কবিতার পাতা

প্রেমিক

– সুদীপ্ত বিশ্বাস

ওগো নারী,
তোমার সাজানো ঘরে দুদণ্ড বিশ্রাম নিতে পারি?
পেতে পারি পিপাসার জল?
পেড়িয়ে এসেছি মরুভূমি,অনেক যুদ্ধের কোলাহল।
বড়ই ক্লান্ত আজ
তোমার বাগানে বসে আনমনে বাজাব এস্রাজ।
তোমার পরশ পেলে নারী,
আমিও কৃষক হয়ে ফুলেফলে ভরে দিতে পারি
অকর্ষিত যত ঝাউবন।ওগো মেয়ে,
কেটেছে বসন্ত কত তোমার ছবির দিকে চেয়ে,
অনেক মায়াবী রাতে। প্রণয়ের দারুণ আকালে
বৃথাই আশারা বাঁচে, মরুভূমে মরীচিকা জ্বালে,
দেয় না তো পিপাসার জল।
বড় অসহায় আমি, ভালবাসা আমার সম্বল।
তুমিই আমার নদী।আমি চির-উপবাসী দ্বীপ।
তোমার মায়ার জালে, ওগো নারী,জ্বালাও প্রদীপ।
আঁধারের বুক চিরে, নিয়ে এস পাখি ডাকা ভোর-
সম্পদ চাই না আমি,চাই শুধু,ওই বাহুডোর।

পরাবাস্তবতা

– সুদীপ্ত বিশ্বাস

এখানে হৃদয় জুড়ে শুধুই বিস্মৃতি
হাঁচড়-পাঁচড় শেষে অবসন্ন দেহে
তীরভূমি ছুঁয়ে দেখি, হাসে মহাকাল।
সবকিছু মিশে যায় দিকচক্রবালে
অবিরাম বেজে চলে কালের সেতার।
অতীতেরা চুপচাপ ফিরে ফিরে এলে
সময়ের গাছ থেকে খসে পড়ে পাতা
মিশরের মমি থেকে উঠে আসে কেউ
আগামীর বুক থেকে ভাটির সাঁতারে
প্রতিদিন চুপচাপ ফিরে আসে ঢেউ।
যেটুকু দেখছ তুমি তাও শুধু নয়,
যতটুকু বেঁচে আছি তাও নয় শুধু,
যেটুকু মরেও গেছি সবটুকু মিলে
ওই শোন একটানা বাজছে সেতার।

বৃষ্টি এলে

– সুদীপ্ত বিশ্বাস

বৃষ্টি এলে বুকের ভিতর গোলাপ কুঁড়ি ফোটে
বৃষ্টি এলে মনটা বড় উদাস হয়ে ওঠে।
বৃষ্টি এলে শিউলিতলায়, ছাতিমগাছের ডালে
মনটা বড় কেমন করে বৃষ্টি-ঝরা কালে।
এখন তুমি অনেকদূরে না জানি কোনখানে,
ভিজছো কিংবা গুনগুনিয়ে সুর তুলেছো গানে।
তোমার গানের সেই সুরটাই বৃষ্টি হয়ে এসে
টাপুরটুপুর পড়ছে ঝরে মেঘকে ভালবেসে।
মেঘ বিরহী,কান্নাটা তার বৃষ্টি হয়ে ঝরে
তোমার বুঝি মেঘ দেখলেই আমায় মনে পড়ে?
Print Friendly, PDF & Email

2 Replies to “কবিতার পাতা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *