পরিস্থিতি  //   মৃণাল

আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্টে একটা ফ্রেন্ড ছিল, হ্যাঁ কি যেনো নাম হ্যাঁ আবীর রায়। এমনিতে আমি নিজে থেকে ফেসবুকে কারো সাথে কথা বলতাম না কিন্তু আবীর সেই একমাত্র ছেলে যাকে আমি নিজে থেকে মেসেজ করতাম। আজ মেসেজ করলে ১দিন পর রিপ্লাই করতো। 

কিন্তু আবীর বাকিদের মতো ছিলো না, একটু ভাবুক প্রকৃতির ও আবেগ প্রবন ছেলে ছিল সে। একদিন হঠাৎ ফেসবুকে স্ট্যাটাসে দেখি আবীর লিখেছে ‘সে কলেজ ছেড়ে দেবে হয়তো সে আর পড়াশোনা করতে পারবে না’,  এটা দেখে আমি আবীর কে মেসেজ করি, 
কি হয়েছে তোমার? 
তুমি কলেজ ছেড়ে দেবে কেনো?

উত্তরে আবীর বলে, তার নাকি মা খুব অসুস্থ, তার চিকিৎসার পিছনে অনেক টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে তাই কলেজের সেমিস্টার ফ্রি দিতে পারবে না, আর না দিলে তো আমাকে ফাইনাল পরীক্ষায় বসতেও দেবে না।

কেনো জানিনা আবীরের মুখে কথাটা শোনার পর থেকে আমার খুব কষ্ট হয় খারাপ লাগে, এরকম কষ্ট হয়তো আমার জীবনে আর কোনোদিন পায়নি , খুব মায়া হয় আবীরের প্রতি।
এগুলো ভাবতে ভাবতে আবীর অফলাইন হয়ে যায়,
আমি আবীর কে তার মোবাইল নম্বর চায়, কিন্তু সে সেদিন সন্ধেতে তার নম্বরটা দেয় আমায়।

আমি আবীরের এই কষ্টের দিনে তার পাশে দাঁড়াবো ভেবেছিলাম, আবার নিজের মনকে প্রশ্ন করছিলাম আবীর যদি কিছু মনে করে?
এসব কথা ছেড়ে পরের দিন আবীর কে ফোন করে ডেকে বললাম…..
আচ্ছা আমি যদি তোমার মায়ের জন্য কিছু টাকা দি সেটা কি তুমি নেবে আবীর..?
কিন্তু আবীর বললো না আমি কাল গ্রামে চলে যাচ্ছি ওখান থেকেই মায়ের চিকিৎসা করাবো, হয়তো তোমার থেকে টাকা টা নিয়ে আমি কখনোই  ফেরদ দিতে পারবো না।
এটা বলে আবীর সেখান থেকে চলে যায়।

আমি খুব কষ্ট পেলাম, বাড়ি ফিরে নিজের কান্নাকে কিছুতেই আটকে রাখতে পারলাম না।
সেদিনের পর আর আবীরের সাথে আমার আর কোনো যোগাযোগ নেয়। 
এভাবে প্রায় ৫ বছর কেটে গেল, 
একদিন শপিং করতে গিয়ে দেখলাম আবীর সেখানে মেয়েদের ড্রেসের দোকানে রয়েছে, আমি নিজের চোখকে ঠিক বিশ্বাস করতে পারছিলাম না কিন্তু সেই দোকানে গিয়ে দেখি সত্যিই ওটা আবীর ই। আবীর কে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কেমন আছো.? তোমার মা কেমন আছেন এখন? 
কিন্তু আবীর একটু চুপ হয়ে কিছুক্ষণ পর বললো অনেক চেষ্টার পরেও মা’কে সে বাঁচাতে পারেনি  ৩ বছর আগে মা মারা গেছেন। 

তার বাবাও ছোটোতে মারা গেছিলেন আর ভাই বোন ও নেয় সে একা এখন, একটা ছোট্ট বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকে এখন দুবেলা বাইরের খাবার খেয়েই কাটিয়ে দেয়।
আস্তে আস্তে আবারও আমরা ভালো বন্ধু হয়ে যায়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *