পানাপুকুর

চন্দন চক্রবর্তী

গত প্রায় সাড়ে দশটা হবে। শনিবারে কফি হাউসে আড্ডা মেরে কবি ফিরছিলেন।

কনকনে ঠাণ্ডা। চারদিকে অনেক গাছপালা আর ফাকা ফাকা বলে বলে বাতাসও । ঠাণ্ডা মেখে হুড়ম দুড়ুম্ করছে।। কমপাউণ্ডের রাস্তাটা ফাকা। নচ্ছার গাছগুলাে রােদ-বৃষ্টি ছেডে কুয়াশার সঙ্গে লটর পটরে ব্যস্ত।

যাই হােক কবিকে ঢুকতে দেকে মেন গেটের জনাকয়েক সিকিউরিটি ছেলে উঠে দাঁড়িয়ে গুড নাইট স্যার’ বলল। কবি দাঁড়ালেন। মুখ থেকে একরাশ ঠাণ্ডা ধোঁয়া বার করে বললেন – শুভরাত্রি। সব ভালাে আছাে তাে? সুকান্ত নামের লােকটা বলল – আর ভালাে স্যার! যা ঠাণ্ডা, তার । উপর মশার উৎপাত।

– তা এক কাজ কর। কুঁচো কাঠ বা ডিমের ছেড়া বাক্স জোগাড় করে আগুন জ্বালাও। দেখবে ঠাণ্ডা আর মশা, দুটোই পালাবে। তােমাদের বয়সে পাড়ায় নাইট গার্ড ছিলাম। তখন আমরা ওই ভাবে আগুনের তাত নিতাম আর মশা তাড়াতাম।

– তা তাে করাই যায় স্যার। কিন্তু চাকরি থাকবে না। সিকিউরিটির লােক হয়ে গার্ড দেওয়া ছেড়ে আগুন পােয়ানাে ? কমিটির লােক দেখলে … বােঝেনই তাে স্যার। সবাই ততা আর আপনার মতাে নন।

– হ্যা হে বাপু। তােমরা যে সব কথায় কথায় কমিটি কমিটি কর, সেটা কী? বাঘ না। ভাল্লুক? এত ভয়ই বা পাও কেন ?

এবার জবাব দিল বিষ্ণু – স্যার, আপনি তাে জানেন না, এই আবাসনের কমিটি আছে। কমিটির দশজন মাথা আছেন। তাঁরাই আমাদের রেখেছেন। তারাই আমাদের অন্নদাতা, তাই তটস্থ থাকতে হয় সব সময়।

কবি হাসেন। মাথা নাড়িয়ে বলেন – তা ঠিক, রাবণ বলে কথা।

মধ্যবয়স্ক কবি কয়েক মাস হ’ল এখানে ফ্ল্যাট কিনে এসেছেন। নিজের বাপের আমলের বাসগৃহ ছেড়ে এখানে আসাটা, অনেকটা বাবুইবাসা ছেড়ে চড়ুইবাসাতে আসার মতাে। প্রথম প্রথম নিজের হাতে তৈরি করা বাড়িটার কথা মনে হ’ত। মনটা কেমন উদাস হয়ে যেত। ছেলের অন্নপ্রাশনের মতাে বাড়িটারও গৃহপ্রবেশ হয়েছিল।

আমপাতার শেকল, দ্বারঘটও বসেছিল, ঘটের উপর সিদুরের স্বস্তিকা …। তবে এখানে এসে ভােলা পরিবেশ, গাছপালা, পাখিদের ওড়াউড়ি দেখে কবি পুরানাে সব ভুলে গেছেন। নতুন জায়গায়। নতুনকে গ্রহণ করেছেন।  কিন্তু কমিটিতে কে বা কারা আছেন? কী তাদের কাজকর্ম, সেগুলাে কবি ঠিক জানেন না।

আর এখানে মানুষরাও তার ব্যাপারে বেশ উদাসীন। বরং তার এই সাধারণ জীবনযাত্রা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশাটা ক্ৰ কুঁচকে দেখেন। তাদের মুখে অবশ্য অনাবিল  হাসি লেগেই থাকে। আপ কা মাফিক বুজুর্গ আদমি অহা কোই নেহি …হা হা।

 এই কমপ্লেক্সে ছ’টা ব্লকে প্রায় চারশ’টা ফ্ল্যাট রয়েছে। নীচে ছােট পার্ক, কমিউনিটি হল। ইত্যাদি। কবির ফ্ল্যাট ‘বি’ ব্লকে। এ’ ব্লক থেকে ডান দিকে টার্ন নিতে হয়। রাতের। কলকাতার মতাে ঝিম মারা লম্বা রাস্তা। রাস্তায় সুদৃশ্য পেভার-ব্লক বসানাে  চিকন। আলাে।

ডানদিকে পুকুরের মাঝখানে আলাে সজ্জিত ফাউন্টেন। ঠিক কোনায় একটি ছােট। শিব মন্দির। তখনও হালকা করে গান বাজছে – ওঁ ভূর্ভুবঃ তৎ সবিতুর্বরেণ্যং..’। কৰি একটা স্বপ্ন’র জগৎ-এর মধ্যে দিয়ে হাঁটছিলেন।

হঠাৎ দেখলেন সেদিন ‘বি’ ব্লকের সিকিউরিটিতে থাকা তমাল সাইকেল চালিয়ে ফিরছে। কবি তমালকে সামনে পেয়ে। জিজ্ঞাসা করলেন – কী ব্যাপার? এত হন্তদন্ত করে কোথা থেকে ফিরছ? বাড়ির খবর। ভালো তাে?

– আর বলেন কেন স্যার, রুটি কিনতে গিয়েছিলাম। এ তল্লাটে একমাত্র রঘুর দোকানে হাতরুটি করে। আগে দাম ছিল এক টাকা, এখন বাড়তে বাড়াতে আড়াই টাকায় পৌঁছেছে। বলে – এখন বড়বড়বাবুদের পাড়া! রেট না বাড়ালে চলে। তাও যা ভিড় ! | যাই হােক রুটি শেষ হয়ে গেছে। দোকানের ঝাপ ফেলে দিয়েছে। কী ঝামেলায় যে পড়লাম ।

– সেদিন যে বললে বাড়ি থেকে বউ খাবার পাঠিয়ে দেয়। তার কী হল?

– আজও দিয়েছে স্যার। কিন্তু একটা গণ্ডগােল করে বসেছে। দুটো বাক্স থাকে, একটাতেকটি অন্যটিতে তরকারি। আজ ভুল করে দুটোতেই তরকারি দিয়ে দিয়েছে, রুটি দেয়নি। আজ ও শুধু রুটি খাবে আর আমি শুধু তরকারি। …কী ফ্যাসাদে যে পড়লাম। | কৰি মুহূর্তর জন্য কী ভাবলেন। তারপর বললেন – তমাল, তুমি আমার সঙ্গে  এসো ।

-কেন আবার, আমার গিন্নি রুটিটা ভালােই করে। ও এই সময়েই গরম গরম রুটি বানায়। তা তােমার জন্যও না হয় দুটো বানিয়ে দেবে।

-না স্যার, কী দরকার। একরাত্রির তাে ব্যাপার। আমি ঠিক চালিয়ে নেব।

– যা বলছি তাই কারাে। তোমার বউ, তার নিজের জন্য তরকারি বানিয়ে নিতে পারবে। তুমি তাে তা পারবেনা।

তমাল নিচু স্বরে বলে -স্যার, তাহলে দুটো নয়, চারটেকটি। কবি হা হা করে হেসে ওঠেন। তমালের সরল মুখে তখন অপ্রস্তুতের ভাৰ।

-তোমার কোনও চিন্তা নেই। চারটিই পারে। লিচটাগুৰবড়। অনেক লোক একসঙ্গে ওঠা-নামা করতে পারে। কৰি থাকেন সাত তলায়। লিফটচলছে। তমাল ইতস্ততকরেবলে স্যার, এতরাতে ম্যাডামের অসুবিধে ।

মল্লিকা সৰ শুনে বলেন – অসুবিধে কেন হবে? আমায় তাে রুটি করতেই হবে।

আমায় তো রুটি করতেই হবে । আমাদের বাবু তো আবার গরম গরম রুটি ছাড়া খেতে চান না । তমাল  একটা কিন্তু কিন্তু ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে । মিনিট পনেরো মধ্যে রুটি নিয়ে সে  চলে যায় যাওয়ার আগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভোলে না ;

মিনিট দশেক পরে কবির ফ্ল্যাটের ডােরবেল বেজে ওঠে। তিনি কিছুটা অবাক হন। এতরাতে আবার কে এল? এখানে তাে সচরাচর কেউ কারও ফ্ল্যাটে আসেনা। তাহলে?

খুলে দেখেন তমাল কাচুমাচু মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে।

-স্যার, যদি কিছু মনে না করেন, একটা অনুরােধ ছিল। কবি একটু ইতস্তত করে বললেন -কী, বল?

– এক বাক্স তরকারি বেশি হয়ে গেছে। আলুপােস্ত। আমার বউ খুব ভালাে রাঁধে। আপনাদের খেতে ভালােই লাগবে নেবেন?

আলুপােস্ত’র নাম শুনে কবির চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল। জিভে জল সুড়সুড় করে উঠল! কতদিন হ’ল পােস্ত’র তরকারি খাওয়া হয়নি। হঠাৎই চোখের সামনে ভেসে উঠল মা রাঁধছেন গ্রামের বাড়ির উঠোনে। আগুনের তাতে মুখটা লাল হয়ে গেছে।

ধোঁয়ায় চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে। তবুও মারধছেন ছেলের জন্য। পােস্ত, জিরে বাটা দিয়ে মাছের ঝােল বা কলমি শাক ভাজা। সময় যাচ্ছে দেখে তমাল ভাবল, কবি রাজী নন। পােস্ত হয়তাে তার পছন্দ নয়। অথবা পােস্ত খান না।

– ঠিক আছে স্যার, থাক তবে। আমি চললাম।

কবি হাত বাড়িয়ে বাক্সটা নিয়ে বললেন – ভাগ্যিস তােমার স্ত্রী ভুল করে দু’ বাক্স তরকারি পাঠিয়েছিল। আলুপােস্ত আমার খুব প্রিয়। কতদিন যে খাইনি!

 খবরটা চাপা রইল না। কিছু কিছু বাসিন্দার কানেও পৌঁছােল। কবি সিকিউরিটির লােকদের মাথায় তুলছেন। তাদের সঙ্গে রুটি-তরকারি খাওয়াও শুরু করেছেন। খবর গেল কমিটির কাছে। ককটেল কমিটিতে বাঙালি-অবাঙালি সব ধরনের মানুষ আছেন। সভাপতি সাম বাজোরিয়ার নিউ মার্কেটে গারমেন্টের দোকান ছাড়াও হাবিজাবি অনেক ব্যবসা আছে !

দু’ তিনটে বড় গাড়িও আছে। সম্পাদক, অধিকারী মশাই এক সময়ের জমিদার। এখন প্রােমােটার। মাঝেমাঝেই কমিউনিটি সেন্টারের সামনে, পার্কে বা চওড়া রাস্তায় তারা জটলা করেন। প্রথমে ফিফি পর্যায় ছিল তারপর গলার জোর বাড়ে।

– খেয়াল করে দেখছেন, ব্যাটারা আজকাল ঘাড় নাড়িয়ে গুড মর্নিং, গুড ইভনিংবা গুড নাইট কিছু বলে না। শুধু ঝােলা কাঁধে কবিকে দেখলে তাকে সম্বােধন করে।

-না না, এভাবে ডিসিপ্লিন ব্রেক করতে দেওয়া যায় না। আগে ওরা কেঁচোর মতাে থাকত। এখন খােলস বদলে সাপ হতে চাইছে।

—হু ! এরপর তাে মানবেই না। বাইরে গেস্টদের সামনে গুড ইভনিং স্যার’বলে ঘাড় নাড়াটাও তাে একটা স্টেটাস সিম্বল। সেটা না পেলে ইজ্জত বলে কিছু থাকে?

-তা হলে আর বেশি দাম দিয়ে ফ্ল্যাট কেনা কেন?

এইসব কথা চলতে থাকে। করিনে যে সে-সব কথা আসে না, তা নয়। সেদিন খেতে বসেকবি-গিনি মল্লিকা বললেন – কিথ চোরের মান্না-গিন্নি কী বলছেন জানো ?

– কী ?

– সিকিউরিটির লােকদের আশকারা দেবেন না। মাথায় উঠবে। আগে টক দোকান-বাজার করতে বললে করে দিত। আজকাল বাহানা দেয়, করতে চায় না।

– সে কী! ব্যক্তিগত কাজ করান নাকি? – অল্পবিস্তর সবাইয়ের কাজ করে। বিশেষ করে যারা কমিটিতে আছে লাল – ওঃ। ওঁর স্বামী বুঝি কমিটির লোক ? – হ্যা, ট্রেজারার। মান্নাবাবু কোনও এক ব্যাঙ্কে চাকরি করতেন। ভলেনটিয়ারি রিটায়ারমেন্ট নেওয়ার পর বসে বসে খান। অনেক পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষও তিনি। খুব মেজাজী লােক।

যাকে বলে বিনা মেঘে বজ্রপাত। কদিন পরেই গােটা কমপ্লেক্সে হুলস্থুল কাণ্ড। সি. বি. আই রেড করেছিল সভাপতি বাজোরিয়ার সি-ব্লকের পাঁচতলা ও দশতলার ফ্ল্যাট। দুটো সুদৃশ্য ফ্ল্যাটের প্রতিটি কোনা আগাপাশতলা তল্লাসী চালিয়ে বেআইনি টাকা ও সােনার বাট বাজেয়াপ্ত করেছে তারা।

ফ্ল্যাট সিল করে, বাজোরিয়াকে অ্যারেস্ট করে নিয়ে গেছে। এরকম তাে হামেশাই হয়। কিন্তু রাগ গিয়ে পড়ল গেটের সিকিউরিটিদের উপর।

– তােমরা ওদের ভিতরে ঢুকতে দিলে কেন? – দেখুন পুলিশের অতগুলাে লােক যদি.. – তারা তাে সিভিল ড্রেসে ছিল। পুলিশের লােক তাে না-ও হতে পারত? —কী যে বলেন স্যার? সরকারী ছাপমারা আইডেনটিটি কার্ড দেখিয়ে ছিল। – পড়াশােনা কতদূর তােমার ? – আজ্ঞে, পড়ার জন্য যেটুকু দরকার, তা আমার আছে।

সেক্রেটারি অধিকারীবাবু বললেন – ঠিক আছে তা না হয় মানলাম। কিন্তু গেট থেকে তাে ‘সি’ব্লক যেতে অনেক সময় লাগে। ফোনে বাজোরিয়াকে সাবধান করে দিলে ।

কেন ?  উনি কেটে পড়ার সুযােগ পেতেন।

– আজ্ঞে, ওরা নিষেধ করেছিল। ট্রেজারার মান্নাবাবু প্রচণ্ড ক্ষেপে গিয়ে বলেন – শালা, মাইনে কি পুলিশ দেয়? .. দেখি তােদের চাকরি থাকে কী করে?

কবি হাতে দুধের পাউচ নিয়ে ফিরছিলেন। জটলা দেখে দাঁড়ালেন। ইতিমধ্যে গত রাতের ঘটনা কবি জেনে গেছেন। কিন্তু বুঝতে পারছিলেন না এখানে জটলা কেন?

মান্নাবাবু ঠিকরে বেরিয়ে এলেন – দেখেছেন, আপনার আশকারা দেওয়ার ফল। ওরা যদি একটু তৎপর হয়ে ফোনটা করে দিত…।

কবি গম্ভীর গলায় বলেন তা বুঝলাম। কিন্তু একজন কালাে টাকার কারবারি অ লােকের সম্মান বাঁচানাের জন্য এত উঠে পড়ে লেগেছেন কেন?

মান্না কিছুটা হকচকিয়ে যান। আমতা আমতা করে বলেন – যা বাব্বা ?  উনি  যে  

আমাদের সভাপতি হন?

– ও তাও তাে বটে। ভাগ্যিস ওইসব কমিটিতে আমি নেই। বলে হাঁটা লাগান। সেক্রেটারি এগিয়ে এসে মান্নাবাবুকে বলেন –কথাটা তাে ঠিক। কিন্তু আবার এঁদের হলেও চলে না। পুজোর চারদিন চর্ব্যচোষ্য খাওয়া ফ্রি-তে। লাখ টাকা ডােনেশন … কোথা থেকে আসবে শুনি? এই সব কবির মতাে লােকরা বুঝবেন না !

কমপ্লেক্স-এর অনেক মানুষ ইতস্তত ভিড় জমিয়েছিলেন। সবার চোখেমুখে একই প্রশ্ন –‘ব্যাপারটা কী? পুলিশ কেন এসেছিল ?  চিটফাণ্ড কেস নাকি ?

সব যেন বিশাল এক পুকুরের কচুরিপানা। ঢিল পড়তে একটু দূরে সরে গিয়েছিল। এখন আবার জড়াে হয়েছে। কারও দুশ্চিন্তা বাড়ল, কারও মজা হ’ল। একসময় জটলা হালকা হয়ে যায়। কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে যায়, এবার কার পালা ?

গল্প’র ভূতের মতাে লম্বা হাত বাজোরিয়ার। লম্বা হতে হতে গুজরাট, দিল্লি ঘুরে এসেছে। বাজোরিয়ার বজরা আবার ভেসে চলেছে সর্বত্র।

সিকিউরিটির লােক হাঁ করে দেখে, সত্যিই বাজোরিয়া স্যার আবার কমপ্লেক্সে ফিরে এসেছেন।

সব আগের মতােই চলছে। কবি রােজ ঝােলা কঁাধে রাত করে ফেরেন। দেবদারুর চিকন ছায়া-আলাে মাড়িয়ে বাড়ি ফেরেন। ঝর্নার জল আলাে মাখে, ঝরে পড়ে অঝােরে রােজ। শিবমন্দিরে বাজোরিয়া বা বােস সবাই রােজ মাথা ঠোকে।

তমাল বলে – গুড নাইট স্যার। কবি –আলুপােস্তটা কিন্তু বড় ভালাে হয়েছিল।

– এবারে একদিন এঁচোড়ের তরকারি খাওয়াব স্যার। … যদি আপনার আপত্তি না থাকে।

– ধুর আপত্তি! কতদিন এসব খাওয়া হয় না। লিফটে দেখা হ’ল মান্নাবাবুর সঙ্গে। মাথা না তুলে জিজ্ঞেস করলেন – কেমন আছেন? কলম চলছে?… জানেন তাে বাজোরিয়া রিজাইন করেছে।

কবি হেসে ঘাড় নাড়েন – হুম। মান্না বলেন – সত্যিই, আপনার কলমের জোর আছে। কবি আবার বলেন – হুম। পাচতলায় নামার সময় মান্নাবাবু বলেন – গুড নাইট। – শুভরাত্রি। লিফটের মধ্যে তখন অনেক জ্যোৎস্না-আলাে।

 

 

বাক্প্রতিমা সাহিত্য পত্রিকা থেকে সংগৃহীত

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: