তিনজন কবির তিনটি লেখা

শিকারের গান -২৮

তাপস মাল

যেখানে আঁধারের শোঁ শোঁ শব্দ বয়ে যায়

সেখানেই খসে পড়ে নদীর জন্মকথা

জন্ম নয় আমার নিঃশব্দ ইমারত …

দু’ গালে নির্জন সিঁদুর চেটে নিচ্ছে প্রতিবেশী

আমার সাতামনী কখনও ঈশ্বর দেখেনি

একবার ঈশ্বরের গর্জন তাকে ভয় দেখিয়েছিল

দূর থেকে …

 

 

কথামালা

গৌরাঙ্গ মিত্র

কিছুই নয়, কিছুটা দূরে ওইখানে

নীরবতার চেয়ে প্রগাঢ় কেউ

পুনর্নির্মাণ করছে মৃত্যু আর ওই দিকেনীড় ছেড়ে অচেনা এক পাখি

উড়ে যাচ্ছে অনন্ত সময়ের দিকে।

 

কেন অপ্রস্তুত তুমি ?

কেন অপ্রস্তুত তােমাদের কথামালা ?

স্টেনলেস স্টীলে বানানাে মিথ্যেরা

মুচকি হাসছে,

জং ধরবে না কখনও সেইসব মিথ্যের গা’য়

ওদের কথার প্রতিধ্বনি করে :

কোনও শােকপ্রস্তাব নয়,

বহুমূল্য এই প্রবাল দ্বীপে

বেদনার বাষ্পমাত্র নেই।

 

অর্ধচন্দ্রাকার হাসি

রিতা   মিত্র

এক উদ্ভ্রান্ত বাতাস দুলিয়ে দিয়ে গেল

আমার হৃদয়ের ব্যস্ত চরাচর,

জরিপের জন্য দৃষ্টি তুলতেই তার

পাগলপারা হাসি।

 

‘যেটুকু বুঝেছ, বােঝ না হলে সম্ভাব্য

উদ্দেশ্য খোঁজ’ বলেই পগারপার,

জোয়ারের জলে তখন পা থইথই,

বালি যেন সরে সরে যায়।

 

|,

অর্ধচন্দ্রাকার হাসি এখন অমাবস্যার চাঁদ।

নেপথ্যে বেজে যায় সাসপেন্স সঙ্গীত,

সম্ভাব্য নাটকের যবনিকা উঠল বলে

 

সন্দিহান দৃষ্টিতে শুধু বহু বর্ণময় কুয়াশা।

 

বাক্প্রতিমা  সাহিত্য পত্রিকা  থেকে সংগৃহীত

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *