কোথা যাব কেন যাব কেউ জানিনা

আমি এক নিমগাছ  //  সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

জন্ম আমার অবহেলায়, অপগ্রাহ্যতায়
অসংখ্য আগাছার মতো
পুকুর ধারে কিংবা নদীর ভঙ্গুর গহ্বরে!
যত্ন প্রেম আমার জন্য নয়!
অথচ
আমার থেকে নানান ভেষজ ওষুধ
তৈরি হয়
শিশু সন্তানের শারীরিক আহ্বানে
আমার ডাক পড়ে
দাঁত কে মার্জিত করতে
আমার গাল নাকি অপরিহার্য
তবু আমাকে যত্ন করে
কেউ বাগানে ঠাঁই দেয়না
চৌহদ্দিতে আমার স্থান নেই
উঠোনেও না।অথচ আমারো সংসার আছে
পাণ্ডিত্য আছে
সম্বিত, ধীশক্তি,অভিজ্ঞতা আছে
আছে প্রকরণ জ্ঞান।
 আমার শাখায় নাকি ভূত পেত্নির দৌরাত্ম
আমাকে ব্যবহার করে সমগ্র মানব জাতি
আপন প্রয়োজনে
আমি নিজেই এক বিস্ফোরক গোপনীয়তা
রক্ষা করি
আমার জাত বেজাত নেই
সন্তান উৎপাদনের পরিকল্পনা কেবল!
 তবু আমি ব্রাত্য
আমি পরের মেয়ে?
নিছক প্রয়োজনে
কোনো পুরুষ নাকি তাকে
বিয়ে করে ধন্য করেছে?
আমার স্বাধীনতা নেই?
মতামতের মূল্য নেই?
আমি নিঃসঙ্গ
আমি অপূর্ব সিদ্ধান্ত
ইঙ্গিতে ইশারায় আমি দানবী
দনুজদলনী
ড্রাইভারের স্টিয়ারিংয়ে বসা এক বিদেশি পর্যটক
যত্রতত্র ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ড উদাসীন ডিসিসি
ধূর্ত পুরুষ সমাজ আমাকে যথেচ্ছ
ব্যবহার করে ফায়দা হাসিল করে।ভাবে না আমি নারী—-
আমি ভগ্নী-কন্যা-জায়া

এই মেয়ে  // সত্যেন্দ্রনাথ পাইন  

এই মেয়ে তোর বাড়ি কোথায়?
–শ্বশুর বাড়ি শিবানী পুর
বাপের বাড়ি হরিহরপুর
আমার বাড়ি!
একটা অন্ধকার খিল আঁটা ঘরে
আমার অনাবৃত দেহটাকে একটা পুরুষ
যেখানে চেটে পুটে খুঁটে খায় দানা
নিচে নরম বিছানা
সেখানেই আমার বাড়ি
আমার ঠিকানা।
আচ্ছা বুঝেছি বুঝেছি
তোর পদবী কী?
-বলতে ঘেণ্ণা হয় বাবু ঘেণ্ণা হয়।
অবিবাহিত অবস্থায় বাবা মায়ের পরিচয়ে
পরিচিত হয়েছি। নিজস্বতা বলে
কিছু ছিল না!
এখন বিয়ের পরে
আবার অন্যরকম
টিয়া শালিক নয়তো বকমবকম।
স্বামী শ্বশুরের পরিচয়ে পরিচিত!
পুরুষ বলে তোমরা
যা খুশি তাই করবে এটা কখনো হয়?
বুঝলাম। বুঝলাম
তোর জন্ম তারিখ টা কবে যেন?
কেন?
যেদিন বাবরি মসজিদ ভাঙ্গা হোলো
দাঙ্গা হোল
রক্তের হোলি খেলল হিন্দু মুসলমান সব্বাই
মা তখন ছিল অন্তঃসত্ত্বা
 ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে প্রসব করল আমায়
মা বলে সে এক ভয়ানক স্মৃতি
সেটাই আমার জন্মতিথি।
তুই কোন ্ জাতি?
আমার আবার জাত কী বাবু?
 মা বাঙালি বাবা গুজরাটি
বাসন মাঝি ঘুরে ঘুরে
মাটি কাটি।
পেটে সন্তান জন্মালে প্রসব করি
তখন বুঝি আমি মাতৃজাতি।
আর যখন অন্ধকারে বনের আড়ালে
আমাকে চিবোয় নরখাদকের দল
আমি বুঝি আমি নারী
আমি পিশাচী
যার দুয়ারের মাটি নাহ’লে
তোমাদের দুগ্গো পূজো হয় নাগো
 আমি সেই জাতি।।।।।

কোথা যাব কেন যাব কেউ জানিনা  সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

এত কিছু ছেড়ে যেতে হবে

     মন যে যেতে চায় না
মনে মনে ভজিলে সব ভক্তি-অর্ঘ
      লাগে না লাগে না
কোথা যাব কেন যাব কেউ জানিনা
      সুখ স্মৃতি নিয়েই অশান্তি
সবাই জানি আর উদ্বেগ কাটছে না
       বয়স বাড়ছে মৃত্যু আসছে

ল্যাংচার ল্যাং  //সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

 

ল্যাংচাটা ল্যাং মেরেছে সন্দেশের কপালে

সেই শুনে মিহিদানা ছুটেছে ভূপালে
সেখানে থাকে পান্তুয়া আর চমচম
সব শুনে তারা কাঁদে হরদম
বাঙালির রসগোল্লা প্রতিবাদ করতেই
উড়ে গুলো না বুঝে ফাটাফাটি করছেই।

ঋণ  //  শ্যামল কুমার রায়

   সুউচ্চ অট্টালিকার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে –
গোটা শহর, রাজপথ আজ খুদে আকার ধরে ।
হাত বাড়ালেই নীল আকাশ ছুঁতে ইচ্ছে করে ।
দূর হতে দৃষ্টি নিবন্ধ আজও তোমার উপরে ,
অশক্ত শরীরে থলে হাতে , বাজারের পথে তুমি ।
তোমার ফেলে আসা যৌবনেরই প্রতিবিম্ব আজ –
তোমার দিকে হাত বাড়াতে বড্ড নারাজ ।
বুঝেও বোঝে না আজ কোনো কিছু –
আগামীতে বার্ধক্য নেবে তারও পিছু  –
রূপ, যৌবন,প্রাচুর্য একদিন ভেঙে ছারখার হবে ।
রিক্ত , শূন্য , নিঃসঙ্গ সেও একদিন হবে ।
উচিত ছিল আজও তোমার পাশে থাকা –
বার্ধক্যের দিনগুলো তোমার  চাপ মুক্ত রাখা ।
কল্লোলিনীর জীবন ভোর হতেই শুরু –
মাছের আড়তে তখন বিকিকিনি শুরু ।
দূরপাল্লার বাসও যাত্রা করল শুরু ।
দূর হতে একা বসে ভাবি নিভৃতে –
পেটের দায়ে মানুষ কি কষ্টই না করে !
স্বচ্ছন্দের এ জীবন তো তোমার উপহার –
আমাকে ‘আমি’ বানানোর তুমি রূপকার ।
ঝাঁ চকচকে এ ব্রান্ড আজ বাজারেতে কাটে ,
সৌরভ ছড়িয়ে আজ ফুলের মতো ফুটে ।
অশক্ত , রিক্ত তুমি আজও মানসপটে ।
অমলিন মন আজও তোমার প্রতি –
ধর্মস্থানে দাঁড়িয়ে আজও মাথা খুঁটি –
দুর্ভাগ্যের কালো মেঘের কি হবে কাটাকুটি ?
রবির কিরণ কি দেবে পূব আকাশে উঁকি ?
সম্পর্কের শীতলতার কাটবে কি রেশ ?
সম্পর্কের উষ্ণতার ফিরবে কি আবেশ ?
সব প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা –
সময়ের উপর সব কিছু ছেড়ে, আকাশে মেলেছি ডানা

অতিথি নই  //  মাধব মন্ডল

দু’পা হাঁটতে গিয়ে হোঁচট
কারা কারা হাততালি দিল
টাল সামলে চোখ রাখি তোর বুকে
তুই বললি ছোটলোক
ইংজিরি করলি স্মলম্যান!
তোর কাছে যখন ছুটি
তুই বলিস কী ঘেন্না কী ঘেন্না
ইংজিরি করিস ইরিটেশন!
আর পার্ক সার্কাসে অন্ধকারে আধবুড়িটা
আমাকে খদ্দের ভেবে কত কি বলল।
আমি কী পুরুষ?
হাড় কাটা গলি দিয়ে চোখ খুলে হাঁটি
ক্যানিং দিঘীর পাড় বরাবর
ঘুটিয়ারি শরীফেও বারবার
আমাকে কেউ কেউ দ্যাখে।
আমি তো কাউকে দেখি না
বড় ছোট বাড়ি ছাড়া
আমি তো কিছুই বলি না
অহেতুক হাসাহাসি শুনি
আমি তো অতিথি নই কারো।

পিড়িং পিড়িং – ২২  //  মাধব মন্ডল

কাঁড়ি কাঁড়ি আদরে
মাথা খায় বাঁদরে
মাথা গেছে ঘুরে রে।
খায় দায় কাতরায়
বদ কাজ হাতড়ায়
এটা সেটা সুরে রে।
কেউ যদি বলে কিছু
ধীরে ধীরে মাথা নীচু
বদ কাজ সরে যায় দূরে রে।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *