টুকিটাকি // ছোটবেলা – ৭ // বন্য মাধব

কী খেতাম ছোটবেলায়? উৎসবে আর সাধারন দিনে? তাহলে পয়লা বৈশাখ, নববর্ষের দিনটার কথা ধরা যাক। নিম হলুদ বাটা মেখে বড়দের পায়ে ঐ বাটা দিয়ে প্রণাম সেরে গরু বাছুরকেও মাখিয়ে চান করিয়ে তারপর নিজেরাও খানিকটা জলে হুড়ে চান সেরে ভাজা নিমপাতা গুঁড়ো সরষের তেল মেখে দুপুরের খাওয়া শুরু হত।
.
তারপর গোল গোল চাষের আলু ভাজার সঙ্গে গাছের আমের টক ডাল। পুকুরের থেকে ধরা মাছের ঝোল আর তেঁতুলের চাটনি। খাওয়া দ্বিগুণ হয়ে যেত। খাওয়ার একটা বেশ মজার কম্পিটিশন চলত। পুকুর ঘাটে মুখ ধুতে যাবার আগে কার পেট কত বড় হয়েছে দ্যাখ দ্যাখ বলে দেখানো চলত।
.
এবার আসি পুজোর খাওয়ায়। বাইরে থাকা দাদারা সবাই বাড়ি ফিরতো। বাড়ি গমগম করত। সবার মুখে খুশি খুশি ভাব। আমাদের আনন্দের বহর দেখে বড়রাও হেসে ফেলে। নো বকাবকি, নো চোখ পাকানো, শুধু আদর আর আদর আর খাওয়া। বাড়ির আখ শেষ হয়ে গেলে ঠাকুর দেখে ফেরার পথে ঘাড়ে করে একটা আনতাম।
.
দাঁত দিয়ে ছাড়িয়ে ছাড়িয়ে আখ খাবার একটা আলাদা মজা ছিল। অষ্টমীর দিন নিরামিষ হতো এবং এটা ওটা তৈরিতে আমরাও হাত লাগাতাম। লুচির লেচি কেটে বেলে দিতাম, আলুর চপের আলুর পুর চ্যাপ্টা করতাম, সিঙাড়ায় পুর ঢুকিয়ে মুখ বন্ধ করাটাও আমাদের কাছে বেশ মজার ছিল। গরম গরম নামছে, খাচ্ছি আর কাজে সাহায্য করছি। তারপর দুপুরে মজাসে কে কত খেতে পারে খাও। ছোলার ডাল আর আলুর দম দিয়ে লুচি খাচ্ছি তো খাচ্ছি, বেগুনি, আলুর চপ পাতে পড়তে না পড়তে হাওয়া।
.
জব্দ হতাম সুজি পাতে পড়লে। পুজোর বাকি চারদিনের একদিন অবশ্যই পায়েস হত, আর একদিন মাংস, সে পোষা হাঁস মুরগীর বা কেনা ছাগল ভেড়ার মাংস কিছু একটা তো হতই। আর কচ্ছপ পাওয়া গেলেও ভাল। আর বিজয়ায় বড়দের প্রণাম করা আর দানাদার খাওয়া বাঁধা কাজ।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *