ঠাণ্ডা হাত দুটো

প্রাণজি বসাক

আগরতলায় কুয়াশা। বিমান উড়ছে না সকাল থেকে। কলকাতায় পৌঁছল এক ঘন্টা দেরিতে। বাের্ডিং হ’ল। আমার পাশের সিটে এক কিশাের। হ্যালাে-হাই’ হওয়ার পর সেজানায় ওর বাবা বি.এস.এফ.-এ চাকরি করেন। ত্রিপুরা বর্ডারে পােস্টিং। কয়েকদিন আগে আচমকা বাবার ব্রেন হেমারেজ হয়েছিল। এখন খানিকটা সুস্থ। মাকে রেখে ও ফিরছে।

কাল থেকে ওর স্কুল খুলছে। ক্লাস এইটের ছাত্র, পড়ে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, ছাওলা ক্যাম্প, দিল্লিতে। কথায় কথায় জিজ্ঞেস করলাম ওরকজন বন্ধু রয়েছে। ডানহাতের আঙুল তুলে দেখাল – পাঁচজন। বন্ধুরা সবাই দক্ষিণ ভারতীয়। ছেলেটি ব্যাঙ্গালুরুর। যদিও মাতৃভাষা কন্নড়, তবে বলে হিংলিশ ।

হালকা মেজাজে জিগ্যেস করি – তােমার ক্লাসে কোনও বাঙালি নেই। সে বলে – | হ্যাঁ আছে। একটি মেয়ে, গৌরী কুণ্ডু।

– তাই। ইউ মাস্ট টেল হার টু সিং রবীন্দ্র সঙ। ওর কাছ থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনে নেবে। ইউ উইল এনজয়।

-আঙ্কল, আমি শুনেছি। ও মাঝে মাঝে একটি গান শােনায়। -কী গান?

– ‘আ গু নে র প র শ ম ণি ছোঁ য়া ও প্রাণে’। ভাঙা ভাঙা বাংলায় ওর নিজস্ব উচ্চারণে গেয়ে ওঠে।

– আঙ্কল, ও আমার হাত ধরে গানটা গায়। ওর হাত দুটো ভেরি ভেরি কোল্ড  খুব

ঠাণ্ডা।

 

 

 

 

বাক্প্রতিমা সাহিত্য পত্রিকা থেকে সংগৃহীত

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *