টুকিটাকি // ছোটবেলা – ৮

বন্য মাধব

এবার আসি রান্না পুজোর খাওয়া দাওয়ায়। বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ঝুনো নারকেলসহ এটা ওটা জোগাড় করার কাজ চলতো। আর আমরা তো কত পরিকল্পনা করতাম। রাত জাগা হবে। রান্নাঘরে বসে বসে প্রতিটা রান্না দেখব, আর রান্নার বাস শুকব ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আসল দিনে এত দিনের পরিকল্পনার ক্লান্তিতে চোখ জুড়ে আসত। মা বলত রান্না শেষে পুজোর সময় ভোর বেলা ডেকে দেবে। ডাকা হতো তবে সকালবেলা।
.
সব রেডি। পড়িমড়ি করে মুখ হাত ধুয়ে প্রথমে পুজোর প্রসাদ খাওয়া, তারপর বছরভর অপেক্ষার রান্না পুজোর পান্না খাওয়া। পান্তার হাঁড়ির সরা খুললেই আমাদের নাক জেগে উঠতো, একের পর এক পদ পড়ত পাতায়, ভাজাভুজি দিয়ে শুরু শেষ পায়েসে।
.
সবচেয়ে ভাল লাগতো চিংড়িমাছ দিয়ে ছোলা কচুর ডাঁটার চচ্চড়ি। ও মা আর একটু দাও, মুখ থেকে আপনিই বেরিয়ে আসতো। বাড়ির খাওয়া শেষেই ছুট। এ বাড়ি ও বাড়ি খেতে ছোটা। এক বাড়ির পর আরেক বাড়ি। আহা, এই না হলে রান্না পুজো!!
.
ছেলেবেলা জুড়ে সুযোগ বুঝে নির্ভয়ে শুধু খাওয়া। এবারের খাওয়াটাও উৎসবকেই কেন্দ্র করে। নবান্ন যা আমাদের কাছে ছিল বামনি, হরেক কিসিমের পিঠে পুলি পায়েসের উৎসব, পৌষ সংক্রান্তিতে। নতুন ধান থেকে দু’ধরনের আলো ও সেদ্ধ চালের গুঁড়ো নিজেদের ঢেঁকিতে তৈরি করা হত। সেগুলি নিয়ম করে রোদে দেওয়া হত, কাক পক্ষি তাড়াবার ভার আমাদের। প্রায় একমাস ধরে চলত প্রস্তুতি পর্ব।
.
খেজুরের গুড় আসতো আমাদের আদি বাড়ি ডিঙেভাঙা থেকে। এখানেও গুড় তৈরি হত। আমরাও রস মেরে গুড় করার কাজে জ্বাল দিয়ে সাহায্য করতাম বড়দের। সবশেষে বামনি আসতো সশব্দে, আমাদের কলকাকলিতে। আমরাই তো সব উৎসব আনন্দের কেন্দ্রবিন্দুতে। আলাদা আদর, আলাদা যত্ন।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: