মুখ নাড়ার আগে তোমার বুদ্ধিটা নাড়াও

যাকারিয়া আহমদ

সাত সকাল। কাক দেখলো একটি শিশু গাছের নিচে বসে বসে প্রস্তুতি নিচ্ছে খাবার খেতে। পেটে খুব ক্ষুধা। পুটলি থেকে দু’টুকরো রুটি বের করলো। এই গাছে একটি পাতিকাক। কাকটি খুব দুরন্ত। তার চোখ পড়লো শিশুর রুটি দু’টিতে। কীভাবে শিশুটিকে অন্যমনস্ক করে রুটিগুলো ছিনিয়ে নেবে ভাবতে লাগলো কাক।

কাক মনে মনে বললো আমি চিৎকার জুড়ে দিলে শিশুটি গাছের মগডালের দিকে চাইবে। তখন যা করার তা করবো। যেই ভাবা সেই কাজ। কা কা করতে শুরু করলে শিশুটি মাথা উচিয়ে মগডালের দিকে চেয়ে দেখছে, এমন সময় কাক ছোঁ মেরে রুটি গুলো নিয়ে গেল।

অন্যদিকে বিষয়টি খেতের আলে বসে খেয়াল করে দেখছে শেয়াল মামা। তিনি ভাবলেন মুখ থেকে রুটি গুলো আমাকে নিতে হবে তিনি মনে মনে বুদ্ধি আঁটলেন কী করলে কাকের মুখ থেকে রুটি নেওয়া যায়? হঠাৎ করে মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। কাকটিকে উদ্দেশ্য করে বললো__ “বুলবুলি তুমি গান শোনাতে কৃপণতা দেখিও না, অনেকদিন হয়ে গেছে তোমার গান শুনিনি!”

কাক শেয়ালের কথাগুলো শুনে মুগ্ধ হয়ে গেল। শেয়াল আবারও বলল, “জলদি করো, তোমার মধুর কন্ঠে আমাকে গান শুনিয়ে দাও। লোকেরা এসে পড়বে তুমি তাড়াতাড়ি কর।”

শেয়ালের কোথায় মজে গিয়ে গান গাইতে লাগলো কাক। অমনি করে রুটির টুকরো গুলো মুখ ফসকে মাটিতে পড়ে গেল এবং শেয়াল তা ধরে ফেলল।

শেয়াল কাকটাকে বলল “হে গায়ক পাখি তোমাকে একটা কথা বলে রাখি, মুখ খোলার আগে বুদ্ধিটা একটু খুলে নাও।” শোনো আবারও বলছি “মুখ নাড়ার আগে তোমার বুদ্ধিটা নাড়াও।”

১২ ডিসেম্বর ১৮ ঈ।  

লেখক: কবি প্রাবন্ধিক।

হাটগ্রাম, গোয়াইনঘাট, সিলেট।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: