জাগিয়ে হেমন্তের শঙ্কা

ঋতু কথা // সীমা চক্রবর্তী

চোখের জলে বর্ষা এলো, বুকে খাঁ-খাঁ গ্রীষ্ম
সময়-স্রোতে প্রেম ভাসিয়ে হৃদয় হলো নিঃস্ব।
শরৎ এলো কাশের বনে বাজিয়ে খুশির ডঙ্কা
এক পলকে মিলিয়ে গেলো, জাগিয়ে হেমন্তের শঙ্কা।
দীর্ঘ শীতে জ্বললো আগুন তাপিয়ে নিতে মন
বসন্ত এলো লাগলো হাওয়ায় পলাশের আয়োজন।

 অজানা কোন এক দিনের অপেক্ষায়  // সাবিহাকুমু

.
কতদিন ইচ্ছে হয়েছে
খালের ধারে দুটো চেয়ার পেতে বসি।
কিছুক্ষন চুপচাপ নয়ত কিছু কথা হাবিজাবি।
এমনই যাক অনন্তকাল পাশাপাশি
বিসন্ন চোখে আজ দেখি
একটা চেয়ার খালিই রয়েছ।
কতদিন ভেবেছি ঐ বারান্দাটায়
দু’কাপ চা হাতে বৃষ্টি দেখবো দুজন
বরষা চলে গেছে, আবার আসবে আষাঢ় শ্রাবণ।
বুকে চেপে বসে কোন এক দহন,
নিয়ে দু’চোখ বর্ষন
এককাপ চা, অপেক্ষায় থাকে এক সন্ধ্যায়।
ব্যাথাগুলি জমাট বাধে কবিতায়।
ইচ্ছেগুলো জমতে জমতে ছাদ অব্দি ছুয়ে যায়।
ছাদ ফুরে আরও উপরে উঠতে চায়।
কি এক অনিশ্চয়তায়,
খালের পাশে দুটো চেয়ার পরে থাকে
অজানা কোন এক দিনের অপেক্ষায়।
.
.

আবার মিলব  //  রণেশ রায়

ঘুম নেই চোখে

স্মৃতির ডিঙা বেয়ে

এ আসে সে যায়

আশা জমে বুকে

এ আধাঁর শেষে

সে আসবে আমার আঙিনায়

আবার মিলব আমরা

জীবন নদীর মোহনায়

দিনের দহন শেষে

রাতের জ্যোৎস্নায়।

.

স্বার্থ শূন্যতায় /বিশ্বনাথ পাল

ত্রিশ কোটির

ভারতবর্ষে
             দিয়েছে বিবেক তালা।
বেইমানরা
বিবেকবান
            সেজে বলছে পালা পালা।।
তাদের কথায়
মর্ম ব্যথায়
            যাচ্ছি লাজে মরে।
হৃদয় ছাড়া
যায় না ধরা
            ভালবাসার চোরে।
মেকি মোহের ভাঁজে
চকচকে লোভ সাজে
               ফুঁই খোঁজে
                       তারা সদাই।
বিবেকানন্দ স্বামী
বলেন কথা দামী
                 প্রাণ বাঁচে
                        স্বার্থ শূন্যতায়।।
.

ফিরে এসো যীশু   //  শ্যামল কুমার রায় 

মনে পড়ে সেই কবে এসেছিলে, এই পৃথিবীর বুকে ?
মেরীর কোল আলো করে যোশেফের ঘরে ।
আস্তাবলে ঠাঁই হয়েছিল তোমার!
তারা ভরা আকাশে তারা দেখে , সাত জ্ঞানী উপহার দিয়েছিল তোমায় ।
ঈশ্বরের সন্তান তুমি – জীবের মসিহা,
নিজেকে রক্তাত করে দিয়ে গেলে ক্ষমার শিক্ষা ।
ন্যাড়া ন্যেড়ির দল সে শিক্ষা নিল আর কই ?
ধর্মোন্মাদ হয়ে ওরা দেখা দিল ঐ ।
সংযমের সব বাঁধ আজ ভেঙে চুরমার,
কামিনী কাঞ্চনের থাবা আজ বড় ভয়ংকর !
বিকৃত যৌনতা আজ তুলেছে মাথা ,
সংবাদের শিরোনামে শুধু যৌন হেনস্থা !
সম্পদের সুষম বন্টন করে যাও নি তুমি ,
তোমার সৃষ্টি ধ্বংস করা মানুষের চরম মূর্খতা।
চারদিকে শুধু হাহাকার –
অসহায় মানুষ তোমায় খুঁজছে আবার ।
ফিরে এসো প্রভু ! তুমি আর একবার,
শক্ত হাতে করো অসুর সংহার ।
শিশুর বাসযোগ্য হোক এ ধরণী –
বড়দিনে প্রভু আর কিছু চাহি নে ।
.

বড়দিনের ভালোবাসা  // প্রিয়নীল পাল 

.
বড়দিনের সকালে তোকে দূর থেকে
দেখে নেবো আমি আমার চোখ রেখে,
তোর হালকা শীতের আমেজ,
খোলা চুলে লাগে তোকে বেশ।
এমনি করেই আসবি তুই
আর আমি মোমবাতির অজুহাতে
তোর হাতে দেবো হাত ছুয়ে।
তুই সব বুঝেও চুপ থাকবি,
আমায় তাকিয়ে মুচকি হাসবি।
আলতো করে তোর দিকে
বারে বারে ঘুরে গিয়ে
দেখতে চাইছি তোর মুখ
বড়দিনের সকালে এটাই বড় সুখ।
ইচ্ছে পূরণ একেই বলে,
সান্টা বোঝে প্রেমের মানে।
আমি প্রতি বছরে শেষের পঁচিশে
চাইতে থাকি তোকে আর তোকে
আর দেখতে পাই
তোর আমার না হওয়ার হতাশা গুলোকে।
তবুও আমি আশা রাখি
পরের বড়দিন কাটাবো একসাথে।
তবুও আমি আশা রাখি
আমার ইচ্ছে পূরণ হবে
তুই ছাতা ধরবি অজানা বর্ষাতে।
আমি শুধু এটুকুই বুঝি
আমার মোমবাতির আলো
একদিন তোর মনেও জ্বলে উঠবে,
দূর করে দেবে ভালো না বাসার কালো।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: