প্রাপ্তি

দেবজিৎ বিশ্বাস

 

কলিকাতা থেকে সামান্য দূরে একটা এত ভাল বাড়ি যে অনির্বাণ এত সস্তায় পেয়ে যাবে তা সে নিজেও কল্পনা করেনি।কলিকাতায় নিজের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থাকলেও এত কম দামে এত বিশাল বনেদী বাড়ি পেয়ে যাওয়ায় সে লোভ সামলাতে পারেনি। বাড়ি বলা ভুল এত একটা রাজপ্রাসাদ।

বাড়িটা নিয়েই সকালে মায়ের সাথে আলচনা করছিল এমন সময় অন্তিমা নিছক সরলতার বসেই বলে ফেলে-“ কলিকাতায় এত ভাল ফ্ল্যাট থাকতে গ্রামের দিকে বাড়ি নেওয়ার কি দরকার আছে ?” আর সঙ্গে সঙ্গে শাশুড়িমা’র টিপ্পনী –“ ব্যাস, আর হবে না,

আর কিছুতেই হবে না, তোকে আগেই বলেছিলাম অনি পুলিন বাবুর মেয়েকে বিয়ে কর অনেক সুখে থাকবি, তা না তুই ধরে আনলি এই অনামুখি কে, তোর ভাল এই মেয়ে কিছুতেই দেখতে পারবে না।’’ মায়ের কথা শুনে অনির্বান প্রায় রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে বলে ওঠে-“তুমি যাবে এখান থেকে? কতবার বলেছি আমি যখন মায়ের সাথে কথা বলব মাঝখানে কথা বলবে না।

কিন্তু না তুমি তো কথা শুনবেই না, সব ব্যাপারে কথা বলার একটা নেশা তোমার চেপে গেছে।’’ অন্তিমা বুঝতে পারলনা যে সে কি এমন বলল যে অনির্বাণ এত রেগে গেল। আদ্যেও সে কি খুব ভুল কথা বলেছিল। তার চোখে জল এল সে আর দাঁড়াতে পারলনা।

এক দৌড়ে নিজের ঘরে এল ছোটবেলায় মায়ের দেওয়া লকেট টা ধরে অঝোরে কাঁদতে লাগল ।খুব ছোটবেলায় ওকে ওর মা এটা দিয়েছিল আর সবসময় পরে থাকতে বলেছিল। আজ অব্ধি অন্তিমা একটা দিনের জন্যও এটা নিজের থেকে আলাদা করেনি।

যখন ও খুব একা থাকে তখন এই লকেটটার জন্য তার মনে হয় মা সবসময় তার সঙ্গে আছে। অনির্বাণ এর সঙ্গে কলেজ লাইফ থেকে প্রেম।প্রেম করেই বিয়ে।কিন্তু বিয়ের পর অন্তিমা সেই পুরনো অনিকে ক্রমশ হারাতে থাকে। আগে অনি কখনও অন্তিমার সাথে রেগে কথা বলত না, কখনও একটা বাজে কথা বলত না, কিন্তু এখন    পুরো উল্টো।

যাইহোক অনেক কথা অনেক পাকাদেখার পর অনির্বাণ বাড়িটি কিনেই ফেলল। এখন ওরা ওখানেই থাকবে বেশ কয়েকমাস। যেহেতু অনির্বাণ এর পোস্টিং এখন ঐ এলাকা সংলগ্ন তাই অনির কোন অসুবিধাই হবে না। একটা রবিবার দেখে তিনজনেই বাড়ির দিকে রওয়ানা হল।

বাড়ির আগের মালিক বিক্রম শেঠ ওদের জন্য ওখানেই অপেক্ষা করছিলেন। বাড়িটা উনি নতুন কিনেছিলেন কিন্তু পারিবারিক কিছু সমস্যার জন্য এখন বিক্রি করে দিচ্ছেন।

অনি গেটের কাছ অবধি আসতেই উনি প্রায় দৌড়ে এসে অনি কে জড়িয়ে ধরে বললেন – “আরে অনির্বাণ বাবু আসতে কোন অসুবিধা হয়নি তো ? যদিও এটা কলকাতা থেকে এমন খুব বেশি দূরে নয়।”

অনি-“ আরে না না কোন অসুবিধা হয়নি ।’’

মা আর অন্তিমার সাথে বিক্রম বাবুর পরিচয় করিয়ে দিয়ে সবাই ঘরে প্রবেশ করল। সত্যি রাজপ্রাসাদ, যেমন বড় বড় ঘর, তেমন সুন্দর দরজা, প্রকাণ্ড জানালা। শুরুতে আসতে না চাইলেও অন্তিমার কিন্তু এসে বেশ ভাল লাগতে লাগল।

এত বড় বাড়ি সে কখনও কল্পনাও করেনি, আর তাছাড়া বাড়িটার মধ্যে কেমন একটা টান আছে। যেন এই বাড়িটা তো তাঁরই, এত দিন যেন বাড়িটা তার অপেক্ষাই করছিল, আজ যেন তাকে পেয়ে বাড়িটা পরিপূর্ণ হল। বাড়িটা একমনে দেখছিল, দেখতে দেখতে আচমকা তার চোখ পড়ল হলঘরের ডানদিকের শেষ প্রান্তের দেওয়ালটায়, কোন এক জমিদারের বিশাল ছবি টাঙ্গানো দেওয়ালটায়।

সে ছবিটার কাছে গেল, ভাল করে ছবি তা দেখতে লাগল, অতিশয় সুপুরুষ এক ব্যাক্তির ছবি। আগে কখনও এরম কাউকে দেখেনি সে, তবু যেন লোকটাকে তাঁর চেনা লাগল। বেশ কিছুক্ষণ দেখার পর তাঁর চোখ পড়ল লোকটির গলায় । লোকটির গলায় ঠিক তাঁর মত হবুহু একইরকম একটি লকেট।

এও কি সম্ভব ? এ কি ভাবে হতে পারে? এমন সময় পেছন থেকে বিক্রম বাবুর গলা – ‘ ইনি এ বাড়ির মালিক ছিলেন, বহুত বড় জমিদার, বংশে আর কেউ নেই, ইনি মারা যাওয়ার পর থেকে বাড়িটা প্রায় একশো আশি বছর বেওয়ারিশ পরে ছিল । তারপর এই বাড়ির নিলাম ডাকা হয় আর আমি হই বাড়ির মালিক ।

অন্তিমা-“ আচ্ছা আপনি বাড়িটা বিক্রি করে দিচ্ছেন কেন ?’’

বিক্রম বাবুর মুখটা কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে গেল। উনি কিছু বলতে যাবেন হটাত পেছন থেকে শাশুড়ির ডাক-“ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গল্প করলে হবে ? বলি পুরো ঘরও এখনও দেখা হয়ে উঠল না। বিক্রম বাবু ব্যাস্ত মানুষ ওনার ও কাজ আছে ।’’

বিক্রম বাবু বলে উঠলেন- “ঘর নিয়ে কোন চিন্তা করতে হবে না, আপনারা আজ থেকেই থাকতে পারবেন, সব ব্যাবস্থা করা আছে, আপনারা শুধু একটু গোছগাছ করে নিলেই হবে।’’

সামান্য কথা বলার পর বিক্রম বাবু বেড়িয়ে গেলেন । ঘরের সব করে উঠতে রাত হয়ে গেল ।অন্তিমা দের ঘরটায় বেশ বড় ধরনের বিছানা আছে, বিছানা না, একটা বড় পালঙ্ক । অনির্বাণ বেশ ক্লান্ত, তাই আজ বেশি কথা না বলেই সবাই তাড়াতাড়ি শুতে চলে গেল।

রাতে শুয়েও অন্তিমার মাথায় বার বার ভেসে উঠতে লাগল ওই ছবি তাঁর কথা। কেমন যেন একটা টান আছে ছবিটায়, আর ওই লকেট, যেটা হুবহু অর নিজের লকেট তাঁর মতো দেখতে ? এটা কি সম্পূর্ণ কাকতালীয় ব্যাপার ? এটা কি করে হতে পারে ?

তাঁর মা এই লকেট টা দিয়েছিল, এটা এখানে ওই ব্যাক্তির কাছে কি ভাবে? এমন সব চিন্তা করতে করতে কখন সে ঘুমিয়ে পড়ল। কত রাত হবে জানা নেই, হটাত তাঁর মনে হল কে যেন তাঁর পাসে বসে, চোখ মেলে দেখল ,

কি সাংঘাতিক, একটা বাচ্চা ছেলে বসে আছে, তাঁর চোখ দুটো থেকে যেন আগুনের হল্কা বেরোচ্ছে, সে তাঁর দিকেই তাকিয়ে, যেন ভালভাবে তাকে নিরিক্ষন করছে, হটাত সে তাঁর দিকে হাত বাড়ায়, সে কিছু একটা খুঁজতে চেষ্টা করছে, অন্তিমার গলার স্বর বেরোচ্ছে না, সে অনির্বাণ কে ডাকতে পারছে না, হটাত ধড়মড় করে উঠে পরে সে।

কিন্তু একি কেউ কোথাও নেই, তাহলে, তাহলে সবই কি ভুল, যা ঘটল সব মিথ্যা? ও কি স্বপ্ন দেখছিল? না কিছু মিথ্যা না, এটা স্বপ্ন হতে পারে না, এটা বাস্তব অনেক ভয়ানক বাস্তব।

সকালে উঠে অনির্বাণ এর সাথে এই নিয়ে আলোচনা করতেই, শাশুড়ি মা বুলে উঠলেন-“ জন্মে তো এত বড় বাড়ি দেখনি,বলি এরম রাজমহল দেখলে অনেকের মাথার ঠিক থাকে না, ওরে তোকে বলেছি না এই মেয়ে তোর উন্নতি দেখতে পারে না,

এমন একটা বেহায়া মেয়েকে ধরে এনেছিস, একে রেখে আয়ে একে ফ্ল্যাট এই রেখে আয়ে,’’ শাশুড়ির কথা সবে ফুরিয়েছে হটাত দড়াম একটা শব্দে সবাই চমকে উঠল। অন্তিমা দৌড়ে রান্না ঘরে গিয়ে দেখে যে যত কাঁচের গ্লাস ছিল সব একসাথে যেন কেউ ফেলে দিয়েছে।

কিন্তু আশ্চর্য কেউ নেই কথাও।অনি পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে এল –“ একি এরম ভাবে সব গ্লাস পড়ল কিভাবে? ’’ অন্তিমা- “এখানে কিছু একটা আছে, যেটা অশুভ,” পেছন থেকে শাশুড়ি এসে বলল-“ সে আর বলতে? তুমিই বা কম কি যাও? দেখ দেখলি আজকেই বলল আর দেখ এক মিনিট  যেতে না যেতেই ।’’ অনি- উফ তোমরা চুপ কর তো।

আসল বিপদ তো সন্ধ্যে বেলায় বোঝা গেল। শাশুড়ি সন্ধ্যে বেলায় স্নান করে সবে বেড়িয়েছেন, বেড়িয়ে উঠানে যাবেন বলে সিঁড়ি দিয়ে নামতে যেতে তাঁর মনে হল কেউ যেন তাকে পেছন থেকে এক ধাক্কা মারে, পরে গুরুতর জখম হন উনি।

অনি ডাক্তার ডেকে আনে, ডাক্তার পরিক্ষা করার পর বলেন-“ আঘাত গুরুতর হলেও হাসপাতালে দেওয়ার দরকার নেই, বাড়িতেই যত্ন নিতে হবে তবে বেশি কাজ করা যাবে না, আমি ওষুধ লিখে দিচ্ছি সময় মতো খাওয়াতে থাকবেন।’’

শাশুড়ি মা আধ শোয়া অবস্থাতেও বলতে থাকলেন- “অনি, আমাকে ধাক্কা মেরেছে, ধাক্কা মেরেছে আমায় পেছন থেকে”

অনির্বাণ কি বলবে ভেবে না পেয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকল।

এরপর দু দিন বেশ নির্ঝঞ্ঝাট কাটল কিন্তু ঘটনাটা ঘটল তৃতীয় দিন রাতের বেলা। আবার সব কাজের পর অনির্বাণ অন্তিমা নিজের ঘরে শুয়ে, বেশ কিছুক্ষন পর অন্তিমার মনে হতে থাকে আজকেও যেন কেউ তাঁর পাসে বসে, চোখ মেলে সে দেখে আবার সেই বাচ্চা ছেলেটির মূর্তি ,

সেই জ্বলন্ত চোখ, উফ কি বীভৎস, সে যেন আজকেও কিছু একটা খুঁজছে, এদিক ওদিক হাতড়াতে হাতড়াতে তাঁর হাত পরে অন্তিমার লকেট টার ওপর, সে সেটা ভাল ভাবে দেখতে থাকে, কিন্তু অন্তিমা আর থাকতে পারে না,

সে উঠে পরে কিন্তু না আজকেও আবার কেউ নেই, কিন্তু আজ্ তাঁর ভুল কোনভাবেই হয়নি, আজ যা দেখেছে সব সত্যি ধ্রব সত্যি । সে অনির্বাণ কে ডেকে তোলে-“ অনি, অনি, তোমায় বলেছিলাম না, এখানে কিছু একটা আছে, আজ সে আবার এসেছিল, আমি দেখেছি, না,

আমরা এই বাড়ীতে থাকব না, কিছুতেই থাকব না। আমরা এই বাড়ি ছেড়ে দেব, আজকেই ছেড়ে দেব, আমি থাকব না ।’’ হটাত একটা সজোরে থাপ্পড় এসে পরে, অন্তিমা চমকে উঠে দেখে অনির্বাণ রুদ্র মূর্তি ধরে দাঁড়িয়ে আছে-“যেদিন থেকে মা বলেছে সন্দেহ সেদিন থেকেই ছিল,

তুমি, তুমি চাওনা আমার উন্নতি, আমি ভাল থাকি, আমার ভাল তুমি দেখতে পারনা, তুমিই মাকে ধাক্কা দিয়েছ, তোমার জন্য আজ্ মায়ের এই অবস্থা, আর আমি বরদাস্ত করবনা, তুমি যেতে চাও তাই না, বেশ চল যাও, এক্ষুনি বেড়িয়ে যাও, বেরিয়ে যাও আমার ঘর থেকে।’’

এই বলে অনি অন্তিমার হাত ধরে টানতে থাকে। অন্তিমা কাকুতি-মিনতি করতে থাকে, সে বলতে থাকে যে সে কিছু জানে না, তাঁর জন্য অনির মায়ের এই অবস্থা নয়। কিন্তু অনি শোনার পাত্র নয়, সে টানতে টানতে তাকে বের করে দিতে যাবে হটাত,

ঘরের সমস্ত আলো জ্বলতে নিভতে লাগল, দরজা জানালা দড়াম দড়াম করে খুলতে আর বন্ধ হতে লাগল, ঘরে যেন প্রচণ্ড বাতাস তাণ্ডব করছে, হটাত অনির চোখ যায়  দরজার দিকে দরজার ফাঁক দিয়ে একটা বাচ্ছা ছেলের মূর্তি উঁকি মারছে, আসতে আসতে সে ঘরে প্রবেশ করে, হামাগুড়ি দিতে দিতে অনির দিকে এগিয়ে আসে, সে অন্তিমা কে কিছু করল না,

কিন্তু ধীরে ধীরে অনির দিকে এগিয়ে আসতে থাকল, কি বীভৎস চেহারা তাঁর, চোখ দুটো জ্বল জ্বল করছে, চোখ থেকে যেন প্রচণ্ড ঘেন্না ঝরে পরছে, অনি পেছনে সরতে থাকে, সরতে সরতে তাঁর দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেল, সে দেওয়াল ধরে বসে পড়ল,

ছেলেটির মূর্তি এগিয়ে আসতে আসতে ওর প্রায় বুকের কাছে চলে এল, এসে অনি কে পরখ করতে থাকল, এই বুঝি অনি কে গিলে খাবে, অনির প্রায় অজ্ঞ্যান হওার যোগান, এমন সময় অন্তিমা এসে ওর পাসে বসল, জোর হাত করে ও বাচ্ছা ছেলেটিকে বলতে থাকল-“তুমি ওকে ছেড়ে দাও, আমি জানি না তুমি কে কিন্তু ওকে কিছু কর না,

ওর কিছু হয়ে গেলে আমি বাঁচব না, ওকে কিছু কর না তুমি।’’ ছেলেটি অন্তিমার দিকে ঘুরে তাকাল, এবার সে আসতে আসতে পেছনে সরতে থাকল, প্রায় পাঁচ হাত দূরে সরে সে জবুথবু হয়ে বসল।কিন্তু একি, কথায় সেই বীভৎস চেহারা? কথায় সেই জ্বলন্ত চোখ ?

তাঁর জায়গায় এক ফুটফুটে দেবশিশু বসে, কি অপরুপ তাঁর চেহারা, যেন সাক্ষাৎ স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে।এবার সে উঠে দাঁড়াল, আসতে আসতে অন্তিমার কাছে এসে তাঁর হাত ধরে টানতে থাকল, অন্তিমা উঠে দাঁড়াল, সে অন্তিমা কে হাত ধরে আবার সেই হলঘরের দিকে নিয়ে গেল। হলঘরে এসে তারা আবার দাঁড়াল সেই জমিদারের ছবি টার দিকে।

ছবিটার সামনে দাঁড়িয়ে ছেলেটি একবার জমিদার বাবুকে একবার অন্তিমাকে ভাল করে দেখে নিল এবং সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে গেল, ছবি টার উল্টো দিকে যে জানালাটা ছিল সেটা দড়াম করে খুলে গেল। পেছনে অনি এসে দাঁড়িয়ে ছিল, সে অন্তিমার পিঠে হাত রেখে দাঁড়ায়, দুজনে কিছু বুঝে উঠতে পারছিল না।

ওই এলাকার সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ হরিপদ বাবু, ওনাকে সব ঘটনা বলার পর,উনি যে তথ্য দিলেন তা হল-“ আগেকার দিনে,অনেক জমিদার লোক, যাদের বংশের বিশেষ কেউ ছিল না, তাঁরা যক্ষের কাছে নিজের সম্পত্তি দিতেন, এর জন্য কোন এক বাচ্ছা ছেলেকে পুজা ও তন্ত্র মন্ত্রের সাহায্য নিজের সম্পত্তিতে আটকে রাখতেন।

ছেলেটি মারা যাওয়ার পর তার আত্মা এই সম্পত্তির রক্ষনা বেক্ষন করে, যতদিন না সে সেই জমিদারের কোনরূপ বংশধরের হাতে এই সম্পত্তি তুলে দিচ্ছে। তোমাদের ঘটনা শুনে আমার এটাই মনে হচ্ছে যে তুমি কোন না কোন ভাবে এই জমিদারের বংশের কেউ হবে,

তোমার হাতেই সম্পত্তি তুলে দিয়ে আজ ছেলেটি মুক্তি পেল…আগের মালিক বিক্রম বাবুর হাতে সম্পত্তি বেদখল হতো বলেই ও ওনাকে থাকতে দেয়নি, কোনরূপ ভয় দেখিয়ে তাড়িয়েছে। তবে এরপর আর তোমাদের ওই বাড়ীতে থাকতে কোন অসুবিধা হবে না ।

সব শুনে অন্তিমা আর অনির্বাণ যখন নিজেদের বাড়ীতে এল অন্তিমা প্রথমেই গিয়ে আবার সেই ছবিটার কাছে দাঁড়াল, এবং কি মনে করে একবার ছবি টায় প্রনাম করে নিল…।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: