বাবুল আচার্যীর কবিতা

হারুলংফার নদী 

তুমি কোন দিগ্বিলয়ের ইঙ্গিতলীন_
অদৃশ্য সংকেতে জেগেছিলে ;
নাম না জানা পাহাড়ের চুড়া থেকে_
মিশে গিয়ে জীবনের মিছিলে ;
বয়ে চলেছ চিকণ-স্বর্ণ বালি মেখে _
সুদূরে নীল প্রান্তরে হয়েছ বিলীন।

স্বচ্ছ জলে ছিল সতত উদ্যত প্রবাহ ,
বঙ্কিম অঙ্গের দুকুলে সবুজ বনানী ;
শীতল ছায়া পরশ করে যেন জননী ।
মাঝে মাঝে অবারিত মুক্ত কটিদেশ ;
সে দেশের শুভ্রবালি সুন্দর পরিবেশ

মন প্রাণ বাতাস ভরে যেতে  সুকান্তিতে;
নদী তুমি গেয়ে যেতে, সুর দিতে  শান্তিতে।
সে সুমধুর সুর আজ মনে আনে  প্রদাহ ।

মেঘের গর্জন নাদে দেখেছি তোমার প্রতাপ;
দেখেছি বরষায় দুর্বার খরস্রোতা নদী ;
সে ভয়ানক তাণ্ডব ভুলিনি আজ অবধি ।
বুকের পাঁজরে র কাদা বালি নুড়ি মিশে গিয়ে ,
পাড়া পড়শীর উপকূলে যেতে তা ছাপিয়ে ।
ফুলে ফেঁপে চালাতে কি তাণ্ডবলীলা!
যৌবনে ছিল তোমার ঐ লীলাখেলা !
বয়ে আনতে ভেঙে বনলতা,গাছের মাস্তুল ;
যৌবনের কীর্তিনাশা কর্ম ই ছিল জীবনের ভূল,
আজ তুমি রুগ্ন,শীর্ণ, গাঁয়ের পথের মত বয়ে যাও,
তবু হারুলংফার নদী, বেঁচে থেকে আমাদের প্রাণ বাঁচাও ।

.

 ক্ষোভ 

মাটির পৃথিবী!  সত্যি ও তাই
ঘুমের ঘোরে ও তাই দেখি ভাই।
বাহ্য আবরনী আমার শক্ত পোক্ত ,
পুড়ে পুড়ে তামাটের মত উত্যক্ত ;
তবু আমি নিরামিষ ভালোবাসি ।
গরু বাছুরের মত নিরীহ ;
সকলের অন্তরের প্রিয় ।
তাই বলে ভেবে নিওনা , ভেতরে গরম নেই,
আমি কাল বৈশাখীর ঝড়ের মত ঝঞ্ঝা করিনা,
আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুত চমকিয়ে ফেটে পড়িনা ।
আমার বাহ্য দ্বার টা অবিরত খোলা _
ফাটক নেই বলে, তুমি ভেতরে এসে দেবে কান মলা  ?
স্বাভিমান লজ্জা পেয়েছে  যতবার ;
হুঙ্কার তুলেছি গরজে শত শতবার, বারবার ।
এ ধরণীর বুকে জমানো ক্ষোভ অন্তর্দাহে দগ্ধ ;
অন্তরে উত্তপ্ত তরল পদার্থের রূপে সংহবদ্ধ ,
তায় দিকে দিকে আছে ওরা সদা প্রস্তুত ;
আগ্নেয়গিরি র  রূপে আছে ওরা জাগ্রত ।
ওরা থাকেনা কখনো সুপ্ত ;
ভেব না ওরা হয়েছে লুপ্ত ।
তাই মাঝে মাঝে গরল ক্ষোভ বাহিরে ছড়িয়ে দেয় ;
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে সব তছনছ লন্ডভন্ড করে দেয় ।
এর শেষ নেই _
কারণ আমার ক্ষোভের অন্ত নেই ।
আমার ক্ষোভের লেলিহান শিখা থামবে সেদিন
অফুরন্ত চাওয়ার আকাঙ্খা মিটবে তোমার যেদিন !
এর শেষ নেই; ক্ষোভের ও শেষ নেই ।

.

অনিন্দিতা   

ওগো অনিন্দিতা ! তুমি যে মোর নন্দন বিহারী ;
সঙ্গোপনে ধীরে ধীরে নিলে মন করে তুমি চুরি ।
অসীম প্রেমাস্পদ তুমি মম হৃদয়ের মাঝে ;
আলোড়নে শিহরণ জাগে যেন প্রতি কাজে ।
হে বিশ্বপিতা ,রচনা তব বিচিত্রা অনিন্দিতা,
লহ মোর প্রণাম, তুমি যে সকলের বন্দিতা ।
রচিলে কোমল তার তনু মন ভরে স্নেহলতা,
রয়েছ বৃক্ষ ভেবে মোরে জড়ায়ে কোমলতা ।
বৃক্ষ ভেবেছিল আগাছার মত এসেছিল তুমি,
আজ চিত্ত সুখে বলে,তুমিই হৃদয়ের  বাসিনী ” ।
তোমার নিন্দুক ঘনশ্যাম  যায় মন ছেড়ে বনে ;
মায়াবিনী ,জাগাও মায়া তার ত্বরে ক্ষণে ক্ষণে।
সেও অভিসারে বলে এমনটি আর দেখি নাকো ,
হাপছাড়া ভালোবাসা বলে, ” তুমি ভালো থেকো ” ।
শঙ্খনদীর ঘাট থেকে বউঠান যে জল তুলে হায় !
সে জল বহু ঘাট ছুঁয়ে এসে জীবন নদে মিশে যায় ।
আমি দেখেছি অজানারে,পেয়েছি তোমারে, অন্তরে ;
তাই গঙ্গার জল মাথায় নিয়ে, নমি আমি বারেবারে ।
কস্তুরী আভার চাঁদ সে,আলো দেয় যে আঁধারে ;
চিন্তায় আনে সে স্নিগ্ধতা ,বসন্ত আনে বাহারে ।
সে আমার দ্বার পাশ, দ্বার রাখে সদা সে খুলে;
বয়ে যাই তৃপ্তির কূলে,বাগিচায় ফুল হাসে দুলে ।
তার পাশ দিয়ে গেলে অধরা মাধুরী জেগে ওঠে ;
যেন বহুকাল পরে জল প্রপাত বয় শুষ্ক নদীতে।
সে যেন উচ্ছল সাগরের জলরাশির সমুদ্বিতা ;
অনু অনুতে অনুভূতিতে খুশির বেগ- প্রবাহিতা ।
বয়ে যায় যে হৃদয়ে তার জলের ধারা কলকল ;
ছন্দে ছন্দে আমার অনুভূতি-প্রাণ করে ছলছল  ।
তরঙ্গ স্পন্দন জাগায়  আমার মন- প্রাণ জুড়ে ;
তপ্ত রক্ত শিরায় নীল ধারা তার ত্বরে বহে নারে ।
আকাশ পানে চেয়ে এখন এ কথাই মনে আসে  ;
তুমি মহতী, দুনয়ন -মন -আত্মজার সমাবেশে  ।
তাকে দেখে মনে হয় , হয়ে যাই অবিনশ্বর কবি;
মনের ক্যানভাসে আঁকি তাই তারই মনের ছবি ।

..

সন্ত্রাসীর উত্তরসুরী

আজ হতে শতবর্ষ পরে যখন শতাব্দী উত্তরণ হবে ;
মহাকাল কিছুটা বিবর্তনের কক্ষপথে এগিয়ে যাবে ।
পেছনে রেখে যাবে শুধু রক্তে ভেজানো আদ্র-ঘাস ,
বুক ফাটানো চিৎকার,আর বাতাসে ত্রাহি ত্রাহি ত্রাস ।
কান্নার কলরোলে কালোমেঘ আকাশ-বাতাসে ভাসবে  ,
মনে হাল্কা হাওয়ার দোলা লেগে ঘন ঘন বারিপাত হবে ।
ওরা যেদিকে তাকাবে দেখবে উত্তরসূরীর হাড়ের শেষাংশ ;
জলের ওপরে ভাসবে গনহত্যা আসামীর কঙ্কাল-জীবাশ্ম ।
স্মৃতি জুড়ে থাকবে ধূসর গোধূলির গেরুয়া প্রান্তর ;
ইতিহাসের সুপ্ত বিদারক পাতা ব্যথা দেয় অনন্তর ।
আঁকবে মনে ক্ষত বিক্ষত বুকের পাঁজরে পদচিহ্ন ;
দিবস রজনী দুলবে পাতায় ,জীবন হবে চিহ্ন ভিন্ন ।
পিশাচর পাপিষ্ঠ আত্মা ভয় দেখাবে স্বপনের গভীরে ;
উত্তরসুরি র কৃত কর্মের ফল ভুগবে তুমি অগোচরে ।

.

মহারুদ্র সূর্য তার ললাট ভরা আগুনের প্রখরে ;
রশ্মি জালের লেলিহানে দগ্ধ করবে, প্রতি প্রহরে  ।
আজকের জাগ্রত আগ্নেয়গিরি কাল হবে সুপ্ত ;
ধমনী শুকিয়ে গিয়ে ক্রমে ক্রমে হয়ে যাবে লুপ্ত ।
লাভা সেদিন শক্ত কঠিন শিলায় পরিনত হবে,
গরম রক্ত শীতল গাঢ় হয়ে মেটে রঙে মিলাবে ।
রাতের কালবৈশাখীর ঝড় কাল হবে পেয়জল ;
তলের কাদায় সমাধিস্থ আছে কত কৃত কর্মফল ।
আজ জীবন্মৃত বিধ্বংসী সন্ত্রাসীর ধ্বংস সাধনা,
কাল হবে ওদের আগামী প্রজন্মের প্রাপ্য বেদনা ।

.

প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূল হয়ে উঠবে হয়ত উর্বর;
সবুজ সৃষ্টির ফেলে আসা পদাঙ্কে র ‘পরে হবে নির্ভর।
ওরা মৃদু-মৃদু বাতাসে দুলবে, হাতে হাত রেখে গাইবে,
নির্মল জলের ঝর্ণা ধারায় ওরা যে ঐক্যতানে নাইবে।
হাসবে অশ্রু ঢেলে খোলা মনে ,প্রশ্ন করবে তীক্ষ্ণ বাণে;
হয়তো বা তানপুরা বাঁচবে না , তবু সুর আসবে কানে।
কাঁদবে হৃদয় ঝর ঝর করে অঝরে , শুধু প্রশ্ন সুধাবে,
কেন এঁকেছিল ওরা রক্তলেখা কত নিরীহের ওভাবে ?
যুগান্তরে রঙ বদলায় আস্তিকতা নাস্তিকতায় গড়ায় ;
সেখানে নিছক শব্দরা মৌন হয়ে পথের দিশা হারায় ।
যুক্তি তর্ক ভূতলে পড়ে কবরের সাথে খেলা করে ;
উষ্মা বাণীর মাঝে উত্তর বাষ্প দেহত্যাগ করে, মরে ।
শত বছর পরে কি দেবে উত্তর ওরা আগামীর কাছে ;
থাকবে না জানি, তবু প্রশ্ন তাড়া করবে পিছে পিছে ।

.

.

যামিনী র ভাষা  ( সনেট  )

রাত জেগে দেখেছি রাতের অন্ধকারে,
কি করে যায় সে শয়ন গভীর রাতে ।
দেখেছি দুচোখ খুলে তাকে বারেবারে ;
আমার সে সময় গেছে বিন্যস্ত খাতে ।

.
নিস্তব্ধ নীরব স্পন্দন মৌন মূখরে ;
ভাষাহীন তত্ত্ববিহীন এ অমারাতে ।
মাঝে মাঝে নিশাচর ঘুমের তিমিরে ,
বিজনে কূজন করে রূপালী র প্রাতে ।

.

ধ্যানগম্ভীর পৃথ্বীর কোলে সাগরের তীরে;
আমি বসে একাকী কোন শঙ্কিত কুলে ।
দিবালোকে লু হৃদয় মানুষের ভীড়ে ;
পৃথিবী রেখেছে ডায়েরির পাতা খুলে ।
কত রক্তলেখা ইতিহাস চেপে মরে ;
বিস্মৃত হৃদয় কাঁদে যামিনী র কুলে ।

.

.

কচি কাঁচা মনের পাতা 

কচি কাঁচা  মনের পাতা সবই ছিল সরু সরু,
বয়স ছিল তখন ছয়, মনটা ছিল ভীরু ভীরু ।
হৃদয় ভাটি নরম মাটি , হাওয়া ছিল গন্ধে ভরা ,
হেসে কুদে মিলন মেলায় ভরা ছিল সকল ঘড়া ।
লাজুক মনে রক্ত আভা, পাতা গুলো মরম মরম ।
লজ্জাবতী যায় নেতিয়ে বাতাস ছুঁয়ে গরম গরম ।
একটু সরল একটু বাঁকা, মনটা ছিল একটু খ্যাপা ;
মনের মতি বাতাস গতি, যায়না তারে একটু মাপা ।
ঘাসের উপর শিশির ভেজা রূপার ফালি বিন্দু বিন্দু,
আজকে ওরা ক্ষুদ্র বিন্দু , কালকে হবে অপার সিন্ধু ।

.

ভয়ের চাপে কাঁপত হৃদয় আঁধার যখন  ঘনায় গৃহে ,
কালো রঙে ভয় দেখাত, চোখে আমার আঙুল দিয়ে ।
বৃষ্টি ভেজা সকাল বেলা, আকাশ ভরা মেঘের মেলা,
উঠোন ভরা জলের ঘড়া, সবাই মিলে নৌকো খেলা ।
এমন একটি বৃষ্টির দিনে, বল ভাসাতুম উঠোন জলে,
সবাই  যেতাম বলের পিছু, মা দিত এসে কান মলে ।
সর্দি কাশি জ্বরের পালা মায়ের হল মরন জ্বালা,
গা ঘেষাতুম মায়ের বক্ষে, মা বলত ‘এখন পালা’ ।
জ্বরের ঘোরে ভীষণ ভাবে মা ই ছিল নিবিড় আবেশ,
‘দূরে যা ছাই,তোর নই মা  হবার পালা আমার নিঃশেষ’ ।
পরক্ষণেই জড়িয়ে ধরে, মায়ের পেতাম অনেক চুমো,
বুকে পিঠে তেলের মালিশ ,বলত মা এখন  ঘুমো ঘুমো ।
নবীন ভোরের নবীন রবি আমায় দেখে মুচকি হাসে,
নূতন পাতা নূতন খাতা , আঁকব আঁকা সবুজ ঘাসে ।
সন্ধ্যা হলেই টালবাহানা,পড়ায় ছিল ভীষণ ফাঁকি,
মিনিট পাঁচেক পরে পরে মা উঠত ফকির ডাকি ।
ফকির শব্দ ফার্সি শব্দ বোঝার উপায় কি বা আছে?
আমরা ছিলাম মধ্যবিত্ত, মা বলত সে মিছে মিছে ।

.

.

 বাবার স্মরণে

যতদূর এ দৃষ্টি ও মন ছুঁয়ে যায় …
যতদিন এ প্রাণ বাঁচিবে ধরায় ….
নিখিলের আনন্দ পরশ জাগায় !
ততদিন থাকিবে পিতা তুমি ,
আমার আঁখির তারায় পিতা ;
আমার আঁখির তারায় ।

.

এ সুন্দর জগতের  মাঝে ,
তুমি আছ কোন সাজে পিতা ?
ফুলের সুবাসে কিংবা তারার আলোয়,
প্রেয়সীর হিয়ায় কিংবা মায়ের  চুমোয় ।
সবার মাঝে পাই তোমার ছায়া পিতা ;
সবার মাঝে পাই তোমার ছায়া ।

.

দিবস রজনী কাটে যে আনন্দে ,
তোমারি দেখানো নীতি ও ছন্দে ।
তোমারি দেখানো তপের পথে ,
হয়েছি ধ্যানমগ্ন চলেছি রথে ।
তোমার চরণ ধুলো শিয়রে রেখেছি ;
দিশারি পেয়েছি. অজানারে চিনেছি ।
পথের কিঙ্কর সব ধুলোয় মিশেছে ;
প্রান্তরের নীলিমা আমায় ডেকেছে ।
সরে গিয়েছে মেঘের গুরু গুরু গর্জন ;
হয়েছে বারিপাত ও আশীর্বাদের বর্ষন ।
মধুরীমা এসেছে জীবনে আমার ;
ভরেছে আলোয় আলো পিতা ,
ভরেছে আলোয় আলো ।

.

তুমি নেই ভুবনে কি রাখি সঙ্গোপনে ?
কে ডাকিবে  আমায় ‘আদরের আলা’ ;
বাড়িতে ফিরলে তুমি চুমু খেতে পালা ।
চোখে চোখ রেখে তুমি জাগালে স্বপন !
নিজের ব্যথা ভরা হৃদয় রেখেছ গোপন।
কে দেবে এমন আদর পিতা ?
কে দেবে এমন আদর ।

.

চলতে চলতে হয়ে যাই তাই আনমনে…
তোমায় খুঁজি আমি কোন ত্রি- ভুবনে ?
বুকের ভেতরে শুধু হাহাকার করে ;
সবই আছে আমার তুমি নেই ঘরে ।
দেয়ালে মাথা কুটি তবু আস না ফিরে ,
তুমি একবার আসবে না ঘুরে পিতা !
তুমি কি আসবে না একবার ফিরে ?

.

 অতীত 

নিস্তরঙ্গ সলিলে স্মৃতি লেপ্টে দুটো আঁখির দুকুলে ঝরে যায়,
খুশি-অখুশি ব্যথা বেদনার ছবিগুলো , মানসপটে ভেসে বেড়ায় ।
উত্তর সাগরের কোন ঢেউ এর সাথে ,মন ছুটে গিয়ে খেলা করে,
হৃদয় দোলা দিয়ে অন্তর গহীনে, হাসি ফোটায় খুশিতে অধরে ।
কখনও দিবার প্রখর আলোতেও ,মুখমণ্ডলে কালিমা উপচে পড়ে,
যেন সুর্য গ্রহনের ছায়া নেমেছে পথে, ঘাটে ,মাঠে, মানসের ঘরে ।
অতীত,  তুমি ঘন কালো মেঘে ভরে তুলেছিলে, সেক্ষণের দিনগুলো,
আজ বিরামের ফাঁকে, ঢুকে গিয়ে চুরি করে নাও, খুশির রঙ গুলো ।
তোমার অব্যক্ত কথার ছন্দ, ভাঙে গড়ে দ্বন্দ্ব, লিখে যায় কত লিপি,
আজ শুভ্র নীলাকাশে র রঙে ,গড়বে তোমার অতীতের কাব্যগীতি ।

.

মাতৃভাষা  ( 21 শে মে ভাষা দিবসের স্মরণে)

মায়ের মত এত মধূর সে আমাদের  ভাষা,
জগৎ জুড়ে তারি প্রকাশ ,নিয়ে চলে আশা ।
শুনে ভাই বুক জুড়ে যায়, এমন শ্রতি মুধুর  ।
মাগো তোমার বাংলা ভাষা ,বিদেশ গেছে সুদূর।
চিনির মত মিষ্টি মধুর , এমন তোমার কথা,
তোমার ভাষায় আঘাত পেলে ,মনে লাগে ব্যথা ।
ভারত মাতার মহান দেশে, নানান ভাষার বুলি ,
সব ভাষারি মৌচাক গুলো, মায়ের মনের ঝুলি ।
অনেক জাতি মধুর ভাণ্ডার, চলছে নিয়ে কাঁকে,
সকল নদীর জল মিশেছে ,বঙ্গোপসাগর বাঁকে ।
ফুলের সুবাস পাই যে ওরে, হৃদয় গাহে গান,
মিষ্টি মধুর রসের ভাণ্ডার, রসে ঝরায় প্রাণ ।
বাতাস ভরে শব্দ আসে, শব্দ শোনায় রাগ,
রাগের সাথে মনের মিলন , মনেতে সোহাগ ।
প্রিয়ার কাছে আমি প্রিয় , আমার প্রিয় তুমি,
বাংলা ভাষা আমার প্রিয়, হৃদয়ে মর্মভূমী।
প্রভাত ফেরির গানের কথা, যে আমারে টানে,
রবির আলো ভাষায় মিশে, জীবন রঙে প্রাণে ।
বাকবাকুম পায়রাগুলো কেমন ডাকে ওরে ,
ওদের কাছে মধুর বুলি, কানে বাজে সুরে  ।
বিলেত ফেরত ছেলে আসে, মা বলল ডেকে,
তুই আমাকে মাদার বলিস,বলবে কিরে লোকে?
ভাষার ত্বরে শহীদ হল, তাদের কথা মনে রেখো ,
ভাষা দিবস মনে রেখে, ভাষার প্রেম সবাই শেখো ।

.

হে বীর 

হে বীর! ভারত মাতার সতন্রপ্রহরী, তোমারে করি নমন,
ঘনান্ধকারে শত্রু ছড়ায় মৃত্যু – বিষ, তুমি কর তারে দমন ।
শত্রুর দল উদ্যত, কীটের মত তোমার অঞল কাটে,
তুমি জাগ্রত থেকে মুক্তি দাও তারে ,বন্দুকের গুলিতে ।
মাত্রিবন্দনা করে নিয়েছ শপথ, জনমের সাথে মরনের,
কবে কোনযুগ হতে নাড়ির বন্ধন, রয়েছে ভারত মায়ের ।
নিশুতি রাতে তর্জন গর্জনে,শত্রু বাতাসে আগুন ছড়ায়;
প্রতিহত কর তারে প্রত্যুতর দিয়ে, বারুদ বাতাস ভরায় ।
মায়ের বক্ষে যে শেল করেছে বিদ্ধ,
প্রত্যুতরে শেল ছুটে , হয়ে সঙ্ঘবদ্ধ ।
রক্তে দামামা বাজে, মৌন সমুদ্র জেগে ওঠে,
পাল ছিঁড়ে গিয়ে ভেসে চলে মৃত্যু নদীর স্রোতে ।
জীবন মাঝারে, অস্ফুট হাহাকার ভেসে আসে বারবার, বাতাসে ভর করে,
জননীর ক্রন্দন, প্রেয়সীর উৎসুক চাহনি, কোলের শিশুটি ভোগে জ্বরে ।
কত কালো ছবি এঁকে যায় মন,মানসপটে,
সেগুলো ধোঁয়াটে, আবছা.
দেখে না কোন শহুরে প্রদর্শনীর পর্দাতে ।
সব ছাপিয়ে যায়, ঐ একখানা মুখ,
যে সইছে সৃষ্টি হতে পাহাড় ভরা দুঃখ ।
রেফারেণ্ডাম, দেশভাগ, ক্ষুদ্র স্বার্থনিতি,
বিভাজন হয়েছে মনের, মাটির,অর্থনীতি  ।
ইতিহাস পড়ে নিতে পার, প্রতি পাতা খুলে,
মায়ের আভরণ নিয়ে গেছে কতবার, গলে ছিল দুলে ।
সময় বয়ে গেছে, মায়ের সন্তান এখন, উদ্যত, উন্নত ,
যৌবনের টগবগে রক্ত, বাহুবলী, শক্তপোক্ত ।
হিমাদ্রির হিমেল হাওয়ায় তুষারের ঝড় বয়ে যায়,
ধমনীর রক্ত তবু শিরা – উপশিরায় আগুন ঝরায় ।
জীবনের স্বপন যত ঘিরেছে তোমার আঁধার পথে ।
অবরোধ করে নাই তাহা তোমায় লক্ষ্যে পৌঁছাতে ।

 মেলা

আয়রে তোরা মনের সাজে মিলন মেলায় আয়;
মনের বাঁধন খুলে তোরা মিলন মেলায় আয় ।
দেখবি তোরা মনটি ওরে, কানায় কানায় সুধা ভরে ;
নিয়ে যাবে কলস ভরে, সুখের ঘরে  তায় ।
আয়রে তোরা মনের সাজে, মিলন মেলায় আয় ।

.

ফুলে ফুলে রঙের মেলা, হেসে হেসে  নাগরদোলা  ;
তাই না দেখে বাতাস বলে, চুলের বেণী রাখনা খুলে,
দূরের বাসী হাসুক তারা, মিটমিটিয়ে মন-খোলা ।
পুঞ্জীভূত ক্ষোভের শিকল ছিঁড়ে ছিঁড়ে যায় ;
আয়রে তোরা মনের সাজে, মিলন মেলায় আয় ।

.

গাঁয়ের বধূর রঙটি চাঁপা,  সবাই ডাকে কনকচাঁপা ;
ঠোঁটে মেখে লাল গোলাপী মাথায় দিয়ে ফুলের খোঁপা,
হনহনিয়ে চলে বধূ  গাঁয়ে থাকে এমন মধু,
শহর বাসী তাকিয়ে থাকে, বধূ মেলায় যায় ।
আয়রে তোরা মনের সাজে  মিলন মেলায় আয় ।

.

মনের রঙে খেয়ার পালে, যাক না ভেসে মনের ভেলা ।
কুঞ্জবনে মধু পাবি   ভাসবে চোখে সুখের ছবি,
গরল মন তরল হবে, মিলন মেলায় আয়,
আয়রে তোরা মনের সাজে ,মিলন মেলায় আয় ।

.

পরবাসী 

আয়রে তোরা পরবাসী নিজের দেশে  আয় ,
মাটির গন্ধে সুধা পাবি আইরে চলে আয় ।
গুমড়ে থেকে  কাঁদবি কত সুদূরে  বিদেশে ,
মাতৃভূমি মধুর ভূমি মৌচাক গড়ে স্বদেশে ।
মাতৃভাষা মায়ের বুলি কোথায় পাবি আর ;
শুনলে ওরে কানের ব্যথা যায়যে তরী পার।
মাটি খাঁটি মধুর ভাটি জুড়ি মেলা ভার ।
এ মাটিতেই জন্মমৃত্যু খুলবে সরগ দ্বার ।
গাড়ি বাড়ি সবই পাবি ,পাবি নাকো প্রাণ ।
হিমেল হাওয়ায় লু বহে ,হৃদয় চাহে ত্রাণ ।
শুনতে পাবি নারে তুই,প্রভাত ফেরির গান ।
গানে গানে মাদল বাজে,বাতাস ছড়ায় ঘ্রাণ ।
দরাজ গলার মধুর কন্ঠ ,সবার দ্বারে  ঘুরে ।
শিশির ভেজা শান্ত বারতা শুনি ঘুরে ফিরে ।
মাতৃভূমি মাতৃদুগ্ধ দুজনাতে সমান মুগ্ধ  ;
এমন মুগ্ধে বিরাগ হলে ,জীবন হবে সমান ক্ষুব্ধ ।

.

সৈকত তোর মুকুল

আজ দেখেছি দু চোখে প্রকৃতির  সুন্দরতা_
নীলাভ গগন ও উচ্ছাস সমুদ্রের প্রসন্নতা ।
সূদুরে ঐ দেখ প্রান্তরে , ওরা মিলেমিশে একাকার,
যেন দুজন দুজনারে জড়ায়ে ধরে চুমু খায় বারবার ।

.

দুবাহু বাড়ায়ে আকাশ বলে,
তোকে দেখে ভাই আমার নয়ন খুলে ।
তোর বুকেতে ভাই _
প্রতিবিম্ব আমার দেখিতে যে পাই ।
আমি যে সবার থেকে  শতক্রোশ দূরে _
ঘাড় উঁচু করে ,কেহ কভু একবার যদি দেখে ফিরে ।
আমি যে শুধু কল্পনার কবিতা, ছন্দের পরিণীতা ।
কখনো দুচোখে দূরবীণের রহস্যময় অম্বিকা ।

.

তুই ভাই সহোদর, খুশির আবেগে ধরোহর,
জোয়ারে ভাটার উচ্ছাসে তুই অতি মনোহর ।
তোর উপকূল,একুল , ওকূল ,দুকুল ,
সৈকত নামে তাতে ধরে যে মুকুল ।
সুন্দর বালির বিছানা, সুন্দর মন, সুন্দর সব_
সবে মিলে খেলা করে যেন প্রতিদিন উতসব।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *