নিবন্ধ এবং কবিতা

বাংলার দৈন্যতা না ভুল পদচারণা  //  সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

“আমাদের বর্তমান মননহীন সাহিত্যচর্চা আর মেধাহীন জীবনচর্যা”(জীবনানন্দের ভাষায়) দেখে কে যেন দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন, অভিশাপ দিচ্ছেন। আদ্যোপান্ত জগাখিচুড়ী আর সম্মান পাবার নেশায় মোক্তরি করা— ভালো লাগে না।

    ‘সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য যে স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে, তার প্রমাণ বাংলাদেশে আজ দুর্লভ নয়। কাব্যের ঝুমঝুমি, বিজ্ঞানের চুষিকাঠি, দর্শনের বেলুন, রাজনীতির রাঙালাঠি, ইতিহাসের ন্যাকড়ার পুতুল, নীতির টিনের ভেঁপু এবং ধর্মের জয়ঢাক- এইসব

জিনিসে সাহিত্যের বাজার ছেয়ে গেছে'(সাহিত্যে খেলা)!

    উল্টো দিকে বেশ কিছু দর্শন তত্ত্ব ন্যায় নিষ্ঠুর রচনারও টের পাওয়া যাচ্ছে। তবুও বিপ্লবী বিদ্রোহী সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতায় প্রাজ্ঞোক্তি ততটা চোখে পড়ছে না। অভাব ই বলা চলে।

    সকলেই রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ বা শরৎচন্দ্র হবেন সেটা নয় তবে তাঁদের সুযোগ্য উত্তরসাধক হতে হলে বিদ্যার সাধনায় নিজেকে শিষ্য বনতে হবে।আর তার জন্য চাই নিরলস সাহিত্য সাধনা।

    সাহিত্য ছেলের হাতের পুতুল নয়, আবার গাছের পাকা ‘বেল’ও নয়। ইতিহাস ভূগোল সমাজ দর্শন সমস্তটাকে নিপুণ শব্দবিন্যাসে পরম যত্নে পরিবেশন করা অত্যন্ত জরুরি। গদ্য হোক কিংবা পদ্য, গল্প হোক বা প্রবন্ধ সবটাতেই চাই আন্তরিকতা মেশানো স্বাভাবিক মিলন সাধনা।

     আধুনিক কবিতা লিখিয়েরা  ভাবছেন না আগামী

প্রজন্মদের জন্য কী রেখে যাচ্ছেন! শিশু ভূমিষ্ঠ হবার পর থেকে সাবালক হোওয়া পর্যন্ত যাবতীয় দায়িত্ব কিন্তু অভিভাবকের। না হ’ লে শিশুটির অনেক কিছুই ক্ষতি গ্রস্থ হতে পারে। আধুনিক কবিতায় না আছে ভাব, না আছে উপকরণ আর না আছে মেধার পরিস্ফুটন।

   বাংলা কি এতোই দৈন্য আজ !!? সাবালক হবে কবে ?

কবিতা

ভয় আর উদ্বেগ এখন মননের দুয়ারে গোঁত্তা মারছে //সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

.

আগ্রাসী হায়নার মত খোঁচা দিচ্ছে।
সঙ্কট সীমাহীন সীমান্তে পায়ে পায়ে
এগিয়ে যেতে থাকে বাসনার গহ্বর
        অসংখ্য আগাছারা নিদ্রাহীন।
নিয়ন্ত্রণ কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন করতে
রাজপথে, গলিতে নয়তো
    উচ্চাশার অট্টালিকায় দল নির্বাচনে
অসহায়। অভিজ্ঞতা মুহুর্তে চ্যালেঞ্জ জানাতে পেরে
         নাছোড়।
ঘিণঘিণে শরীর এলিয়ে গিয়ে বলল—
       আমার প্রজ্ঞা, শৌর্য বীর্য ছেড়ে
হিমাচলে ভূমিকম্পের আশঙ্কায়
পরাজয় মানতে রাজি নই। আমি এক অসহায় নারী নই
এখন ভাবুক, এখনো শীতের প্রহর গুনি। এখনও
স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মাতৃজঠরের
ক্লেদ ধুয়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখি। খণ্ডাতে চাই
    ভয়। সীমাহীন দুর্নীতি। খুঁজে চলি
অমরত্বের এক অভিনব কর্মসূচি ।
.

কোন পক্ষ  //  রনেশ রায়

আমি নির্বাক বসে থাকি নির্বিকার

এ সমুদ্রতটে বালুকা বেলায়

করে ভালো মন্দ পরিহার

সমুদ্র বিহারী আমি

আমার জীবন

আনন্দের দাঁড় বেয়ে যায়

আমি আনন্দনন্দিনী

আমার থাকে না কোন দায়।

আমার ভাবনায়

খেলা করে চেতনা আমার,

সে জানিয়ে যায়

নিতে হয় দায়

ঠিক কর কোন পক্ষ তোমার,

আজ এ বসন্তে যুদ্ধের সাজ

জেনে নাও ন্যায় অন্যায়

দুই জীবন এ দুনিয়ায়

মুখোমুখি সংঘর্ষ আজ,

তুমিও পাবে না পার

বসে থেকে নির্বিকার,

কোনও পক্ষ নিতে হয় এবার।

মা
মালিপাখি

যাদুর মায়া পূবের কোণে
সোনার থালায় হাসি !
উদাস আমি, আপন মনে
মেঘের ভেলায় ভাসি !!
সবুজ পাতা বাঁশের বনে
কেবল বাজায় বাঁশি !!!

গাছের ডালে ফুলের কুঁড়ি
পাগল পাগল করা !
নোলক, বালা, কাঁচের চুড়ি,
সিঁথেয় সিঁদুর পরা !!
আমার মা যে শিমুল বুড়ি
মুঠোয় আকাশ ধরা !!!

 

 

মোদো ঝড় //  মাধব মন্ডল

তুই বিশ্বাস কর
মাইরি বলছি
বাইরে মোদো ঝড়
মনেও
চল দু’পা হাঁটি
সঙ্গে থাক একটা সবুজ বোতল
কয়েকটা পলিথিন প্যাক থাকলেও হবে।
পকেটেও রেখেছি ধরে
সেরা সব রক্তারক্তি
দু’ঢোক মারলেই
এ মাটি আমার
ভুলে যাব রক্ত চোষা ভালবাসা
সজোরে তোর হেলা ফেলা।
বাঁশঝাড় চিরে অন্ধকার ডাকে
আমি আর যাব না
শরীরে অনেক ভাইরাস
মনকে কতটা টানা যায়?
ভালবাসা চকিতে আলো হয়
আমি হাসি হো হো
শুধু মনে ভালবাসা থাকে?
এত যে বাই মেলা
এই মোদো বাতাসে
চেরা গলা চিকন হল
বেওসা করে শব্দ শিকারী
গ্যাদগ্যাদে সিগন্যালে
তুই এসে দেখে যা
কারা কারা শিরশিরাণি খায়।
.

পিড়িং পিড়িং – ২০ // মাধব মন্ডল

পড়ছি এই
ভুলছি এই
বলছো এটা ভুল আমারই!
ভালো এই
দুষ্টু এই বোনটা এই
বলো বলো ভুল আমারই !

.

পিড়িং পিড়িং – ২১ //  মাধব মন্ডল

.
বড়রা যেন কেমন কেমন
শুধু পড় পড়
পড়বো আমি অনেক পড়া
যখন হব বড়।
তোমরা তখন চড়িয়ে গলা
বকাবকি করবে
অভিমানী আমার আমি
বই আঁকড়ে ধরবে।
.
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *