নির্যাতন

যাকারিয়া আহমদ

নির্যাতন শব্দের ব্যবহার অনেক শব্দের সঙ্গে মানায়। যেমন শিশু নির্যাতন। নারী নির্যাতন। শারীরিক নির্যাতন। মানসিক নির্যাতন। বর্তমানে পুরুষ নির্যাতনও হয়। নারীকর্তৃক পুরুষ নির্যাতন। এর মানে এই নয় যে পুরুষকর্তৃক নারী নির্যাতন হয় না। বরং নারী নির্যাতন তুলনামূলক বেশি।

আজকের নিবন্ধে সব চেয়ে বড় নির্যাতন নিয়ে আমার সামান্য অভিজ্ঞতা তুলে ধরবো। সেটি হচ্ছে মানসিক নির্যাতন। পরিবারে বা সমাজে এই অবিচারটা দিদারসে চলছে। যা নির্যাতিত ব্যক্তিও জানে না। অন্যসব নির্যাতনের শিকার হলে মানুষ স্পষ্টতর মুখ খুলে বলতে পারে। কিন্তু মানসিক নির্যাতনের কথা মানুষ বলতে পারছে না।

কারণ এ নির্যাতন মানুষ চোখে দেখে না। ছুঁয়ে দেখা যায় না। সে জানে না এর ব্যাখ্যা কী। এইটুকু বলতে পারে যে কী একটা রোগ তাকে গোপনে খেয়ে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। এই নির্যাতনটা সমাজের সর্বত্র আছে। তবে বেশি হচ্ছে পরিবারে। পিতা তার সন্তানের অধিকার আদায় করছে না, সন্তান তার পাওনা না পেয়ে মানসিকভাবে দুর্বল হচ্ছে।

মস্তিষ্কে ঘোরপ্যাঁচ খাচ্ছে তার পাওনা। অধিকার পাওয়ার চিন্তা তাকে একসময় অসুস্থ করে দেবে। একটু ভেবে দেখেন এই নির্যাতনের পেছনে কার হাত? মাতা-পিতার অবর্তমানে ভাইজান করছেন ছোট ভাই বোনদের প্রতি। যেমন ধরুন পিতা তার সম্পদ নিজে বণ্টন না করে রেখে যাচ্ছেন। অতঃপর যখন এর জিম্মাদারিতে ভাই এলেন তখন তার দায়িত্ব হলো পিতার জিম্মাদারি আদায় করা।

যেমন_তাদের লালন-পালন করা, লেখা-পড়ার খরচাদি বহন করা। বিবাহযোগ্য হলে উপযুক্ত স্বামীর হাতে সোপর্দ করা। প্রত্যেকের পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া। মোটামুটিভাবে সব করলেও পৈত্রিক সম্পত্তিটা বুঝিয়ে দিই না।

দিই না এরমানে হলো আমরা ছোট ভাইবোনদেরকে দিতে চাই না। আর বোনেরা ভাইয়ের অনেক দায়িত্বকে অনুগ্রহ মনে করে মুখ খুলে বলে না। না বলে মনে মনে এটা নিয়ে ভাবনায় ডুবে মরে। কেউ কেউ বলে ও পায় না। তখনই সে ভিন্নচিন্তায় শেষ হয়।

আর এই শেষ হতে হতে নিঃশেষ হয়ে যাওয়াটাকে অনেকে বুঝে উঠতে পারে না। এটিও একটি নির্যাতন। যেটাকে আমি বলি পারিবারিকভাবে মানসিক নির্যাতন। বিষয়টি অসরল হলেও অসত্য নয়। নিজের দিকে একটু খেয়াল করে দেখুন অসত্য নয় এসব কিছু।

লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক।    ৩০ অক্টোবর ১৮ ঈসায়ি ।    সিলেট বাংলাদেশ।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *