পাহাড় চূড়ার মিতালি যেখানে

311233

কবিতার বিষয়বস্তু হল শাড়ি যা প্রায় সব মহিলা দের ই সবথেকে পছন্দের পোশাক। যতই অন্য পোশাক হোক শাড়ি একটি বা দুটি চাই ই চাই!! কিন্তু অনেকেরই এটা হয়তো হয়ে থাকে আমার মতন, যখন আমরা আলমারি খুলি তখন পুরোনো শাড়ি গুলো দেখে মনে দুঃখ হয় আর মনে মনে বলি “কোথাও তো সেরকম যাওয়া হয় না, শাড়িগুলো শুধু জমছে। কবে যে এগুলি আবার পড়বো?!!” কি ?মনে হয় তো?

এই আলমারিতে পড়ে থাকা শাড়ি রা বিদ্রোহ করছে এমন একটি কাল্পনিক পটভূমিতে একটি স্বরচিত কবিতা হচ্ছে “শাড়ির বিদ্রোহ”….

.

.

শাড়ির বিদ্রোহ  //  উমা ভট্টাচার্য

কাল রাতে স্বপ্নে আমি চমকে উঠে দেখি…

আলমারি টার কপাট খোলা, শাড়ি গুলো দিচ্ছে উঁকি।

সবুজ তাঁত টা হাসছে দেখি আমার দিকে চেয়ে

আমি তখন ধরমরিয়ে এক্কেবারে ঘেমে নেয়ে।

নীল সিল্ক টা বলল হেসে “কাল পড় না আমায়।।”

সব শাড়িদের একই কথা, কে যে কাকে থামায়।

আমি বললাম নীল শাড়ি কে “কাল পড়বো তোমায়”।

ওমনি হলুদ সিল্ক বললো রেগে  “আমরা কি সব ফেলনা নাকি? থাকবো নাকি কোনায়??”

আমি তখন হতভম্ব, কাকে যে খুশি করি!!

শাড়িগুলো সব বিদ্রোহী আজ, কি যে কেলেঙ্কারি!!

হঠাৎ আমার পড়লো মনে… এবারেও তো নিয়েছি আমি ভালো একটা শাড়ি,

পুজোয় সেটা পড়ে আমি করবো ঘোরাঘুরি।

জানিনা আমার ভাবনা টা শুনলো নাকি শিফন,

ব্যাঙ্গ করে বললো তাই “কেনার সময় আমরা তোমার যেন কত আপন!!

 তার পরে তে যাও যে ভুলে নুতন শাড়ি পেলে!!

আমরা তোমার খেলার পুতুল, এই ভেবে যাও খেলে।।”

এসব শুনে আলমারি টা বন্ধ করে দিলাম,

কিনবো না আর শাড়ি-টারি এই প্রতিজ্ঞা নিলাম।।

সারা বছরে কিনি না আমি  খুব যে দামী দামী শাড়ি,

বেরোনো বিশেষ হয় না বলে শাড়ির সাথে আড়ি।।

দুঃখ বুঝি শাড়ি গুলোর, দোষ দিই না ওদের,

আলমারিতে বদ্ধ থাকতে ভালই বা লাগে কাদের??

.

.

.

তোমাকে চেনে   //  ফরহাদ হোসেন

তোমাকে চেনে রবীন্দ্রনাথ,

দেশ-বিদেশের কত যে কবি!

কি অপরুপ তোমার রুপ

প্রতি লাইনে তারি পদধ্বনি।

তোমাকে চেনে বিকেল বেলার

শান্ত মৃদুমন্দ বাতাস।

একলা মাঠে,

একান্তে প্রেমিক মনে

তোমার কথা গুনগুনিয়ে

বাতাসেরা কোথায় যেন ছুটে।

তোমাকে চেনে পাহাড়,

তোমাকে চেনে নদী;

তোমাকে চেনে উদাস চোখের পানি !

.

.

.

গোপনচারিণী //  সুদীপ ঘোষাল

 মন থেকে আনন্দ বিয়োগ করলে 

পড়ে থাকে শুকনো শরীর 

অথচ মীরার যাবার কথা ছিল না 

একটা অজুহাত জুটে গেলে 

পূর্ণিমা রাতের স্মৃতি বুকে কান্না

সহস্র মাইল জুড়ে অতর্কিতে হানা

তারপর সে এক অন্য তাজমহলের কাহিনী 

ইতিহাস চাপা পড়ে গেছে শিল্পীর কাটা হাতে 

অথচ প্রেমিক অর্থবান হলে, শ্রমিক শোষণে

তৈরি হয় অসংখ্য মনছাড়া শুষ্কভাবের প্রেম 

যেখানে তাজমহলের মত চার দেওয়ালের মাঝে কাঁদে 

বিচ্ছেদের বিরহ সুরে হারিয়ে যাওয়া ব্যাথা   

প্রশ্ন চিহ্নের মত  থেকেই যায় বাধা 

প্রেমিকার হৃদয়ে আসল প্রেমিকের গাথা…  

.

.

.

আজও বুঝিনি বাবা  //  রাজীব লোচন বালা

আমি অতি অধোমতি না বুঝে তোমার প্রেম-প্রীতি

হাজার কষ্ট-অভাবের মাঝেও তুমি দাওনি সন্তানে কোনো ত্রুটি।

সকাল হতে সন্ধ্যা কাজ করে ফেরার পথে, এনেছ যা চেয়েছি তাই_

আমি কোনোদিন বোধয় জিঙ্গাসাও করি নি বাবা তোমার কী চাই। 

আজও বাবা মনে পড়ে সেই দিনগুলো, যেদিন আমি কেঁদে উঠতাম অভিমানে

কত কিছু -কত আদর দিয়ে জড়িয়ে ধরতে তুমি বুকে টেনে।

তোমারও তো ছিল বাবা কত আশা কত সাধ জীবন ঘিরে

সন্তানের মুখের হাসিতে, তুমি সব ভুলে গিয়ে আমায় দিয়েছ ভরে।

পিতার দায়িত্ব পালন করতে করতে মোমের মতোই তুমি গলেছো 

আমার আলোর সাফল্য দেখিয়ে তোমার দু’চোখে জল ভরে রেখেছো।

তুমি-আমি একসাথে কত পথ কত দূর হেঁটেছি-চলেছি,

কত ব্যাথা যন্ত্রণা বুকে চেপে তুমি বাবা বলেছো আমি তো ভালোই আছি।

বাবা বাবা বাবা পিতৃত্বের এই অবগুন্ঠতায় তুমি সব দিলে নিরঞ্জন ,

সমীরণের শত গানে, সলিল মাঝে ভাসে এক পুরুষের অবগুন্ঠিত মন।

.

.

উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের   My heart leaps up when I behold  নামক কবিতার ভাবালম্বনে

 

হৃদয় জাগেরে  //  রণেশ রায়

 

বর্ষা শেষে পুলক জাগে আকাশে,

বিচিত্র সে রঙের মেলা,

সাতরঙা রামধনু খেলা করে বাতাসে,

কে যেন ইশারায় ডাকে

আমার হৃদয় জেগে ওঠে হরষে

আমি স্পর্শ করি তাকে,

আমার সে জন্ম লগ্নে

সূর্যের কিরণ ঝরে

আজের মতই সেদিন,

জীবন দীপ জ্বলে ওঠে ঘরে,

কোন এক আলো আঁধারে

প্রানের স্পন্দন শোনা যায়

আনন্দ বার্তা দিকে দিকে

ফুলের সুবাস রাতের জ্যোৎস্নায়।

দিন আসে রাত যায়

জোয়ার ভাটা এ জীবনে,

আমি বেড়ে উঠি,

পাখির কুঞ্জন মহুয়া বনে।

আজের এই গোধূলি বেলায়

ডাক আসে দিন শেষে

নিতে হয় আমাকে বিদায়,

ঘুমিয়ে পড়ে শিশুর পিতা

বাঁচে সে শিশুর অন্তরে,

ফেলে আসা দিনগুলো বাঁধা থাকে

পরস্পর কর্তব্য বন্ধনে

আমি খেয়া বাই এ দিগন্তে

দিন শেষে মিলি এসে অন্তে।

  

.

.

.

বসন্ত এসেছে  //  সঞ্জীব ধর

আম্র কাননের বিটপ শাখায় কোকিলরাজ কুহুকুহু গায় পঞ্চম স্বরে
এসেছে বসন্ত, এসেছে বসন্ত, কবি, আছো কেন
বসে, ম্লানমুখে?
উঠে এসো, উঠো এসো, এসো এসো একবার ভগ্ন মন্দির ছেড়ে
দেখো দেখো কত ফুল নুইয়ে নুইয়ে পড়ে কালো ভ্রমরের ভারে
দেখো পারিজাত ফুলের কি সমারোহ কবে গাঁথবে মালা?
ডালে ডালে কত লাল কৃষ্ণচূড়া দোলে, কবে? কবে সাজাবে ডালা?
শাখে শাখে কত নতুন নতুন পল্লব চেয়ে দেখো, চেয়ে দেখো তুমি
কবে তুলবে সেই পল্লব? কবে সাজাবে মঙ্গল ঘটখানি?
পূজার সময় যায়, বয়ে যায়, তবে কবে পাতবে আসন?
মহাদেবের সাধন ভাঙবে বলে কামবাণ ছেড়েছে মদন।
দেখো দেখো কত নতুন নতুন অপ্সরী সেজেছে বাসন্তী রঙে
ভ্রমর কালো চুল, বেঁধেছে কত রঙিন ফুল চলেছে কোনখানে?
কবিবর, কেন আজ এত উন্মনা, রয়েছে কার প্রতীক্ষায়
বসন্ত এসেছে বসন্ত এসেছে প্রকৃতি উন্মাদ শুধু এ বারতায়
রচিতে হবে বসন্তের সংগীত তবে আছো কোন জড়তায়
নিরবতা ভাঙ খোলাস ছেড়ে ঝংকার দাও আপন বীণায়।

.

.

.

বন্ধন  যদি অটটু না হয়  //  বিকাশ দাস(বিল্টু)

কোথায় তুমি?

                পাই না যে আর।

আছে কি আজ মনে?

                     ও যে অনেকদিন আগে

হাতের উপর হাতটি রেখে

                           মন পবনের নাও বেয়ে            

 চাঁদের কিরন উদ্ভাসিত করে

         এসেছিলে আমার  ঘরে।

মন  আমার  উতলা ফাগুনে,

            হায়রে! কি যে সুখ আগুনে

                ডুবেছিলাম ।

আজও কি ভুলতে পারি….?

                               বসন্তের  দহনে,

আমি আর ফাগুন পাইনা৷

                            মধুবাসর মনে করি,

একা একা পুড়ে মরি৷

                         দূরে ওই বাসরী সুরে

মনরে আজ তোমাকেই সঁপে-

                  এ আজ সুখ তথা বিদায় ক্ষনে৷

.

.

.

ক্যামিক্যাল নগরী  //    সব্যসাচী নজরুল

মুক্ত আলো-বাতাস, হিম-শীতল হাওয়া, ঘাসের ডগায় শিশিরের স্পর্শ বিহীন এ শহর আমার নয়…! 
না না না, এ শহর আমার হতেই পারে না।

আমার শহর, হ্যাঁ হ্যাঁ আমি একটি পরিছন্ন আবাসভূমি, বাসযোগ্য আলোকিত শহর চেয়েছিলাম। 
যেখানে আমার প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাস হবে নিরাপদ। 
প্রজন্মের পর প্রজন্ম, আগামী প্রজন্ম বেড়ে ওঠবে আলো-হাওয়ায়, ফুলেল শোভায়। 
যেখানে জীবনের জয়গান উৎসারিত হবে প্রতিটি পদযাত্রায়, কোলাহলে, মিছিলে মিছিলে…

অগনিত শবদেহ ধারী, শবযাত্রা বাহী ,নিরব নিস্তব্ধ নিথর কাঁধ গুলো, অঢেল অশ্রুবহা মানুষেরা বুক চাপড়ে হাহাকার করবে না;
নেত্র নদীর অশ্রুধারা বুড়িগঙ্গার পথ ধরবে না? 
কোথায় আমার আলোকিত শহর? 
ক্যামিক্যালের লেলিহান শিখায় দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা হঠাৎ আলোর বিচ্ছুরিত এ শহর আমি চাই না, চাই না, চাই না…. 
অগ্নিকুন্ডে ভস্মীভূত অগনিত লাশের এ শহর আমার না!

ক্যামিক্যালের আশটে বিদঘুটে ঝাঝালো দুর্গন্ধ মাখা এ শহর বুঝি তোমার? 
আচ্ছা, এ সীসা দুষণে, গাছপালার ছায়াহীন এ বদ্ধ পরিবেশে তুমি দম নাও কি করে?
তোমরা, হ্যাঁ হ্যাঁ তোমরা দম নাও কি করে? 
মহাপ্রভুর অশেষ কৃপায় বেঁচে আছো বুঝি সীসা-দমের যুদ্ধে…

যেখানে দমের দাম নেই, যেখানে জীবনের দাম নেই, পদযাত্রার নিরাপত্তা নেই, হরদম বিদগ্ধ অনলে হৃদয় পোড়া জীবনের নিরাপত্তা নেই, শুধু ই নেই নেই.. 
যেখানে হরহামেশাই ক্যামিক্যালের অগ্নিকুন্ডে, ভীষণ ভয়ানক, ভয়াবহ আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ধ্বংস লীলায় নিশ্চিহ্ন সব। ধ্বংস হয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে জীবন, স্বপ্ন আশা, চাওয়া-পাওয়া সব, সব, সবকিছু…

কেবলই পরে থাকা মৃত্যু নগরী, এ যেন জনমানবশূন্য প্রাণহীন ক্যামিক্যাল নগরী! 
আচ্ছা, কেউ কি বলতে পারো, কেন কেন কেন, কেন এমন হয়? 
কেন এতো জীবন, এতো প্রাণ, বড় বেশি অসময়ে জলন্ত উত্তপ্ত আগুনে ভস্মীভূত হয়ে ছাই হয়ে বাতাসে ভেসে উড়ে যায়।

বাঁচাও, বাঁচাও, বাঁচাও.. বাঁচাও, বাঁচাও, বাঁচাও… 
বাকরুদ্ধ আওয়াজগুলো আগুনের লেলিহান শিখায় হারিয়ে যায়, হাওয়ায় মিলিয়ে যায় চিরতরে। 
ক্যামিক্যাল নগরীর আকাশে-বাতাসে মিশে যাওয়া পানি প্রার্থী, অতৃপ্ত, তৃঞ্চাত্ব আত্মারা সব সীসার আড়ালে অজস্র অশ্রু ঝরিয়ে কি যেন বলতে চায়….! 
তোমরা আমাকে বাঁচাতে পারলে না! 
তোমরা আমাদেরকে বাঁচাতে পারলে না? 
এ শহর মনুষ্য কুলের নয়, এ শহর আমার নয়। 
এ শহর ক্যামিক্যালের! 
এ নগরী আমার নয়, এ এক মৃত্যু নগরী। 
এ এক ক্যামিক্যাল নগরী ! 

.

.

পাহাড়চূড়ার মিতালি যেখানে  // সঞ্জীব ধর

নীল নীলাম্বরের সনে 
পাহাড়চূড়ার মিতালি যেখানে
পাহাড়ি কন্যা বিছিয়েছে আঁচল
নদী ছুটে চলে যার চরণ চুমে
সে ডেকে যায়
আয় আয়
তাই তো ছুটে যাই,
ছুটে যায় বারবার।
কিন্তু কালের সেই নির্মোঘ রীতি
এই মিলনের ক্ষণ
দেখ, কী ক্ষীণ অতি!
তাইতো বিদায় বেলায়
বিদায় সম্ভাষণ যেন তার মনে নাই
মৌনভাবে দাড়িয়ে শুধু চেয়ে থাকে
দু’চোখের অশ্রুধারা নদী হয়ে বয়ে যায়
এই দৃষ্টি যেন বলে,”হে পথিক,
যদি পড়ে মোরে মনে ফিরে এসো
ফিরে এসো আমার টানে।
রিমঝিম বর্ষায় যখন ময়ুরী নৃত্য করে
তখন ফিরে এসো 
পাঠাবো বার্তা মেঘকে দূত করে
এসো তখন ফিরে
আমি রইবো অপেক্ষায়
তবে আজ বিদায়
বিদায়, পথিক, বিদায়।

.

.

The Sun Dawns  //  Ranesh Ray

The sweet eve of life

In the parlance of poems

Left behind a message

If in your panorama of memory

I sneak through

In the shadow  of life

I can thrive

In the heart of you

I remain alive

My presence dances

In the court of your consent

The song is sung

Go through the paradigm

What is written

What is drawn  there

What it fetches.

Hidden treasure of life,

A garland of poems

Unfolds the truth

That inspires us

To walk together

To ride the mountain high

Walk and walk ups and downs

With our passion

With the vision of life

Our mission drives us

Till the end of night,

In the new morning

The sun dawns in the sky.

রণেশ রায়ের The Sun Dawns কবিতার ভাবানুবাদ

আজের এ ঊষালগনে  //  রণেশ রায়

জীবনের ঊষালগ্নে কবিতার জোছনায়

আমার হৃদয়ের আঙিনায়

কবিতার কাননে আমার

কবিতা আমার তোমার বার্তা রেখে যায়

তোমার চেতনার ভাণ্ডারে আমার স্থিতি

তোমার জীবনের প্রচ্ছদে আমার উপস্হিতি

আমি ধরা দিই  তোমার বাহুবন্ধনে

বেঁচে থাকি চেতনার কাননে

আমার ভাবনার গালিচায়

সে চেতনা আমাকে জড়ায়

খেলা করে আমার হৃদয় আঙিনায়

এই মিলন বেলায় কি গান সে গেয়ে যায় !

অহরহ আমার কবিতা

তোমার চেতনার আকাশে উঁকি মারে

কি কথা সে বলে যায় বারে বারে

কি বেদনা জমা থাকে সে চেতনা সৌধে

কি সত্য উন্মোচিত হয় কবিতার শব্দে !

যুক্তি তর্ক দিয়ে তাকে বুঝে নিতে হয়

বার্তা পাঠায় সে আমায়

উদয়ের পথে আমরা দুজনায়

অলঙ্ঘনীয় পাহাড় পাড়ি দিতে

চড়াই উৎরাই ধরে চলতে হয় উদয়ের পথে

পথ চলি আমরা দুজনে

জীবনের লক্ষ্য ধরে সযতনে

অন্ধকার ভেদ করে পৌঁছে যাই নব প্রভাতে

সূর্যের উদয় সে পাহাড় শিখরে

আমরা মিলি হাতে হাত ধরে

রাত  শেষে ঊষার আগমনে

মিলি এসে মানব সম্মেলনে।

.

.

বন্ধু  //   রণেশ রায়

যদি সাহসে ভর করে

হাতে হাত রেখে

পাড়ি দিতে চাই জীবন সিন্ধু

তবে তুমি আমি বন্ধু,

যদি দেখলে পরে

মুখে হাসি মোনালিসা

উপচে পরে ভালোবাসা

পরস্পরকে বোঝা

তর্ক বিতর্কে পথ খোঁজা

তবে তুমি বন্ধু আমার,

যদি পরস্পর নির্ভরশীলতা

সহমর্মিতা সহযোগিতা

কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলা

মন খুলে কথা বলা

তবে আমি বন্ধু তোমার,

যদি করি আমি আশা

পাই আমি ভরসা

তোমায় আমার বিশ্বাস

পাই আমি আশ্বাস

তবে জেনো তুমি বন্ধু আমার,

যদি অপ্রিয় সত্য তুলে ধরা

ভুলটা স্বীকার করা

হাসি ঠাট্টা তামাশা

নেই কোন জিজ্ঞাসা

তবে আমি বন্ধু তোমার,

যদি আপদে বিপদে সঙ্গে থাকা

তোমার আয়নায় নিজেকে দেখা

দুপুরের  দহনে চাতকের তৃষ্ণা

আমার দুখে তোমার চোখে বন্যা

তবে সত্যিই বন্ধু তুমি আমার

আমি অন্তর বাসনা তোমার।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: