জন্ম মৃত্যুর রহস্য পথে

sshruti

ভাবানুবাদ // The Cloud BY PERCY BYSSHE SHELLEY // মেঘ // রণেশ রায়

মেঘবন্ধু সুজন আমি,

গ্রীষ্মের দুপুরে দহন জ্বালায়

আমি বৃষ্টি হয়ে নামি

তৃষ্ণার্ত ফুলের তেষ্টা মেটাতে

সমুদ্র সিঞ্চন করে  আনি,

সমুদ্রস্নাত আমি, আমি মেঘরাশি,

স্রোতধারা থেকে জটা ভরে

আকাশ পথে বাষ্প হয়ে ফিরে আসি,

বর্ষার সন্ধ্যায়

অষ্টাদশীর বিরহের সে বেলায়,

অশ্রু হয়ে নামি,

সূর্যের দহনে দুপুরের পত্ররাশি,

মেটাতে দহন জ্বালা তাদের

বিছিয়ে দিই শীতল ছায়া,

সে ছায়ায় নিশ্চিন্তে ঘুমায় তারা।

আমার ডানা বয়ে নেমে আসে,

ঝরে পড়ে ভোরের শিশির,

প্রতিটি কলি ফুটে ওঠে কুসুম হয়ে,

শরতের শুভ্র সকালে প্রকৃতি সেজে ওঠে,

কিশলয় বন্ধু আমার।

 

হেমন্তের শেষে শীতের আগমন

কুড়িরা মায়ের কোলে ঘুমায়,

শীতের হীম প্রবাহে

সবুজ শস্যক্ষেত হয়ে ওঠে ফেকাসে বিবর্ণ।

আমি শিলাবৃষ্টি হয়ে তীব্র আঘাত হানি,

বসন্তের চুম্বনে  উষ্ম ওয়ে উঠি,

বিশ্ব প্রকৃতি জেগে ওঠে আমার সোহাগে,

জল সিঞ্চন আমার বর্ষণে

নেচে ওঠে বৃক্ষরাশি সবুজে সবুজে

আমি হেসে উঠি তুফানে তুফানে।

 

শীতের রাতে জমাট বেঁধে

আমি বরফ হয়ে যাই,

ঘুমিয়ে পড়ি নিশ্চিন্তে পাহাড়ের চূড়ায়।

বসন্তের উষ্ম স্পর্শে ঝর্ণা হয়ে

নামতে থাকি কলকল রবে,

ভীত সন্ত্রস্ত পাইন বিলাপ করে ওঠে,

তাদের মাথায় মাথা রেখে সারারাত

আমি ঘুমাই বজ্রের বাহুবন্ধনে,

আকাশ চুম্বী নিকুঞ্জের গম্বুজ শিখরে

বিদ্যুৎ আলো হয়ে জ্বলে

উঠে বসে চালকের আসনে।

বহু নিচে মাটি গহ্বরে

তুফান শৃঙ্খলে বাধা থাকে,

শৃঙ্খল মুক্তির জন্য ডানা ঝাপটায়,

সমুদ্র পৃথিবী ছাড়িয়ে আকাশ পথে

মৃদু মন্দ বাতাস আমায় বয়ে নিয়ে যায়।

সহসা ঘনঘটা! বিদ্যুৎ চমকায়

কোন সে অশরীরী শক্তি

তাকে শক্তি যোগায়

তুফান ওঠে আকাশে বাতাসে।

নীল সমুদ্রের গর্ভে অশরীরী সে ঘুরে ফেরে

সে ঘুরে ফেরে পাহাড়ের আঁকে বাঁকে জঙ্গলের বিহনে

তার দেখা পাবে সমতলে হ্রদের স্রোতে,

তার প্রেমে সদা মগ্ন তুমি।

যখন বৃষ্টি  হয়ে ঝরে পড়ি

মুহূর্ত মাঝে নীল আকাশের হাসি

পুলকিত হই আমি সে দর্শনে।

বিস্ফারিত চোখে সূর্যের উদয় আকাশে

তার জ্বলন্ত আঁখি অগ্নি বর্ষণ করে চলে

ভাসমান আমি, আমার পিঠে চড়ে বসে;

ভোরের তারারা যখন আকাশের বুকে ঘুমায়

ছিন্ন ভিন্ন পাহাড় দুলে ওঠে ভূমি কম্পনে,

একটি ঈগল জ্বলে ওঠে যেন মুহূর্তে

বসে এসে তার সোনালী ডানা মেলে।

সমুদ্রের সোহাগে চুম্বনে গোধূলি বেলায়

অস্তমিত সূর্য বিশ্রাম লভে,

স্বর্গ থেকে নেমে আসে রক্তরাঙা তোতা পাখি

ঘুঘু পাখি বসে যেমন ডিমে তা দেবে বলে

আমিও ডানা গুটিয়ে এসে  বসি আমার নিলয়ে।

 

প্রদক্ষিণরত কুমারী শশী

সংগ নেয় সূর্যের সকাল থেকে সন্ধ্যে

উদয়ের সকালে সে সূর্যকে জড়ায়

মেলে এসে মেঘে, আকাশ পথে ঘুরে ফেরে

রাতের অবসানে নক্ষত্রের বিদায়।

ভূকম্পনে কেঁপে ওঠে মাটি আকাশ বাতাস

চিল এসে বসে পাহাড়ের শিখরে

সূর্য  উঁকি মারে মেঘের কোলে ক্ষণ তরে

গুধূলির সন্ধ্যায় চাঁদকে দেয় বিদায়,

সূর্য ঘরে ফিরে যায়

সে থাকে অপেক্ষায়

আবার সূর্য উঠবে ভোর বেলায়।

 

আকাশে অতন্দ্র প্রহরী মেঘ

পৃথ্বীকে পাহারায় রাখি পাহাড়ায় সাগর

সূর্য চন্দ্র বন্দী মেঘের আড়ালে

তারা আলো ছড়ায় মেঘের ফাঁক দিয়ে

অগ্নি বর্ষণ হয় না এ ধরাতলে

শীতল হয় পৃথ্বী মেঘের আশীর্বাদে

আড়ালে থাকে চাঁদ মেঘের ওপারে

টুকরো টুকরো মেঘ ভাসে বাতাসে

সূর্যের রঙে সে রামধনু সাজে

রেঙে ওঠে সাত রঙে

মেঘের গুণ্ঠনের অন্তরালে

তারা মিটি মিটি জ্বলে আকাশে।

 

আমি দুহিতা মাটির

দুহিতা আমি জলের

আমি   ভগিনী আকাশের

বয়ে চলি সমুদ্র ধরে

আমি হেঁটে চলি উপত্যক্কা ধরে

আমি সাজি পরিবর্তনের সাজে

আমি মরি না কভু বাঁচি চিরন্তন

জন্ম মৃত্যুর রহস্য পথে

আমার যাত্রা অবিরাম,

এ বিশ্বের জলধারা থেকে

সূর্যের তাপে বাষ্প হয়ে উঠি

বাতাসরথে ভেসে চলি আকাশ পথে

মেঘ হয়ে জন্ম লোভী মায়ের কোলে

আবার বেলা শেষে মরণ আমার

মেঘ ভেঙে বৃষ্টি হয়ে নামি আমি এ পৃথিবীতে

পুনর্জন্ম আমার আবার সেথানে

জন্ম মৃত্যুর পার ধরে

আমার চলন অবিশ্রাম।

.

.

.

ভাবানুবাদ উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের  // The World is Too Much With Us (1807) অবলম্বনে

দুশো বারো বছর আগে আধুনিক সভ্যতার জন্মভূমি ইউরোপে যে সভ্যতার উন্মেষ ঘটে তার স্বরূপ উন্মোচন করেন কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থ তাঁর এই কবিতায়। শিল্প বিপ্লব থেকে উৎসারিত এই সভ্যতা যে কতটা বিবর্ণ ধ্বংসাত্বক তা তুলে ধরেন এই কবিতায়। লাভ আর লোভ, বৈষয়িক সুখই হলো এই সভ্যতার মূল মন্ত্র যা মানুষকে অধঃপতিত করে, মানুষ মনুষ্যত্ব হারায়। প্রকৃতি ধ্বংস হয়। এই ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সেই বাণী যেন তিনি রেখে যান—– দাও ফিরে সে অরণ্য। সভ্যতার সংকট অবলোকন করেন।

.

.

একান্তই আপন সে  //   রণেশ রায়

এ পৃথিবীতে বাঁচি মোরা  সোহাগে আদরে

প্রকৃতির কোলে, যতনে মায়ের,

মানুষের একান্তই আপন সে

চিরকাল সে আশ্রয় আমাদের।

আমরা প্রকৃতির দানসাগরবাসী,

এ পৃথিবীর সম্পদ, সামান্যই মানুষের,

সে উজাড় করে দেয় তার সম্পদরাশি,

মানুষের সুখের জন্য  ঐশ্বর্য বিলিয়ে যায়।

আজ সে বড়ই অসহায় জীর্ণ দীর্ন,

ন্যুব্জ সে, সে বন্দী সভ্যতার কারায়

লোভে উন্মক্ত মানুষ তাকে লুঠে নেয়,

বিবস্ত্র করে মাকে, সে আজ ধর্ষিতা,

সভ্যতার  সন্ত্রাসে

সে আজ মানুষের ভোগ্য,

ভোগে আর লোভে বর্বর মানুষ

করেছে তাকে বাসের অযোগ্য,

বিবেকহীন ‘সভ্য’ মানুষ

প্রাচুর্যের সুখের তাড়নায়

হারাতে বসেছে নিজ পরিচয়,

প্রকৃতির আশীর্বাদ অভিশাপ আজ,

প্রত্যক্ষ করি সৃষ্টির লয়,

সভ্যতা ছিনিয়ে নিয়েছে সব,

বিচ্ছিন্ন করেছে সবে,

মানুষ বিচ্ছিন্ন আজ

প্রকৃতি চলে গেছে বহুদূরে।

এই সন্ত্রাসের রাজে চাঁদ আজ ফেরার

আকাশে বাতাসে আর্তনাদ,

প্রকৃতির বাগানে ফুল ফোটে না আর

অশ্রু হারা বিবেকহীন মানুষ তার,

হে ঈশ্বর! উদাসীন নির্লিপ্ত আমরা,

কোন কিছুতেই বিচলিত নই আর।

যদি আমি প্রকৃতি পূজারী,

আদিম সে নিরাকার ঈশ্বরে বিশ্বাসী,

প্রকৃতিই ধ্যান আমার

এই সবুজ তৃণভূমিতে আমার বিচরণ,

তবে দুর্ভাগা নয় আ।ই তেমন

আমার দৃষ্টিতে আজও সেই দিগন্তে

সমুদ্র থেকে উর্বশী উঠে আসে

বাঁশরীর বাঁশি বেজে ওঠে পৃথিবীর ওপ্রান্তে।

.

.

 

The World is Too Much With Us (1807)  //  William Wordswarth

The world is too much with us; late and soon,
Getting and spending, we lay waste our powers;
Little we see in Nature that is ours;
We have given our hearts away, a sordid boon!
This Sea that bares her bosom to the moon,
The winds that will be howling at all hours,
And are up-gathered now like sleeping flowers,
For this, for everything, we are out of tune;
It moves us not.–Great God! I’d rather be
A Pagan suckled in a creed outworn;
So might I, standing on this pleasant lea,
Have glimpses that would make me less forlorn;
Have sight of Proteus rising from the sea;
Or hear old Triton blow his wreathed horn.

.

.

.

পিপাসী  //  মিজানুর রহমান মিজান

কার ধ্যানে আছ বসে

জল ভরনা সঙ্গের কলসে

আনমনা গান গাও ওগো এলোকেশী।।

ভাবছ তুমি নিয়ে যারে

সে কি আসবে এ তীরে

না আসিলে কলংক মালা বানাবে উদাসী।।

হয়তো দুরে বসে বাজায় বাঁশি

তোমায় করে কুল বিনাশি

অন্যের সঙ্গে হয়ে সঙ্গি যাচেছ তার নিশি।।

বসেছ তুমি যারে মালা দেবার আশায়

অন্যের গলে হয়তো সে মালা পরায়

কুলমান হারিয়ে অবশেষে তুমি পিপাসী।।

.

.

.

.

.

এক বেকার যুবক এর আত্মকথা

 দেওয়ালে পিঠটা ঠেকে গেছে //প্রসেন জিৎ চ্যাটার্জী

.

.

আদর্শকে  বিসর্জন দিয়েছি ।সময়ের হাতে বলি দিয়েছি নিজেকে! কাঁধে ডিগ্রীর বোঝা এক হাতে কর্ম খালি পয়সা রাখার জায়গাটায় পয়সা নেই ঠিকই তবে ছেড়া ভাঁজ করা বেশ কিছু ঠিকানা আছে ।

.

.

পা মিলিয়েছি  মিছিলে ।একটাই কথা যোগ দাও,যোগ দাও।কিন্তু কোথায় দেব যোগ? যোগ দিতে গিয়ে দেখি বিয়োগের অংকটা মিলে গেছে।

.

.

সভ্য পোশাকি তে মোড়া মুখ মন্ডলের গোল চশমার আড়ালে অবহেলিত চাহনি! সারাদিনের শেষে হিসেব করে হিসেব টা মেলাতে পারিনি!ঘষতে ঘষতে পিছু হাঁটতে হাঁটতে দেখি ‘দেওয়ালে পিঠটা ঠেকে গেছে ।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: