গ্যালারি ফোল্ডার  //   প্রিয়নীল পাল

রঙ্গন ফেসবুক খুলে নিউজ ফিড নামিয়ে নামিয়ে দেখছে, অনেক অনেক খবর, ছবি, লেখা, কিছু দেখছে কিছু না দেখেই নামিয়ে যাচ্ছে, হঠাৎ হাত টা থেমে গেলো! একটা ছবি শুধু থমকে চেয়ে থাকা, ইমোজি অদল বদল থেকে লাভ রিয়েকশ্যান দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

অবশেষে একটা লাইক দিয়ে ছবিটি সেভ করে আবার নিউজ ফিড দেখতে লাগে রঙ্গন।

একটা কবিতা লিখেছে রঙ্গন বিষয়বস্তু “এক যে ছিল ভালোবাসা যা আজও হয় না প্রকাশ করা” কিছু লাইক কমেন্ট এসেছে কিন্তু বারে বারে ফেসবুক খুলে বন্ধ করে দিচ্ছে রঙ্গন। তারপর অনেক ঘন্টা পরে একটা ছোট কমেন্ট “ভালোবাসা হোক সার্থক”। রঙ্গনের মুখ জুড়ে এক রাশ হাসি, লাফিয়ে ওঠার মতোন উত্তেজনা।

একদিন রাস্তায় চা খেতে খেতে হঠাৎ চোখের সামনে সেই ফোনের গ্যালারিতে থাকা একজন কেউ পেরিয়ে চলে গেলো, কত কৌতুক! একটা রাস্তায় প্রায় তিন থেকে ছয় বারে ঘুরে নিলো রঙ্গন।

ম্যাসেনজারে কিছু সৌজন্য সাক্ষাত আছে, ফ্ল্যাট করার একশো নিয়ম রঙ্গন পালন করার চেষ্টা করছে কিন্তু কথার সময়ে প্রায় দেরি করে উত্তর আসে। মন টা খারাপ হলেও যেনো ওই চ্যাট বক্স খুলে রাখার মধ্যেই একটা শান্তি রঙ্গনের চোখ জুড়ে।

এর মধ্যেই একদিন তার স্বপ্ন পরীর প্রোফাইলে একটা গ্রুপ ফটো চোখে পড়ে রঙ্গনের, কে থেকে কি সব জানার তৎপরতা শুরু রঙ্গনের, সাহস করে করে প্রায় সব কিছুই জিজ্ঞাসা শুরু করলো,পাশে থাকা ছেলেটা ভাই থেকে দাদা সব যেনো কথায় কথায় জেনে নিলো রঙ্গন, তার পরে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সে।

একদিন রঙ্গন বন্ধুদের সাথে কথা বলছে পাশের দোকানে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে, পাশে থেকে রঙ্গন তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে, হঠাৎ করে মেয়েটি এসে তাকে বলে তুমিই রঙ্গন তো আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড!

একটু সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে অবশেষে রঙ্গন তার সাথে কথা বলে, সামান্য কথা হওয়ার পর যে যার কাজে চলে যায়। হাতে থাকা মোবাইলে শুধু অপেক্ষা কখন অনলাইন আসবে সে আর কথা হবে, মনে মনে কবিতা গান সব মাখো মাখো রব সাজিয়ে নিচ্ছে। তবে কিছু দিনের মধ্যেই সেইরকম আশাস্বরূপ ফল পাওয়া যায় না।

এক প্রকার গতানুগতিক কথা হতো, দেখা সেই একবারি হয়েছিল, মাস ছয় বেশ ফেসবুকে একটু একটু করে কথা হচ্ছে, ভাবের আদান প্রদান থেকে বাড়ির খুঁটিনাটি জেনে উঠছে রঙ্গন। এই থেকেই রঙ্গনের মনে আশার আলো জ্বলে উঠতে শুরু করে, রঙ্গন ভাবতে থাকে যে হয়তো সে তার প্রতি আগ্রহী হচ্ছে, এরকম করে আসতে আসতে নিজের মনের মিল খুঁজে সে সব কথা বলে দেবে তাকে, নিজেই নিজের মনে এক রাশ গল্প লিখে চলেছে রঙ্গন ।

দিনটা ছিল সোমবার, সকালে খেতে খেতে ফেসবুক নিউজ ফিড নামাতে নামাতে চোখে পড়ে “প্রীতি got engaged সৌমিত্র”।হঠাৎ করে একটা আলোকবর্ষ নিস্তব্ধতা গ্রাস করে নিলো রঙ্গন কে।

তারপর আবার কি ফোনের গ্যালারিতে থাকা ‘আমার প্রীতি’ ফোল্ডার টা আজ ও রয়েছে, কিছু ছবি, ম্যাসেজেরের স্ক্রিন শট সব আছে,

এখনো কেন জানিনা রঙ্গন মুছে ফেলতে পারে নি কিছুই।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: