টুকিটাকি // ছোটবেলা – ২৮ // বন্য মাধব

5445
ঠাকুরদা দেখলেন বিধবাটি গাছে হেলান দিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে কেঁদেই চলেছে, কেঁদেই চলেছে। 
তুই কাদের বাড়ির মেয়ে   র‌্যা ? এখানে এসে কাঁদছিস কেন? ঠাকুরদা জোর গলায় জানতে চাইলেন। কোনো উত্তর নেই। আরেকটু কাছে গিয়ে ফের একই কথা বললেন। কোনো উত্তর না দিয়ে বিধবাটিও এগিয়ে গেল। ঠাকুরদার জেদ চেপে গেল, তিনিও এগোলেন। ঘোমটা ঢাকাও এগিয়ে যায়, কিন্তু কান্না বন্ধ হয় না। বিরক্ত হয়ে ঠাকুরদা এবার সামনে গিয়ে পথ আটকালেন এবং ধমক দিলেন। কান্না বন্ধ, ঘোমটাও খসে পড়ল। ঠাকুরদা রাশভারী মানুষ, মুখ দেখে আরো জোর ধমকানি দিলেন। 
মাগি কোথাগার, ভয় দেখাবার লোক পেলি না, মেরে তোকে আজ ছাতু করব, দাঁড়া মাগি! বলেই ঠাকুরদা মালকোঁচা মেরে এগিয়ে যেতেই সেটা হি হি হা হা করতে করতে হাওয়ায় মিশে গেল। আমার সাহসী ঠাকুরদা মুচিরাম মোড়ল ধীরগতিতে সে স্থান ছেড়ে বাড়িতে এলেন। সবাইকে ডেকে বার বাগানে একা একা যখন তখন যেতে নিষেধ করলেন।
এবার আসি পরেরটিতে, যেটির মূল চরিত্র আমার সাহসিনী ঠাকুমা দিবসবালা। তিনিও কম যান না। সাত গ্রামের রাজা গান ফ্যামিলির মেয়ে তিনি। আমার দুর্ভাগ্য ট্রেন মিস করার জন্যে বা আগের গাড়িগুলোর টিকিট না মেলায় আমাকে মোড়ল বংশে শেষে আসতে হল, এবং এত শেষে যে, মানুষগুলোর সান্নিধ্য পেলাম না, হায়!
(চলবে)
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: