ্যে একজন সমালোচক গড়ে তুলে সেই সমস্ত কবিতা বিবেচনা করতে হবে। কবির নাম দেখে কবিতা জাস্টিফাই করাটা কিন্তু একেবারেই যুক্তিযুক্ত নয়।.

 ‍শ্রুতিসাহিত্য = লেখকের  কোন    গুণ  থাকাটা  সবচেয়ে বেশী জরুরী ?
রক্তিম ভট্টাচার্য্য = পর্যবেক্ষণ সবথেকে বেশি জরুরি। তবেই বাকিগুলো আপনিই আসবে।.

 ‍শ্রুতিসাহিত্য =বর্তমানে আপনি কি ধরনের লেখা বেশী  লিখছেন ?

রক্তিম ভট্টাচার্য্য = নির্দিষ্ট কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে লিখি না। যখন যেরকম ভাবনা মাথায় আসে, সেগুলোরই ভাষ্যরূপ দেবার চেষ্টা করি। হতে পারে কখনও নিখাদ প্রেমের, কখনও সমাজচেতনার, কখনও প্রতিবাদ, কখনও বিরহ, আবার কখনও নিছকই মজার।.

 ‍শ্রুতিসাহিত্য = আপনার কাছে ভালো লেখার সংজ্ঞা কি ?
রক্তিম ভট্টাচার্য্য = যে লেখা মনে দাগ কেটে যাবে, বার বার পড়লেও প্রতিবারই নতুন পড়ার অনুভূতি হবে আর প্রত্যেকবারই নতুন কোনো অর্থ উপলব্ধ হবে; তবেই সে লেখাকে প্রকৃত ভালো লেখা বলা যাবে।.

 ‍শ্রুতিসাহিত্য =  আপনার ভাবনায় পাঠকরা কি খুব উপকৃত হচ্ছেন  ফেসবুকে  প্রকাশিত লেখা  পড়ে ?
রক্তিম ভট্টাচার্য্য = হচ্ছে, তবে খুব বলা যাবে না। লেখা পড়ার পর একটা লাইক বা একটা ওয়াও বা লাভ রিয়্যাক্টেই কাজ শেষ। বোঝা, উপলব্ধি করা, জানতে চাওয়া বা সমালোচনা করা অথবা লেখাটা নিয়ে আলোচনা – এগুলো হয় না বলেই আমার ধারণা। তবে, প্রচারের একটা ভালো মাধ্যম হিসেবে কাজ হচ্ছে।

.

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: