’’তবু দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে ‘’

অনুব্রহ্ম

সৈকত পট্টনায়ক

অনুকথার গভীরে কোথাও সংজ্ঞা নেই

কেবল ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় চরণের ধুলাে।

এই বসন্তমাস এবং শৈত্য জুড়ে

কেটে যায় আমাদের বিবাহিত কাল

তবু দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে –

হে ভন্তে, কোথায় তব নির্বাণ

এবং তার নিকষ কেশরাশি ?

বসন্তবিহারে আজও পদ্মফুল ফোটে

-স্পর্শমাত্র চঞ্চল হই;

নাকাশিপাড়ায় ছন্দক নৃত্য – মধুর সে ধ্বনি

যেন মায়াপাশে হরিসই গন্তব্য আমার

নাম তাে শব্দরূপ কথা খুঁজে মরে

কেবল সূচিযুক্ত কবিতার ধারকে

আকাট দেহ অনুব্রহ্ম হয়ে বাঁচে।

 

যে যেভাবে

সনৎ সেন

আমিও পাব না তুমিও না

কিছুই পূর্ণ নয় সবই শূন্য

এরপর সেই শূন্য থেকে

ছুটে গিয়ে একটু উঁচু একটু নিচু

অসমতল খানাখন্দ খুঁজে

খুঁজতেও হয় না যাকে তাকে

অনুসরণ করি – এসাে হাত ধরে

মানিয়ে নিই, মহাপ্রস্থানের পথে নয়

মহারােহণের পথে

যারা এখনও দ্বিধায় হাত ধরাে।

চলে এসাে

দ্বন্দ্ব না রেখে কুসুম অনুভূতিকে

পচতে না দিয়ে  চলে এসাে

যারা এখনও এল না

তাদের  যেতে দাও

শূন্যের ওই শূন্যতাটাকে

তাদের কাছে রেখে এসাে

তাঁরা নিজস্ব অভ্যেসে বোঁ বোঁ করে

ঘুরুক শূন্যের চারপাশে

ওরা বাঁচে ওইভাবে

আমরা এইভাবে।

 

অবকাশ

শুক্তি ঘােষ

এক ছিল ছােট্ট তিতির

এক ছিল মৌটুসি পাখি,

ঝাক বেঁধে ময়ূরীর ওড়া |

পাগলাঝােরার হাততালি

ঝলমলে বাজের পালক, 

আঁধারে আগুন জ্বলা চোখ,

দিগন্তে বৃশ্চিক রাশি,

ঝােপের আড়ালে তক্ষক

ছুটে গিয়েছিল ভীরু পা’য়

ছাইরঙা বুনাে খরগােশ,

কানতােলা ধূর্ত শিয়াল

খুঁজে নিয়েছিল মহাভােজ

ঝিলমিলে রােদুর আঁকে

চলে এসাে আলােয় ছায়ায় কারিকুরি –

হা-হা মাটি জ্বলে পুড়ে খাক

যারা এখনও এল না

ঢেউ তােলে কুশের মঞ্জরী।

আকন্দে অঞ্জলি ফোটে,

শিবের মাথায় বেলপাতা,

উন্মুখ ধুতুরার কোলে

তাদের যেতে দাও

দোল খায় গােখুরার ফণা

এক ছিল ছােট্ট তিতির, ,

একঝাঁক বুনাে রাজহাঁস,

গ্রীবামূলে টলােমলাে স্বেদ,

আমার এখন অবকাশ।

 

 

( বাক্প্রতিমা সাহিত্য পত্রিকা থেকে সংগৃহীত  )

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: