একটা করবী বেণী শেষ বাসের যাত্রী

মনের জোরে রোগমুক্তি  //  সুদীপ ঘোষাল

কিশোর মনো বিজ্ঞান পত্রিকা র সহ সম্পাদক জয়ন্ত ভট্টাচার্য ও সহ সম্পাদনা সচিব হৈমন্তী দি খবরের কাগজ পড়ছেন ।সঙ্গে রয়েছে চা ও বিস্কুট ।

খবরের কাগজের একটা খবরে চোখ আটকে গেলো জয়ন্ত দার । পুরুলিয়ার এক পবিত্র মসজিদের পাশে একটি পুকুরের পাড়ে একটি ভাঙ্গা পুরোনো বাড়িতে প্রচুর লোকের আনাগোনা ।সেই বাড়িতে রুগিরা তাদের রোগ কাগজে লিখে একটি ছোটো শিশিতে তেল রেখে পুকুরে স্নান করে আসে । তারপর সেই তেল গায়ে মেখে নিলেই সব রোগ ভালো হয়ে যায় ।

হৈমন্তী দি বললেন, এই ব্যাপারে একটু খোঁজ খবর নেওয়া যাক ।

তার পরের দিন জয়ন্ত দা ও হৈমন্তী দি ব্যাগপত্তর গুছিয়ে রওনা হলেন পুরুলিয়ার রহস্য উদ্ঘাটনের আশায় ।

পুরুলিয়া পৌঁছে একটা হোটেলে উঠলেন ।

তারপর একটু ঘুরতে বেরোলেন ।

একটি লোক শহরের লোক দেখে জয়ন্ত দা কে জিজ্ঞাসা করলেন, একবার মসজিদের পাশে ঘুরে আসবেন । আপনার কোনো রোগ থাকলে ভালো হয়ে যাবে ।

জয়ন্ত দা বললেন, তাহলে ডাক্তার পথ্য এসব কিছুর দরকার নেই ।

হৈমন্তী দি বললেন, একবার গিয়ে দেখা যাবে ।

লোকটি বললো, তাহলে কাল সকালে আমি আপনাদের এসে নিয়ে যাবো ।

জয়ন্ত দা বললেন, তাই হবে, নমস্কার ।

রাতে জয়ন্ত দা ও হৈমন্তী দি চিন্তা করলেন এটা কি করে সম্ভব । কি বিচিত্র এই সব চালাকির লীলা ।

তার পর পরের দিন সকালে জয়ন্ত দা ও হৈমন্তী দি লোকটিকে নিয়ে সেই বিচিত্র স্থান পরিদর্শনে গেলেন ।

গিয়ে দেখলেন অগুন্তি লোক পুকুরের জলে ডুব দিয়ে পবিত্র তেল মালিশ করছেন।

সঙ্গে সঙ্গে দ্বিগুণ উৎসাহে পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন আর হাসতে হাসতে উঠে আসছেন ।

একটা হোটেলে জয়ন্ত দা ও হৈমন্তী দি থাকার ব্যবস্থা করলেন ও দুদিন থাকার মনস্থ করলেন ।

ঘুরে ফিরে জয়ন্ত দা ও হৈমন্তী দি রহস্যময় ঘটনার পুরোপুরি সমাধান করে ফেললেন ।

জয়ন্ত দা বললেন, এটা পুরোপুরি মানসিক ব্যাপার ।

হৈমন্তী দি বললেন, বিশ্বাসের ফলে মানুষ অনেক অসম্ভব কাজ সহজেই করে ফেলতে পারে ।

মানুষের বিশ্বাসের সম্মান করেন জয়ন্ত দা ।

কয়েকজন শিক্ষিত গ্রামের লোক জয়ন্ত দা র কাছে এসেছেন ।

তারা জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে রোগ ভালো হয়ে যাবার গোপন রহস্য কি?

জয়ন্ত দা বললেন, মানুষ এসে প্রথমে দেখছেন, কত গাড়ি কত মানুষ এখানে হাজির হয়েছেন ।ফলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়ে শক্তির অধিকারী হয়ে যাচ্ছে মানুষ ।

মানুষ ভাবছে এত লোকেরা রোগ ভালো হয়ে যাচ্ছে আর আমার হবে না ।

শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস বে ড়ে গিয়ে রোগ মুক্ত হচ্ছে ন মানুষ ।

জয়ন্ত দা ও হৈমন্তী দি বললেন, এতে মানুষের ভালো হচ্ছে । ক্ষতিকর কোনো কিছু হলে আমরা প্রতিবাদ করি । এরা পয়য়া কড়িও নেয় না । তবে প্রকৃত ঘটনা মানুষের জানা প্রয়োজন । অন্ধ কুসংস্কার মানুষকে পিছনে ঠেলে দেয় ফলে সভ্যতা ও পিছিয়ে পড়ে ।

.

.

পরমাণু গল্প

সময়  //  সুদীপ ঘোষাল

কই রে খাবার দিয়ে যা

— রান্নাঘরে যাও
—- যেতে পারবো না,একটু এগিয়ে দে

—- অত পারি না

এই বলে ছেলে মাকে ফেলে চলে গেলো অফিস।  তার সময়ের দাম এখন অনেক বেশি…

.

.

কবিতা

সন্দেহ  // সুদীপ ঘোষাল

অফিস ফেরতা হঠাৎ আমি
ঘরে  ঢুকে দেখি পাখি নেই
হয়ত উড়ে গেছে গোপন অভিসারে

রক্ত চলকে ওঠে. ..
অবুঝ মাকড়সার জালে

বিক্ষুব্ধ মন সহসা
ওথেলো হয়ে ওঠে…

.

ফেসবুক রোমিও  // সুদীপ ঘোষাল

যেদিন তুমি উলঙ্গ ছবিতে হামলে পড়লে
আমার বিবস্ত্র  রূপে মাতাল হলে হোয়াটস অ্যাপে মেসেঞ্জার কিংবা ফেসবুকে

সেদিন বুঝলাম
না ছুঁয়েও ধর্ষণ করা যায়…

নীপার স্বামী ট্রামে চাপা পড়লে
ডাইনি নামে অপয়া বলে কাপড় খুলে পুড়িয়ে দিলে ,উলঙ্গ ছবি দিলে ফেসবুকে

সেদিনও বুঝলাম না ছুঁয়েও ধর্ষণ করা যায়

দুটি ধর্ষণেই ধর্ষিত হয় সবুজ মন…

.

একটাই অর্কিড  //  সুদীপ ঘোষাল

হিজল অশ্বত্থের পথ চেয়ে রূপসী বাংলা
মৃত্যু মুখে অমর চিন্হ ঝরা পালক
প্রাণের সুর উদাস বাউল তোমার একতারায়
বন্ধু আমার সখা আমার বনলতা সেন ঘ্রাণ
জীবন সুরে বাঁধা সবার জীবনানন্দ প্রাণ
মজ্জাকোষে আলোড়ন তোলে তোমার মন্ত্র
সকল দুঃখের অবসান একটাই অর্কিডে
“আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে
এই বাংলায়”…

.

খাদক  // সুদীপ ঘোষাল

একটা করবী বেণী শেষ বাসের যাত্রী
অসহায় চোখ ভরসা খোঁজে চারদিক
তিনটি শাবল উঁচিয়ে কালো হায়নার লোভ

মশারি ফেলেছে শহর ছুটন্ত জঙ্গল পুকুর নিবাস
লাল রক্তে ভিজে যায় সাজানো বাগিচা
অসহায়  রক্ত করবী কুচি কুচি কোনো মালি নেই
লোভ আসে সাজি ভরে একের পর এক
ফাঁকা অন্ধকার মাঠে থামে জীবন রথ

পরের দিন সকাল সকাল উলঙ্গ মাঠে মিছিল

এখনো বছরে বছরে হায়না গুলো জিভ চেটে যায় ক্রমাগত খাদকের বেশে…

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *