মিষ্টি রহস্য

সুদীপ ঘোষাল

রবি ও ছবি রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলো গল্প করতে করতে।বৈকালিক ভ্রমণে শরীর ভালো থাকে। তাই ওরা এই সময় রোজ হাঁটে। রবি ক্যারাটে ও কুস্তিতে এক্সপার্ট।ছবি সাঁতার জানে ভালো।ব্যবহার করলে বন্ধু পোকামাকড় মরে যায় । এতে প্রোডাকশন কমে যায়, বললো অই গ্রামের ছেলে রামু ।

রামু দাদা ও দিদিকে গ্রাম ঘুরিয়ে দেখালো । গ্রামটি  দাদা ও দিদির খুবই ভালো লেগেছে । এখানকার গ্রামবাসী খুবই সুন্দর সহজ সরল । যাইহোক এই গ্রামে তারা কয়েকটা দিন কাটাবেন  এই কথা জানার পরে গ্রামবাসী খুব খুশি ।

এই গ্রামে কাঁদরের ধারে একটা ঘর আছে । সেখানে বাইরে থেকে আসা একটা লোক গ্রামের ছেলেদের নিয়ে বেশ আনন্দ করে দিন কাটায় । গ্রামে ঘুরে ওনারা ব্যাপারটা জানতে পারলেন ।অই ঘরে ছেলেরা একবার ঢুকলে বাড়ি আসার নাম করে না । অনেক ছেলে ওখানে গিয়ে দল করে নেশা করে । ফলে বাইরে চাকরী পেলেও এরা যেতে চায় না । এইটাই  এই গ্রামের প্রধান সমস্যা ।

একদিন জয়ন্ত দা অই ঘরে গেলেন ,দেখলেন দুটি অপরিচিত লোক দুটি ব্যাগ রাখলো অই ঘরে । তারপর দেখলেন, সবাইকে অই ঘরের লোকটি মিষ্টি খেতে দিলো । জয়ন্ত দা শুনলেন, এটা প্রত্যেক দিনের ব্যাপার । জয়ন্ত দা মিষ্টি নিয়ে ওদের অজান্তে পকেটে ভরে নিলেন । তারপর সকলের খাওয়া হয়ে গেলে দেখলেন যারা মিষ্টি খেলো তারা সবাই একশো ,দুশো করে টাকা দিলো ।জয়ন্ত দা র কাছে নিলো না ,নতুন লোক বলে ।

জয়ন্ত দা ভাবছেন, একটা মিষ্টি র দাম একশো দুশো হতেই পারে না । ডাল মে কুছ কালা হ্যায় । হৈমন্তী দি মিষ্টি টা কাগজে মুড়ে ক্লিনিকাল টেস্ট এর জন্য কাটোয়া পাঠিয়ে দিলেন ।

একদিন পরেই রিপোর্ট পাওয়া গেলো । ওনারা যা সন্দেহ করেছিলেন তাই । মিষ্টি র সঙ্গে মেশানো আছে হেরোইন । মারাত্মক মাদক দ্রব্য । তার ফলে কম বয়সের ছেলেরা ওখানে গিয়ে আর ফিরতে চায় না ।

পুলিশ ছাড়া কোনো উপায় নেই ।কারণ এদের হাত অনেক লম্বা । গোপনে অনেক শক্তি শালী, বিত্তশালী লোক এদের সাথে জড়িত থাকে ।

জয়ন্ত দা ও হৈমন্তী দি দুজনেই কেতুগ্রাম থানায় গিয়ে রিপোর্ট দেখা লেন । তারপর সমস্ত কথা বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করলেন ।

পুলিশ গুরুত্ব বুঝে হানা দিলো অই ঘরে রাতে । দুজন ধরা পড়লো । কান টানলেই মাথা আসে । কিছু দিনের মধ্যেই গোটা দল টাই ধরা পড়লো পুলিশের হাতে ।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *