দুর্বৃত্তের বিচার

রণেশ রায়

ঘুঘু পাখী খুব বুদ্ধি ধরে। তবে সুবুদ্ধি নয় দুর্বুদ্ধি। তার  শুধু ভাবনা কখন কাকে ঠকানো যায় কাকে মেরে খাওয়া যায়। বাঁদরের বুদ্ধিও কম নয়। সে কম যায় না। তবে সে দুষ্টু  বটে কিন্তু বদবুদ্ধি ধরে না। কারো ক্ষতি করে না। তাই সবাই তার বন্ধু। ঘুঘু সকলকে বিপাকে ফেলে। কিন্তু তার ফাঁদে বাঁদর  ধরা দেয় না। ঘুঘুর আরও রাগ সে ফাঁদ পাতলে বাঁদর সেটা ফাঁস করে দেয়। সবাইকে সাবধান করে। তাই ঘুঘু তাকে তাকে থাকে কখন বাঁদরকে ফাঁসাবে।

বিকেলে মেঘবন্ধু ডাকলে ময়ূর পেখম মেলে নাচে। বাঁদর তার সঙ্গে যোগ দেয়। ভল্লুক সঙ্গে ঢাক বাজায়। মৌমাছিরা গুন্ গুন্ করে গান ধরে। হাতি গাধা ঘোড়া খরগোশ যে যেখানে থাকে বৌ বাচ্চাদের নিয়ে দৌড়ে আসে। টিভি খুলে সিংহ ঘরে বসে বাঘকে নিয়ে নাচ গান দেখে শোনে। জঙ্গলের এই উৎসবে পেঁচা ঘোড়ারাও হাসে গায়। কিন্তু ঘুঘুর মুখে হাসি নেই। সে পেঁচামুখ করে ভাবতে থাকে কি করে বাঁদরকে শিক্ষা দেওয়া যায়।  

একদিন ঘুঘুর মাথায় দুর্বুদ্ধি চাপে। খবর পায় আজ বাঁদর রাতে বাড়ি থাকবে না। সে ঘরে ঢুকে বাঁদরের সব কিছু চুরি করবে। ভেঙে চুরে শেষ দেবে। কিন্তু সদর দরজা দিয়েতো ঢোকা  যাবে না। সেখানে শেয়াল থাকে। হুক্কা হুয়া করে চেঁচামেচি শুরু করলেই তো বিপদ। আর বদ বুদ্ধিতে সেও কম যায় না। ঘুঘু বাঁদরের ঘরের জানালা খুলে রাখে দিনে একসময়। কিন্তু জানেনা যে ওখানে মৌমাছির বাসা। আর মৌমাছি বাঁদরের খুব বন্ধু। ঘুঘু যখন জানলা খোলে মৌমাছি তার চাকের ফাঁক থেকে ঘুঘুকে দেখে ফেলে। বোঝে তার কোন বদ মতলব আছে।  সে শেয়াল বন্ধুকে খবরটা দিয়ে দেয়। শেয়াল বুদ্ধি খাটিয়ে বুঝে ফেলে ঘুগু কি করতে চলেছে।

রাতে ঘুগু জানালা দিয়ে গুটি গুটি ঘরে  ঢোকে। তার কি আনন্দ ! বাঁদরের বিছানায় ডিগবাজি খায়। যেখানে যা পায়  নিয়ে ঝোলায় ভরে। তারপর যেই না পেছন ফিরে জানলা দিয়ে পালাবে ! শেয়াল এসে তাকে জাপটে ধরে। মৌমাছিরা জানলায় এসে গুন গুন করে গান ধরে। হাজার মৌমাছির গুনগুনানি যে বিরাট শব্দ সৃষ্টি করে তা শুনে বাঘ ভল্লুক হাতী  ঘোড়া সবাই দৌড়ে আসে। ঘুঘুকে রাজদরবারে সিংহের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। সে বিচার করে শাস্তি দেবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *