বােধােদয়

নিখিল পাণ্ডে

সমর তার মেয়েকে নিয়ে ডাক্তারবাবুর চেম্বারে প্রবেশ করে। মেয়ে সুমনা অসুস্থ। সময়ে ডাক্তারবাবুর সামনে রাখা চেয়ারে বসে পড়ে।

সুমনা পেশেন্ট দেখার নির্দিষ্ট চেয়ারটিতে বসে ডাক্তারবাবুর মাথার উপর পিছনের দিকে দেওয়ালে দুটি ছবি জ্বল জ্বল করছে। একটি হ্যানেমান সাহেবের।

অন্যটি ঈশ্বরচন্দ্র’র। সমর সুসজ্জিত চেম্বারের চারদিক নিখুঁত ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।

হঠাৎ সমর ঈশ্বরচন্দ্র’র পােট্রেটের দিকে আঙুল নির্দেশ করে জিজ্ঞাসা করে – ডাক্তারবাবু! এটা কী আপনার বাবার ছবি?

ডাক্তারবাবু নির্লিপ্ত। সমরের মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্র। পেশেন্টের চেয়ারে চুপ করে বসে আছেশারীরিক কষ্ট নিয়ে। বাবার এমনতর প্রশ্নে সে হতবিহুল। তার স্বতঃস্ফুর্ততা উধাও কপূরের মতাে। সে মাথা নীচু করে নেয়।

ডাক্তারবাবু একগাল হেসে পরিস্থিতি হালকা করার চেষ্টা করেন।

– না গাে সমর। ওটা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি। বর্ণপরিচয়-এর যিনি স্রষ্টা, মানে লিখেছেন আর কি!

সমর বিস্ময়ে বলে – ও বিদ্যাসাগর মশাই! মাথায় পাগড়ি ছিল না। ডাক্তারবাবু কথা না বলে মাথা নেড়ে জানান — না।

সমর অপলক চেয়ে থাকে ছবিটির দিকে। কেউই কোনও কথা বলে না। না সমর, না সমরের মেয়ে সুমনা।।

চেম্বারে অদ্ভুত এক নীরবতা বিরাজ করে।

আর এই নীরবতার মাঝে বাংলা বর্ণমালার ঊনচল্লিশটি অক্ষরের হুল্লোড় শুরু হয়ে যায় …।

 

 

 

 

 

বাক্প্রতিমা সাহিত্য পত্রিকা থেকে সংগৃহীত

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: