পরশ পাথর অঙ্কুর কোষ

সুদীপ ঘোষাল

 

কিশোর মনোবিজ্ঞানের সহ সম্পাদক জয়ন্ত ভট্টাচার্য ও হৈমন্তী দি জলপাইগুড়ির বাড়িতে আছেন। পাহাড়ের রাজনৈতিক উত্তাল আবহাওয়া র মধ্যে ও তারা খবরের সন্ধানে সেখানেই আছেন । সাংবাদিক হিসাবে তাদের নাম বিখ্যাত সারা বাংলায় ।

শিলিগুড়ি আসার পথে দেখা হয়ে গেলো অমল বাবুর সঙ্গে ।

অমলবাবুকে সঙ্গে নিয়ে দাদা ও দিদি চলে এলেন জলপাইগুড়ি র নিজের বাড়িতে ।

রাতের বেলায় খাওয়ার সময়  অমল বাবু দাদা ওদিদিকে এক নতুন সমস্যা র কথা বললেন ।

জয়ন্ত দা বললেন, কি সমস্যা বলুন তো ?

অমল বাবু বললেন, সমস্যা এবার অন্য রকম । এক জন প্রতিবন্ধী মানুষ আমাদের গ্রামে এসে দরজা ঘাটের জঙ্গলে র কাছে কলা বাগানে বসে গান করেন । আর বারো বছরের নীচে কোনো প্রতিবন্ধী ছেলে বা মেয়ে এলে এক সপ্তাহে র মধ্যেই তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলছেন ।

হৈমন্তী দি বললেন, আমাদের এই মহাপুরুষ কে দর্শন করতেই হবে । তা না হলে আমাদের জীবন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে ।

জয়ন্ত দা বললেন, আগামী  কাল সকালে আমরা সবাই তার দর্শনে মুকুটমণিপুরে যাবো ।

তারপর অমল বাবুর সঙ্গে দাদা ও দিদি পৌঁছে গেলেন স্বপ্নের গ্রামে ।

জয়ন্ত দা দেখলেন সুন্দর এক টা নদী বয়ে চলেছে। দীর্ঘতম মাটির বাঁধে চওড়া রাস্তা ।

দূরে দেখা যাচ্ছে পাহাড় । সবকিছু মিলিয়ে এক স্বপ্নের জগতে এসে পড়েছেন তারা ।

কংসাবতী নদীতে ঠান্ডা জলে চান করে মনে হলো সমস্ত শরীর যেন পবিত্র হয়ে গেলো ।

ঠিক বিকেল চারটের সময় অমল বাবু দাদা ও দিদি কে নিয়ে কলা বাগানে গেলেন । সেখানে দেখলেন প্রতিবন্ধী মানুষটি শত প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে মানুষের সেবা করে চলেছেন ।

তার কাছে এখন চারজন আট থেকে দশ বছরের ছেলে আছে । তাদের তিনি প্রায় সারিয়ে তুলেছেন ।

জয়ন্ত দা জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কতজনকে সুস্থ করে তুলছেন অথচ নিজে কেন সুস্থ হচ্ছেন না ।

লোকটি বলতে শুরু করলেন, আপনাদের দেখে শিক্ষিত মনে হচ্ছে। আমি সবাই কে এসব কথা বলি না । আপনারা মন দিয়ে শুনুন ।বারো বছরের নীচে মানুষের শরীরের কোষ , কলা সবই নরম থাকে। তারা বিভাজিত হতে পারে । কিন্তু আমার সেই সুযোগ হয় নি ।

জয়ন্ত দা বললেন, এবার আমি বলি । তারপর আপনি প্রচুর পড়াশোনা করার পরে গবেষণা শুরু করলেন ।

ইতিমধ্যে অনেক লোকজন এসে শান্ত ভাবে বসে পড়লেন এই আশ্চর্য কাহিনি শোনার জন্য।

হৈমন্তী দি বললেন, মস্তিষ্কের অকেজো মোটর নিউরন আপনি ওষুধের মাধ্যমে সারিয়ে তোলেন । তার ফলে আপনি শিশু দের সুস্থ করতে সমর্থ হন ।

মহাপুরুষ মিটিমিটি  হাসছেন । তাঁর হাসি এক শান্তি র বাণীর বার্তা বাহক ।

জয়ন্ত দা বললেন, আপনি হয়তো জানেন স্টিফেন হকিং কুড়ি বছর বয়সে  পঙ্গু হয়ে হুয়িল চেয়ার নিতে বাধ্য হয়েছিলেন । তারপর তিনি এই মারাত্মক ব্যাধি নির্মূল করার প্রতিজ্ঞা করেন । তিনি বলেন স্টেম সেল বা অঙ্কুর কোষ এই রোগ কে নির্মূল করতে পারবে ।

উপস্থিত লোক জন বলে উঠলেন, তাহলে এই রোগ নির্মূল হবে একদিন ।

জয়ন্ত দা বললেন, নিশ্চয়ই হবে । আমাদের ভারতবর্ষে স্টিফেন হকিং এর মত কত বড় বড় বৈজ্ঞানিক এই মহাপুরুষের মতো গ্রামে গঞ্জ এ নীরবে সাধনা করে চলেছেন তার ইয়ত্তা নেই ।

এনারা প্রচার বি মুখ । কোনোরকম পুরস্কারের তোয়াক্কা এনারা করেন না ।

এবার প্রতিবন্ধী মানুষ টি মুখ খুললেন।তিনি বললেন, জয়ন্ত বাবু আপনাকে নমস্কার জানাই । আমি সেই পরশপাথর অঙ্কুর কোষের সন্ধান করতেই পথে নেমেছি ।

এই কথা বলে তিনি হুইল চেয়ারে রাস্তা ধরে জঙ্গলে ঢুকলেন ।

সবাই তাঁর উদ্দেশ্যে নমস্কার জানালেন ।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *