বিড়ম্বনা

                          শ্যামল কুমার রায়

 

      নিয়তির পরিহাস কে করবে হ্রাস?

 নগন্য মনুষ্য ঘুরে মরে মিছে , নিয়তিরই  পিছে।

  পুতুল নাচের পুতুল সবাই এ বিশ্ব চরাচরে,

   সবার অলক্ষ্যে কে  রশি ধরে আছে ?

     অদৃষ্ট ছাড়া আর কেইবা আছে !

        ভাগ্যের পরিহাস বড় নিষ্ঠুর,

কারণে, অকারণে হতে হয় বেদনাবিধুর ।

  সুখের সময় কে আর মনে রাখে –

 নিয়তি যে হাসছে , সবার অলক্ষ্যে ।

ভোগ্য এ জগতে, যত চাওয়া – পাওয়া আছে –

      ছুটছে যে সবাই, তারই পিছে ।

সময়ের জিনিস সময়ে পাওয়া বিড়ম্বনা নয় ।

  কিন্তু অর্জিত অধিকার বিলম্বিত হয় –

      বিড়ম্বনা তো ভাই , তারেই কয় ।

  রামেরই তো প্রাপ্য ছিল রাজসিংহাসন ,

     কিন্তু, ভাগ্যের বিড়ম্বনা আর কারে কয় –

       রাজসুখ ছেড়ে বনবাসী হয় ।

   অগ্নির মতো পবিত্র আদর্শ নারী সীতা –

ভাগ্যের বিড়ম্বনায় পাতাল প্রবেশ হয় ।

সহিল না রাজসুখ স্বামী , পুত্রদ্বয়ের সাথে –

নারী বলে কলঙ্ক লাগল সহজে ।

জ্বলন্ত অগ্নিতে প্রমাণিত শুচি ।

কিন্তু, হায় ! আত্মাভিমানী সীতা থাকতে না চায় –

ভাগ্যের বিড়ম্বনায় পাতালবাসী হয় ।

কি দোষ ছিল কর্ণের?

জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি বিড়ম্বনার শিকার ।

রথী , মহারথীই যদি বিড়ম্বনার শিকার হন ,

সাধারণ নগন্য মানুষের পরিণতি সহজেই বোঝা যায় ।

বিধির বাঁধন কাটতে লাগে প্রবল ইচ্ছা শক্তি,

তাঁর শরণাগত জীবের তবেই হবে মুক্তি ।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: