কথায় কথায় গল্প

খুকুর বুদ্ধি   //  রণেশ রায়

খোকা-খুকু  দুই ভাই বোন। খোকা খুব দুষ্টু। খুকু শান্ত। খোকার সারাদিন খেলা আর খেলা। তবে দুজনায় খুব ভাব। সময় পেলেই গল্প করে লুডো খেলে। দাদু খুকুকে খুব ভালোবাসে। আর খোকা দুষ্টুমী করে বলে ওকে বকে। এতে খুকু খুব কষ্ট পায়।  খোকার লজ্জা নেই। বকা খেয়ে কানমলা খেযেও হাসে।

একদিন দুজনে লুডো খেলছে। খোকা হারলেই রেগে যায়। তাই খুকু ওকে দান ছেড়ে দিয়ে খেলে যেন খোকাই জেতে। আজ ও ভাবলো ছাড়বে না। খেলে জিতবে বা হারবে। আর খেলায় হারজিত আছেই। খোকার মেনে নিতে শেখা উচিত। ও আজ খোকাকে উচিত শিক্ষা দেবে। তাই ভালো করে খেলবে।  ছাড়বে না। খোকা হেরে যায়। হেরে গিয়ে ওর মাথা গরম। খুকুর মুখে এক ঘুষি মারে। দাঁতে লেগে খুকুর দাঁত পড়ে যায়। মিনু বেড়াল দূর থেকে দেখে। ও খুব কষ্ট পায়। দাদুর ঘরে গিয়ে কাঁদতে থাকে।

দাদু বোঝে একটা কিছু হয়েছে। মিনু কিছু একটা হলেই কাঁদে। তাই দাদুর বুঝতে বাঁকি থাকে না। সে উঠে বেরিয়ে আসে।  ততক্ষনে খোকা বোঝে সে কি করেছে। সে দু:খ পায়। কিন্তু এখনতো দাদু বুঝে যাবে! খুকুও বোঝে আর রক্ষা নেই। এবার খোকার পিঠে পড়বে। দাদু সব দেখে রেগে আগুন। দাদু চিৎকার করে খোকাকে ডাকে। এখন খুকু কি করে খোকাকে বাঁচাবে ! তার মাথায় একটা বুদ্ধি আসে। সে দাদুর কাছে গিয়ে বলে :

—- দেখো দাদু আমার নড়া দাঁতটা পড়ে গেছে। খোকা আমাকে মুখ ধুইয়ে দিচ্ছে। দাদু হেসে ফেলে।  সে আর কাকে বকবে মারবে ! ততক্ষনে খোকা হাওয়া। দিদুর কোলে গিয়ে চুপ করে বসে।

.

লোভে ভাঙ্গন ভাঙ্গনে পতন // 

রণেশ রায়

দু ভাই ছোটন আর টোটন। খুব ভাব। একসঙ্গে নাচে গায় খেলে বেড়ায়। তবে খাবার সময় খুনটুসি। টোটন একটু লোভি। ও একটু বেশি খেতে চায়। মা দুজনকে সমান ভাবে ভাগ করে দেন। ছোটন ভাইকে খুব ভালোবাসে। তার থেকে একটু টোটনকে দেয়। টোটন খুব খুশি।

ওদের পোষা কুকুর ভুলু। সেও ওদের  পিছু পিছু। একসঙ্গে খেলে বেড়ানো। ওরা দু ভাই খেতে বসলে ভুলু ওদের কাছে বসে লেজ নাড়ে। দুভাই ওদের থেকে ভুলুকেও খেতে দেয়। টোটনের মত সেও লোভি। তার লোভে জিভ লক্ লক্ করে। সুযোগ পেলেই ওদের পাত থেকে চুরি করে খাবে। কিন্তু দুভাই একসঙ্গে থাকে। আর ওরাতো ভুলুর ধান্দা বোঝে। তাই সাবধানে থাকে। দুজনের বুদ্ধির কাছে একা ভুলো পারবে কি করে?

ভুলুর মাথায় বুদ্ধি চাপে। সে রান্নাঘর থেকে একটুকরো মাংস চুরি করে এনে মাংসটা খেয়ে খালি বাটি এককোনে রাখে। দুভাই রোজের মতো খেতে বসে। ভুলুও ওদের সঙ্গে। হঠাৎ লেজ নাড়তে নাড়তে দূরে রাখা মাংসের বাটির দিকে এগোয়। টোটন বোঝে ওখানে খাবার আছে। মাংসের গন্ধও পায়। লোভ সামলাতে পারে না। দৌঁড়ে সেখানে যায। এই সুযোগে ভুলো দৌড়ে ফিরে এসে টোটনের খাবার নিয়ে পালায়। একা একা ছোটন আর কি করে ! টোটন ওখানে ভুলুর রাখা বাটিতেও কিছু পায় না। সেটাতো ভুলু  আগেই সাবার করে দিয়েছে।

.

কে পছন্দের  //  রণেশ রায়

মামাবাবুর চার ছেলে। এক একটা একেকরকম। বড় ছেলে একটা গূন্ডা। গুন্ডামি করে অনেক রোজগার তার। সব সময় হাতে ডান্ডা। মেজটা বোকা। মুখে তেমন কথা ফোঁটে  না। সে খুব অভাবী। চালাক চতুর নয় বলে তেমন কিছু করে উঠতে পারে নি। সেজ ছেলে সেয়ানে বড়। সবসময় ধান্দা। কাকে ঠকিয়ে খাওয়া যায়। মানুষ ঠকিয়ে আজ বড়োলোক। পেল্লাই বাড়ি। আর ছোটটা ! বলতে নেই। বাবা মায়ের আহ্লাদে মাথায় উঠেছে। ভীষণ  হিংসুটে। কথায় কথায় ঝগড়া করে। একাই সবটা খাবে।

সবাই স্কুলে একসঙ্গে পড়ে। ওদের সবাই চেনে। মেজটার সঙ্গে সবার ভাব। অন্যদের সকলে এড়িয়ে চলে। মাস্টারমশাই একদিন ক্লাসে রূপমকে প্রশ্ন করে : —— তোরা ওই বোকাটাকে সবাই ভালোবাসিস কেন ? টাকা পয়সা  কিছুই নেই। ভবিষ্যৎ অন্ধকার। অন্য তিনজনকে দেখতে পারিস না ! রূপম বলে: অন্যগুলোতো অমানুষ। ও এখনো মানুষ হয়েও উঠতে পারে। শিখিয়ে পড়িয়ে  মানুষ করে তোলা যাবে। তাই ওকেই বন্ধু বলে ভাবি।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *