বোধের মৃত্যু – যাকারিয়া আহমদ

 

তৈলের কার্যকারিতা নিয়ে কথা বলার শক্তি আমি রাখি না। কারণ যেসব ইনসান তৈল ব্যবহারের কৌশল জানে না, তাদের ভেতরে আমিও পড়ি। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে “তৈল শক্তিমান একটি বস্তুর নাম।” যে তৈল ব্যবহার করতে জানে সে সর্বশক্তিমান। তার জন্য পৃথিবীর কোনো কাজ অসাধ্য নয়। সবই সাধ্যের ভেতরে। সোজা।

পানির মতো সোজা। ইচ্ছে মতো করতে পারে। লড়তে পারে। ন্যায়ের মৃত্যু ঘটাতে পারে। জগতের সব শক্তি এক হয়েও তৈল ব্যবহারকারী সঙ্গে পারে না। কারণ তৈলের কার্যশক্তি কর্তার বোধশক্তির মৃত্যু ঘটায়। আর কর্তা যখন তৈলে উপলব্ধিহীন হয় তখন ন্যায়কে অন্যায় করতে ভালোকে মন্দ বলতে তার অসুবিধে হয় না।

উপরে বলেছি যে, তৈল ব্যবহার যারা জানে না তাদের ভেতরে আমিও পড়ি। তা ভুল। আবার একদম ভুলও নয়। সকলে তৈল ব্যবহার জানে। তৈলের আরেক নাম স্নেহ। স্নেহ আমার আছে।

সবার আছে। কিন্তু শুধু স্নেহ তৈল। আর যে স্নেহে শাসন আছে তা তৈল নয়। শাসনযুক্ত  তৈলের কার্যশক্তি কম। শাসনযুক্ত তৈল দিয়ে কাজ করা সহজ নয় এবং ফলপ্রসূ হয় না। কঠিন থেকে কঠিন হয়ে দাঁড়ায় সমাজে কাজ করা বা চলা। আসলে এরাই আসল মানুষ। আর যারা তৈল ব্যবহারে পটু। তাদের জন্য কোনো কিছুই অসাধ্য নয়।

তাদের জ্ঞান না থাকলেও জ্ঞানের ধারক-বাহক হতে পারে।  সেনাপতি হতে পারে ভিনদেশী রাখালও। রিক্সা চালক হয়েও তৈলের শক্তি ব্যবহার করে বিমানবাহিনীর চাকুরে হওয়া যায়।

অদ্ভুত এক বস্তুুর নাম তৈল। তৈল ছাড়া অনেক জিনিস অকার্যকর। গাড়ি চলে না, প্রদীপ জ্বলে না, তরকারি স্বাধ হয় না এই তৈল ছাড়া। তৈলবিহীন বেশকিছু বিষয় ও বস্ত নিঃচল।

তৈল দেওয়ার পাত্র আছে। সময় আছে। পাত্র বা সময় বুঝতে হলে তার পূর্বে আরও কিছু জিনিস বুঝা দরকার। যেমন, কড়াইয়ের জাত বুঝতে হবে। লোহার নাকি এ্যলমুনিয়াম। জাত দেখে তার অনুপাতে ব্যবহার করতে হবে। তবে জাত না জেনেও তৈল দিয়ে রাখলে কোনো না কোনো সময় ওই তৈল কাজ দেবে। অতএব অপাত্রেও তৈল দিয়ে রাখুন সময়ে জবাব মিলবে।

অবশেষে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতো ‘তৈলমর্দন কালেজ’ খোলার আবেদন রাখব সবার কাছে। যাতে বোধের আরও আরও মৃত্যু ঘটে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: