টুকিটাকি // ছোটবেলা – ১৮ // বন্য মাধব

তিনটে খালের মধ্যে মামা ভাগ্নের খালকে বেশি ভয় করতাম। খালটাও বেশ চওড়া ও দৈর্ঘ্যেও বড়, পাণিখালের মত এটাতেও একটা ডিঙি নৌকা থাকতো, পাহারা দেবার এবং জাল টেনে মাছ ধরার জন্যে। আমরা দু’একবার ম্যানেজ করে ঐ নৌকায় চড়েছি। এই খালে একটা বাঁশের সাঁকো ছিল, যেটা পেরিয়ে সরবেড়িয়ায় (সরবেড়ে) যেতে হত। আমরাও সরবেড়ের হাইস্কুলে এইপথেই যেতাম। খালে পড়ে যাবারও উপক্রম হতো মাঝে মধ্যে।
বিশেষকরে বর্ষাকালে সাঁকোটা যেন আরো নড়বড়ে লাগতো। বাঁশে পাও হড়কাতো। হাসি মজাও হত। এই খালের পাড়েও মৃতদেহ দাহ করা হত। মূল নদী থেকে একটা শাখা রামপুর থেকে বেরিয়ে সরবেড়ে পর্যন্ত এসেছিল, এতে জোয়ারের সময় জলে ভরে যেত। বিদ্যাধরীর এই সুতি থেকেই সুইস গেটের সাহায্যে এই খালে জল ঢুকত, বেরোতো। এই গেটের কাছে সৎকার করা হত। দলবেঁধে ঘুরতে গিয়ে আমরা সেসবের টাটকা চিহ্ন দেখতাম। দেখতাম আর ঘোরাতাম গেটের চাকাও।  এদিকটা ঘর বাড়িও তেমন ছিল না। 
একটা গল্প চালু ছিল এই খালটার নাম নিয়ে। একবার এই খালে কীভাবে যেন একটা ইয়া বড় কুমীর ঢুকেছিল। তার উৎপাতে পাড়ে চরতে আসা গরু ছাগলকে আর খুঁজে পাওয়া যেত না। নাম না জানা এক মামা আর এক ভাগ্নের দায়িত্ব পড়ল কুমীরটিকে ঘায়েল করার। তারা টোপ হিসাবে একটা ছাগলকে পাড়ে বেঁধে রাখল। টোপের লোভে এলেন তিনি। এরপরের ঘটনা লোকমুখে ছড়িয়ে গেল। বীর মামা ভাগ্নের নাম লোকের মুখে মুখে। আমরা কিন্তু সাহসী পূর্বসূরীর মতো না হয়ে হয়েছি উল্টোটা।
(চলবে)
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *