ঝির ঝির বাতাস, বাতায়ন খুলে বসি

দুঃখের বৃক্ষ  //  যাকারিয়া আহমদ

আমার হাত পায়ের আঙুলে আঙুলে
শরীরের সব গাঁটে গাঁটে এবং চুলে_
জানা অজানা কত দুঃখ দুলে
দুঃখের বটবৃক্ষ আমি__দাড়ি চুলে!

দাঁতছোলাতে  আঙুলের চাপে হই শেষ
আমার ছায়ায় ওরা বড় হলো__ বেশ
দাম্ভিক হয়েছে_আজ দাম্ভিকের পরিবেশ
ফিরে এসো ফের, নেই দাম্ভিকতার লেশ।

আমার অভিধানের পাতায় শুধু দুখ__
আর কিছুই লিখা নেই, নেই কোনো সুখ
দুঃখের বৃক্ষ আমি__তবু দুখহীন মুখ
এই বৃক্ষের শাখায় বসে দুখ নামের শুক।

লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক।
হাটগ্রাম, গোয়াইনঘাট, সিলেট।

.

.

.

একদিন স্বপ্নের দিন   //  মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

একদিন সূর্যের লাবন্যশিখা
আমার নদীটার উত্যুঙ্গ ঢেউ রাঙ্গিয়েছে
আমার স্বপ্নদ্বারে
রোজ শীশ দিয়েছে সম্ভাবনার দোয়েল
আমার তামাটে শরীর জুড়ে
আগন্তুক গোলাপ তার ছুঁয়েছিলো
সম্পাদিত পাপড়ি
তারপর
দ্রোহের পলল শিহরন
আমি এখন পরিতাপ মন্ডিত
আবেশে বিবশ নগরীর মতো
পুরাকীর্তির তালিকায়
প্রতিদিন ঝাপটানো পুরনো বাতাসে
তাড়িত প্রতারিত
জানি একদিন পলাশে শিমুলে
সেজে উঠবো বিদগ্ধ কবিতায়
                      সুরে
                      গানে
গুনে যাই দিন আসবে যেদিন
ঝাঁকে ঝাঁকে বনজ সুখের পাখিরা
মুক্তির সৌরভে জাগাবে পৃথিবী
মুক্তির আহলাদে নেচে উঠবে
দোয়েলটা সতেজ সতত বোধের
.

 

স্মৃতির মানসপটে একদিন   //  সঞ্জীব ধর

 

গোধূলী বেলায় এক পশলা বৃষ্টি
ঝির ঝির বাতাস, বাতায়ন খুলে বসি।
দু’চোখের দৃষ্টি কোথায় ডুব দেয়
যেন,স্মৃতির মানস সরোবর হতে
কত পদ্ম তুলে আনে।
করোটি তে নিয়ে যেন
চর্বিত চর্বণ করে বারেবারে।
সেই বছর খানিক আগে
সায়দাবাদ বাস স্টেশনে
এমনি এক সন্ধ্যায়,
সেই স্মৃতি আবার?
থাক থাক;
দরকার কি?
তারপরও ভাসে
দুচোখ ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে আসে
সেই বছরখানিক আগে
কি এমন হয়েছিল?
তেমন কিছু না।
সে মৃদু সম্ভাষণ
তারপর বাস রওনা দিল
চাঁটগাঁর পথে
কত দীর্ঘপথ
পথের সেই ক্লান্তি ভুলে
আবছা আবছা কত কথা
তো,তাতে হয়ছে টা কি?
সে রাতে এমন-ই বৃষ্টি,
ঠিক এমন-ই।
তারপর?
তারপর তো হরিয়ে গেছে।
তবুও,এমন-ই বৃষ্টির রাতে
বারবার জানতে ইচ্ছা করে
তার স্মৃতিপটে
এই স্মৃতি কি একবারও ফিরে আসে ?

.

.

.

চিনে নাও তাকে  //   রণেশ রায়

এসো পরিচয় করে নাও তার সাথে

যাকে চিনিনি আজও নিজ পরিচয়ে

হতবুদ্ধি আমাদের, চিনেছি তাকে নিজ স্বার্থে।

 

নারীকে বোঝ না পুরুষ তার শক্তিতে

চিনেছ তাকে শুধু নিজ প্রয়োজনে,

যদি সত্যি বন্ধু তার

চিনে নাও তাকে তার সত্তায়

মেটাতে হয় ঋণ যা আছে তোমার

জন্ম থেকে মৃত্যু সতত সে তোমার সহায়,

নহে সে কারও অনুগ্রহের পাত্রী

নিজ বলে নিজ গুনে বলীয়ান সে

আপদে বিপদে সর্বক্ষন সে সহযাত্রী।

চিনে নাও নারীকে সে যে অর্ধেক আকাশ

সে আছে জীবন জুড়ে

জীবন প্রবাহে সে মৃদুমন্দ বাতাস,

পেতে পার তাকে মানবী রূপে

নারী বিনা অসম্পূর্ণ এ আবাস,

সে বিরাজে জীবনের স্পন্দনে

পুরুষের পৌরুষে তার শ্বাস প্রশ্বাস,

দেবী নয় নারী পুরুষের জীবনে

সে যে সহযাত্রীনি জীবন যুদ্ধে।

উপহাস করো তাকে দেবী জেনে

নারী বন্দনা সে যে বিকৃত অনুরাগ!

অনুগ্রহ উপহাসে অসম্মান নয় তাকে

বসতে দাও তাকে তার নিজ আসনে

জয় করে নিক নিজ অধিকার নিজ শক্তিবলে

বাঁচতে দাও তাকে তার নিজ মননে।

.
.

হকচকানো চোখ  //  মাধব মন্ডল

মাথার মধ্যে থাকা মাথাটা অনেকদিন আগে একটা হকচকানো চোখের জন্ম দিল,ও চোখ এবার অন্ততঃ বন্ধ হ,আর কি দেখার আছে,আর কি দেখাবি!
.
মধ্যরাতে উথালপাথাল হাওয়া,তুই মগডালে ডাকছিস আয়,গেলেই নিচ্ছিস সন্ন্যাস,কখনও অবাঞ্ছিত খাবলা খাবলা পাঁক ছুঁড়ছিস,ও চোখ এবার বন্ধ হ!
.
ও চোখ আর ক’টা দিনকে আত্মহত্যা গর্ত থেকে তুলবি!আহা,কি মহান দায়িত্ব!সমাজ গিয়েছে সেকেন্ড যুগে,আর তুই থাকলি একপাশে!হায় চোখ,হায়!
.
যেখানে সিদ্ধ আসন তোর,দেখিস নে তুই,ও চোখ,ভালবাসা কেড়ে খায় হিসেব ডাকিনী,দেখেছিলি?তোর কলকে পড়ে আছে ভাঙা,তোর চেয়ে কিডনি ভাল,যথার্থ…
.
যথার্থ সময়ে মৃত্যুকে জড়ায়,কত লতা কত পাতা,শেকড়বাকড়,প্রধান মূল,আহা সব জব্দ,লন্ডভন্ড,হাহাকার হাসি,ও চোখ পাথর কবি হবি,কবে হবি ?
.
একে একে তিনটে তারিখ,তিনটে তারিখ থু থু ছোঁড়ে,এফোঁড় ওফোঁড়,মধু ঝোরা মায়াবী ঠোঁটে পচা কপি পাতা গন্ধ,জবাব চেয়েছে ওরা,জবাব দে,কি সুখে…
.
কি সুখে সুখ খেলি,পিছনের যুগে দাঁড়িয়ে সেকেন্ড যুগের উত্তরপত্র বানাস,হা হা হাসি হি হি হাসি জুতোর মালা হাতে,পর পর ভালই মানাবে,কাব্যি !
.
.
.

পিড়িং পিড়িং – ১৬ //  মাধব মন্ডল

ওরে খোকা ওরে খুকি
এই লুকালাম টুকি টুকি
হায় হায় খুঁজে পায় না!
আবার দিলাম উঁকি ঝুঁকি
আবার দিলাম টুকি টুকি
হায় হায় দেখতে পায় না!
হায় হায় হায় হায়
খুঁজে খুঁজে মরে যায়
এই তো আমি আয় না!
.

ছেলে বেলা   //  সব্যসাচী নজরুল

ছেলে বেলা
শুধু খেলা
করি যদি ভাই;
লেখাপড়া
হলে বড়া
বাঁচার উপায় নাই।

ছেলে বেলা
করি খেলা
মক্তব-স্কুলে না যাই;
গ্রাম্য মেলা
মজা মেলা
দলবেঁধে ছুটি সবাই।

ছেলে বেলা
কাটে বেলা
হাসি খুশির ভেলায়;
আহা সুখ
কি যে সুখ
রঙের রঙীন ঠেলায়।

ছূড়ি ছোড়া
শোন তোরা
ডেকে চাঁদ বুড়ি কয়;
পড়া পড়
জলদি কর
আর সময় নষ্ট নয়।

.

আমিও মা হতে পারি   //   সৌমিত্র শীল  

শূন্যপ্রহরে একাই দেখি আকাশ
বাস্তুতন্ত্রের মোহ কাটিয়ে
              মন পাড়ি দেয় কল্পরাজ্যে
শিরদাঁড়া সোজা করেই এগোয়
অর্ধভুক্ত আজ তিন দিন
তবু কেউ খোঁজ নেয়নি
না নিক
আমি আরও অগ্রসর হই
অবলোকন করি পারিপার্শ্বিক
 মননের রসদ জোগার চলে
একসময় ফিরে আসি ইচ্ছেডানার বদান্যতায়
তখন আমার অন্য রপ,  অন্য রঙ
বুঝতে পারি আমি “কবিতা সম্ভবা”

.

ঘুম শিকল   //  বিকাশ দাস

ঘুম শিকলে বেঁধে ,
       নীরবে আকুতি হাঁকে ।
মিঠে হাওয়াতে নির্জন দুপুরে —
         কাল ঘুমে আহুতি স্বপ্নকে ।
শিখলের বেড়ি
         খুলতে হলো দেড়ি ।
খুলে দেখি হয়েছে আহূতি —
       আমি তখনি নির্বাক চলচিত্র দেখি ।
.
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: