মাটিই পারে কার্য কারণ লুকিয়ে ফেলতে

হিজল গন্ধ  –  লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল

বলরামের জন্য  হাহাকারটা বেশি দিন থাকেনি। ঘাড় সোজা করে
যে যার পথ আনতে স্কুল বাড়ির ধারের জমিটায় পুঁতে দিয়েছে কদম
গাছ, একই সঙ্গে কেলেঘাইয়ের বুক থেকে গঙ্গামেলার মাটি এনে
জীবন লিপিময় করে এগিয়ে গেছে আগুনের কাছাকাছি – যার ফলে
অস্বচ্ছ কারণগুলো নিজেদের শিরদাঁড়া থেকে নেমে গেছে মাটির ফাটলে-
মাটিই পারে কার্য কারণ লুকিয়ে ফেলতে, তাই একটা কবিতার জন্য
প্রকৃতির দুঃসাহস বুকে নিতে হয়, শিরদাঁড়াকে দুরন্ত অর্জুন গাছের তলায়
দাঁড়িয়ে মাপতে হয় ঝড়বৃষ্টি – বুকের গোপন ঢেউয়ে অক্ষত হাওয়া ঘর-
জমা থাক হিজল গন্ধ-
এখানে বৃষ্টির পূর্বাভাষ,  গাছ ও শশ্মান সমেত জীবনের তিন ভাগ —
 
 

থাক না, খানিকটা সময় নিজের সাথে  

শ্যামল কুমার রায়,

প্রভু , তোমার কি অপূর্ব সৃষ্টি !
তোমার সৃষ্ট প্রতিটি জীবই অন্যন্য ।
রূপে, গুণে, চিন্তায়, চেতনায় প্রত্যেকেই স্বকীয় ।
এত বিভেদের মাঝেও তো মিলেমিশে থাকে ?
থাক না, খানিকটা সময় নিজের সাথে,
সারাদিনে অন্ত্যত একবার কথা বলুক নিজের সাথে,
না হলে যে কথা হবে না আর, দুনিয়ার সেরা মানুষটার সাথে !
বিবেকেরও মুখোমুখি হয় সবাই,
সারাদিনে ঐ একবারই ।
নিজের ভুল নিজেই শোধরাতে তো পারো !
সবই যদি পেয়ে গেলে অতি সহজে ,
জীবন সংগ্রামের মানে তাহলে কি আর বুঝলে ?
সবই যদি ভালো হয় , অখন্ড সুখ হয় , রাঙা হাসি ,
রাশি রাশি ভরে ওঠে জীবনে ,
নষ্ট এ জীবনের রইল না কোনো মানে ।
শুধু কি সুখ আসে মস্ত এ জীবনে ?
সুখ , দুঃখ, হাসি, কান্না, খ্যাতি, অখ্যাতি –
চক্রাকারে ঘোরে দীর্ঘ এ জীবনে ।
খ্যাতি, সুখ আর হাসি – মনে হয় না খুব বেশি ।
ঝড় ওঠে যে দুঃসময়ে, নিন্দে মন্দ আসে ঘনিয়ে,
পাশে থাকে না যে কেউ সেই সময়ে !
শক্ত হাতে ধরতে হয় যে হাল –
সামলে নিতে পরিস্থিতি বেহাল,
একার লড়াই, একাই লড়ি,
সুসময়ের বন্ধুদের খুঁজে মরি !
ভাঙাচোরা যা কিছু সঙ্গে আছে –
লড়াই করি দাঁতে দাঁত কষে ,
একা হাতেই সামলাই তো সব !
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *