মনে হয় হাজার বছর ঐ চোখে ডুবে থাকি 

মাধব মন্ডল   

তোমার চোখ     

মনে হয় হাজার বছর ঐ চোখে ডুবে থাকি
আর পাশ দিয়ে বয়ে যাক বিদ্যাধরী
গঙ্গাও যেতে পারে
আদি বা বর্তমান
আর অদ্ভূত সুখে গান খুঁটে খাই
ও মন পাখি
তোর চোখে লক্ষ লক্ষ হীরে!!!!
যেখানে থাকি না কেন
হতে পারে ত্রিবেণীঘাটে
ঐ সবুজ পাহাড়টার কাছে
তোমার ও চোখ সেখানেও
অমৃত গানের কথা
বারবার সুর ঝড় তোলে
হায়, একেই কি বলে দৃষ্টিবন্ধন!!!
সেই তুমি রাগে দুঃখে চোখ ঢাকো
বাস্তব স্মৃতি মুছে ভাব, এবার?
জানি, ও চোখ এবার খোঁজে কাকে
শুধু এধারে পড়ে থাকে স্মৃতি চোখ
গান বলে,সুর ছোঁড়ে
আর আমি?
কোথাও লুকোবার জায়গা নেই
এমনকি লক্ষ্মণ বা রাম ঝোলার ঝোড়ো বাতাসেও  !!!
.

বাড়ি
                মালিপাখি

রূপসা নদীর সাঁকো !
বললে ও ভাই  আজ সারাদিন  আমায় তুমি আঁকো  !

যেই এঁকেছি নদীর দু কুল,যেই এঁকেছি পাখি,
অমনি দেখি হাজার নাচের রাখী — !

ভালোবাসার ফুল হয়ে সব বললে কাছে এসে  !
আজ চলো যাই নতুন গানের দেশে   — !

দেশ মানে কি আকাশ, নাকি যা  খুশি হয় ডাকো ?
আলো আশার হাত দুটিকে বুকের ওপর রাখো  !

হাতছানি দেয় রূপকথা আর তাল তমালের সারি !
সেইতো আমার ধান পতাকা বাড়ি  —  !

.

নিঃসঙ্গতা   

শ্যামল কুমার রায়

নিন্দে মন্দ করতে পারে তো সবাই,
তাকে ঠিক করে নিতে পারে ক’জন?
ভাঙতে পারে তো সবাই, তাকে গড়েপিঠে নিতে পারে ক’জন ?
সারদা মায়ের এই বাণী আজও খুবই প্রাসঙ্গিক ।
যুথবদ্ধ মানুষ আজ নিঃসঙ্গ বড় !
ফ্ল্যাট মানব আজ খবর রাখে না কারো।
দিনভর ঐ কর্মকান্ডের শেষে ,
বিবেকের সামনে মানুষ আসে ।
আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন আজও যথেষ্ট আছে ,
মনের কথা বলবে খুলে মনের মানুষকে –
মনের মানুষ তখনও যে অধরাই থাকে ।
অর্থের অন্বেষণ দিন যে কাবার হয়,
মনের কোনে নিঃসঙ্গতা কুঁড়ে কুঁড়ে খায়।
গভীর অসুখে আজ মানুষ যে আক্রান্ত ,
নিঃসঙ্গতাই যে সে ব্যাধি, তা কে জানতো ।
.

এই গোধূলি লগনে

রণেশ রায়

আজ এই গোধূলি লগনে

আড্ডার  মজলিসে বসে

বন্ধু বান্ধবী সযতনে

হুঁকোর মুখে দম দিয়ে কষে

গপ্প তামাশা, নেই কোন মানা

বাধা থাকে না কোন মাত্রা

কি করি কি বলি  নেই তা জানা

থাকে না সাবধান বার্তা

দিন শেষে মিলি এসে

হিসেব কষি না কোন

অজান পথে আমাদের যাত্রা

সে পথে পথ চলাই যে বড় সুখ

ছক ধরে চলার থাকে না দায়

মুখোশের আড়ালে লুকাই না মুখ

বেসুরো সবে মেলে এসে একতারায়

একতারার বাহু বন্ধনে বহুত্বের সেতার

ভোরের সকাল বেজে ওঠে মূর্ছনায়।

.

লম্বু মামা   

                      আশীষ  ধর 

দত্ত বাড়ীর ছোট ছেলে

থাকেন আসানসোল,

শান্ত স্বভাব মানুষটার

মাথায় গন্ডগোল।

হাঁটেন তিনি দুলকি চালে

বকের মতো দুপা ফেলেন,

দীর্ঘ দেহে হেলে দুলে,

মিষ্টি হেসে কথা বলেন;

হঠাৎ তিনি মাঝে মাঝে

ক্ষেপে ওঠেন ‘জয় মা’ বলে,

দাঁত খিঁচিয়ে মুখ বাঁকিয়ে

কামড়ে দেন সবার গালে।

পালায় সবাই আসে পাশে

বড়দা ছোড়দা ছুটে আসে

জোর করে শুইয়ে তাঁরে

ঠাণ্ডা করে অবশেষে।

আসল কারণ বলছি তোমায়,

কেউ এখনও জানে না

মধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে,

রক্ত মাথায় পৌঁছয় না।

বিশ্বাস হয় না? যাওতো দেখি

আসানসোলের বাড়ীতে

নিজের চোখেই দেখবে তুমি

আসবেন যখন কামড়াতে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *