পাঠকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে

.
শ্রুতিসাহিত্য  = লেখার জগতে কি ভাবে এলেন – প্রথম লেখাটির বিষয়ে কিছু বলুন ।
.
সম্পূর্ণা সাহা = ছোট ছোট ঘটনা লিখতে আমার আগেই ভালো লাগত।বিষয়টা অনেকেই জানত।তাই কলেজের ওয়াল-ম্যাগাজিনের জন্য লেখার কথা বলেন তাঁরা।প্রথমবার একটা বড়গল্প লিখলাম।অনেকের থেকে গল্পটার প্রশংসা পেলাম।এরপর বন্ধুদের উৎসাহে শুরু করলাম লেখালেখি।
.
শ্রুতিসাহিত্য  = লেখা কি শিখে লেখা যায়  না কোনো অনুভবের প্রয়োজন  আছে ? 
.
সম্পূর্ণা সাহা = আমার মনে হয় লেখালেখি বিষয়টা শিখে কোনোদিন সম্ভব নয়,অনুভব করা দরকার।শিখতে হলে ভাষা সম্পর্কে বিভিন্ন জিনিস শেখা দরকার।তবে লেখার মূল বিষয়গুলো কোনোদিন শেখা সম্ভব নয়।
.
শ্রুতিসাহিত্য  = বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ কি ভাবে আরো উজ্জ্বল করা যায় ?
.
সম্পূর্ণা সাহা = বাংলা ভাষার গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি করতে হবে।এখনকার দিনে অনেকে বাংলা সাহিত্যচর্চা করতে চান না।বাংলা সাহিত্য পড়তে চান না।এইসব মানুষের কাছে বাংলা সাহিত্যকে বেশী আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে হবে।সাথে নতুন যুব সম্প্রদায় ও ভবিষ্যত প্রজন্মকেও বাংলা সাহিত্যচর্চার জন্য অনুপ্রাণিত করতে হবে।
খুব সাম্প্রতিক আমাদের শহরে একটা বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।মেলায় একটা বছর সাত-আটেকের মেয়ে তার মায়ের সাথে এসেছিল।সে মায়ের হাত ছাড়িয়ে এগিয়ে গেল একটা বইয়ের স্টলের দিকে,কিছুক্ষণ পরে এসে তার মা-কে মুখ বেঁকিয়ে বলল-“ওগুলো সব বাংলা বই।আমি তো বাংলা বই পড়ি না”।
এইসব শিক্ষার্থীদের সাথে বাংলা ভাষার আলাপ করাতে হবে।নাহলে এভাবে পুরো প্রজন্ম যদি ধীরে ধীরে বাংলা ভাষা ত্যাগ করে তবে ভবিষ্যৎ সত্যি অন্ধকার।
.
শ্রুতিসাহিত্য  =ইদানিং কোন কোন পত্রিকায় লিখছেন  ?
.
সম্পূর্ণা সাহা =পত্রিকা বলতে বর্তমানে কিছু ওয়েব ম্যাগাজিনের জন্য লিখছি। তবে বিশেষতঃ লেখালেখিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো পেজ বা নিজস্ব প্রোফাইলের টাইমলাইনে দিয়ে থাকি।
.
শ্রুতিসাহিত্য  = ফেসবুক  কি  বাংলা সাহিত্যকে নতুন কোনো আশার আলো দেখাচ্ছে ?
.
সম্পূর্ণা সাহা = আসলে ফেসবুক সহজলভ্য গণমাধ্যম।ঘরে বসে পৃথিবীর অন্যপ্রান্তে পৌঁছানো যায় এর মাধ্যমে।বাংলা গল্প-কবিতা-উপন্যাস এর মাধ্যমে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছায়।বই ঘেঁটে পড়তে চায় না যারা তাদের কাছে ভাষাটা এইভাবে সহজে পৌঁছায়।ফলে পাঠক বৃদ্ধি পায়।অনেক লেখকের সৃষ্টি হয়।তাদের মধ্যে থেকে সত্যি যদি বড় লেখকদের আত্মপ্রকাশ ঘটে,তবে প্রকৃতভাবে সাহিত্য আশার আলো পেয়েছে বলা যাবে।কিন্তু ওই যে বললাম অন্যদিকে পাঠকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।সেই বিচার তাহলে বলা যেতেই পারে যে ফেসবুক বাংলা সাহিত্যকে একটু হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে।সবাই তো সেরা হতে চায় না,কেউ কেউ অল্পতেই খুশি হয়।
.
শ্রুতিসাহিত্য  =ভালো লেখা  লিখতে গেলে কি  ধরণের বই পড়তে হবে  ?  আমরা কবিতার কথা বলছি
.
সম্পূর্ণা সাহা = বই পড়ে কী কবিতা লেখা শেখা যায়? কবিতার জন্য আসলে প্রয়োজন কবির বুদ্ধির।স্বল্প শব্দে তাঁকে অনেক কথা লিখতে হবে,যেখানে শব্দগুলোর মধ্যে প্রচ্ছন্ন থাকবে অনুভূতি,কল্পনার জগতটা বিস্তারিত হবে কবির মন থেকে পাঠকের মনে,সে ছন্দ না মিললেও হবে।তাই বই পড়ে কবিতা লেখা যায় কি না বলতে পারবো না ঠিক।
.
শ্রুতিসাহিত্য  = লেখকের  কোন    গুণ  থাকাটা  সবচেয়ে বেশী জরুরী ?
.
সম্পূর্ণা সাহা =লেখককে বুঝতে পাঠকের মন।লেখক লিখবেন এমনভাবে যেন পাঠকেরা পড়ার সময় একবার হলেও বাস্তবের সাথে-নিজের সাথে মিল খুঁজে পায়।
.
শ্রুতিসাহিত্য  = বর্তমানে আপনি কি ধরনের লেখা বেশী  লিখছেন ?
সম্পূর্ণা সাহা = ছোটগল্প লেখালেখিতে আজকাল বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।
.
শ্রুতিসাহিত্য  = আপনার কাছে ভালো লেখার সংজ্ঞা কি ?
.
সম্পূর্ণা সাহা =সংজ্ঞা মানে তো কঠিন শব্দে ভরা গুরুগম্ভীর এক লাইন,যেখান থেকে একটা শব্দ বাদ গেলে সব ভুল।ভালো লেখা নিয়ে তাই সংজ্ঞা দিতে পারবো না।লেখার ধরন স্থান-কাল-পাত্র বিশেষে ভিন্ন।অনেকসময় বাঁধা-ধরা নিয়মের বাইরেও কিছু লেখা আছে যেগুলো মন ছুঁয়ে যায়,সেক্ষেত্রে সংজ্ঞা ব্যর্থ।আমার মনে হয়,যে লেখা পড়লে পাঠকের মনে লেখাটি ভালো বলে কোনো সন্দেহ থাকে না,সেই লেখাকে ভালো লেখা বলা উচিত।
.
শ্রুতিসাহিত্য  = আপনার ভাবনায় পাঠকরা কি খুব উপকৃত হচ্ছেন  ফেসবুকে  প্রকাশিত লেখা  পড়ে ?
.
সম্পূর্ণা সাহা = পাঠকরা সকলে খুব উপকৃত হচ্ছে কি না জানা নেই তবে আমার মতো পাঠকেরা ফেসবুকে নিত্য-নতুন ভিন্ন স্বাদের লেখা পড়তে পেয়ে যে উপকৃত হচ্ছে না-সেটাই বা কী করে বলি বলুন!
.
 
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *