ইচ্ছে করে সৌন্দর্য ছড়াই সকল কারণে

.

ব্যবধান // সীমা চক্রবর্তী 

        এ জীবনে কখনো দেখা হবেনা তা জানি
 তোমার আমার মধ্যে বাতাস করবে কানাকানি।
   তুমি হলে অঝোর ধারা চাতক পাখির প্রাণে
        আমি এক রুক্ষ মরু শুষ্কতার টানে।
সাগর ঢেউয়ের শুভ্র সফেন তোমার হাসির ঝলক
 বিবর্নতার ধূলোয় আঁকা আমার মাথার তিলক।
  দিগন্তনীল আকাশ তোমার মুক্তির হাতছানি
    তপ্ত ভূমি শয্যা আমার প্রতিপদে হয়রানি।
   উদ্দাম স্রোত তোমার শরীর, অটুট তবু পার
 ঝড় ঝঞ্জার নিঠুর আঘাতে আমি ভঙ্গুর চুরমার।
 আমার লেখা কাব্যে তুমি স্বপ্ন জল ছবি
  তোমার তরে হয়েছি আমি কলম ভাঙা কবি।
  আমারই র’চা কবিতা তুমি আমার বিরহী গান
     তোমার আমার মধ্যে তবু বিস্তর ব্যবধান।

ঈশ্বর  // সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

আমি দেউলিয়া হয়ে গেছি

    অনাথ তাই
 কত মানুষের কল্যাণ কামনা করে
  নিজেকেই হোমাগ্নিতে আহুতি
    দিতেই রাবণের মত
 ব্রাহ্মণ সেজে পূজা করেছি।
কত বদনাম হজম করতে হয়েছে
   কোনো সময় বমিও করেছি হয়তো
যত সহানুভূতি পেয়েছি
 লাঞ্ছনা পেয়েছি তার দ্বিগুণ
আমার ওপর মানুষের আস্থা কমেছে
মাথা নিচু করে সহ্য করেছি
  প্রেম রান্নাশালে গরম কড়াইয়ে
   ভাজা ভাজা হয়েছে।
নিমপাতার মত থেঁতো করা হয়েছে
আমি দমে যাইনি যদিও
   অনেকবার মৃত্যু হাতছানি দিয়েছে
বিশ্বাস তলানিতে ঠেকেছে
আবার কে যেন আমাকে জাগিয়ে তুলল—
ঠাকুরের কাছে শপথ নিলাম
ভয় নেই-ভয় নেই শুনে
যখনিই সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছি
  ঈশ্বর দেখা দিয়েছে।
আমি দেখেছি তার অপরূপ মূরতি—
তোমরা দেখেছ কি—–
.

ইচ্ছে  // সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

ইচ্ছে করে বড় হয়ে থাকব আকাশেতে

ইচ্ছে করে চাঁদ হয়ে দেব জ্যোৎস্না রাতে

ইচ্ছে করে ফুল হয়ে ফুটি কাননে

ইচ্ছে করে সৌন্দর্য ছড়াই সকল কারণে

ইচ্ছে করে নদী হব, হব সাগরপার

কারোর ধার ধারব না আর, আমি হব আমার।

ইচ্ছে ইচ্ছে ইচ্ছে ইচ্ছে হচ্ছে মনে

আমি নারী আমি পুরুষ হব সকলখানে

আমি হলাম আমার, নজর ছিল সবার

ইচ্ছে করে জয় করি বিশ্বমানবতার

এমন ইচ্ছে জাগলে মনে , মানবে না কেউ জানা

তাইতো বলি আমার ইচ্ছে ভরাট খন্দখানা।।

.

বাবা দিবস   // সত্যেন্দ্রনাথ পাইন।

একটা মানুষ আমাকে জন্ম দিল

সমাজে আমার পরিচিতি ঘটল

ধর্মতলা কচুবন অফিস আদালত কল কারখানা

ক্ষেত নির্লিপ্ত সারণীতে পৌঁছে দিল

একটা কবিতা রচিত হোল বর্ষার ছন্দে

প্রেম ভালোবাসার খেলা চলল অবিরাম

ঘৃণা উপেক্ষা এল মধুমক্ষিকার মতো

মঞ্চে আমি

কোনো আধুনিক অসভ্যতামির সীমানায়

আমার মনের আঁধার রাতি

দেখল আলো আর অন্ধকার

বয়স থেকেই আমি হলাম– আমি

ভুল ভ্রান্তি হতেই পারে

কিন্তু যৌবনের বন্দরে আমার

স্মৃতি অদ্ভুত ভাবে মোচড় নিল

ভুলে গেলাম আত্মপরিচয়

প্রত্যাখ্যান করলাম পিতৃ পরিচয়

আবরণ আবর্জনায় ভরে গেল

ককটেল বিস্ফোরণে নিজের স্বার্থে

নিজের মধ্যেই যুদ্ধ শুরু করলাম

তারপর মেজাজ দেখিয়ে ক্ষমতায় থাকতে

রক্ত জমাট বেঁধে আমায়—-

শোনাল নতুন সুর

আমি বুঝলাম বাবার  আপন সত্তা—

.

শীত  // জ্যো তি র্ম য়  রায়

আর একটু জড়িয়ে ধরো…তাকে
পাথর সাজিয়ে রাখা পৃথিবী বুকে তার।
খুচরোর দরে মন বিকিয়ে ফেলে মুখের ভিরে
মনখারাপিতে প্রেমিক ভেবেছো যাকে …
ও বেলায় ডালভাতে ফুরিয়ে গেছে সেও
ফ্রিজের শীতে জ্বর ভীষণ ।একঘরে
“ভালোবাসি ” অপমান নাকি ঘৃণা
            তফাৎ মাপছে না কেউ !

দিগন্তের-দাগে  //   সুপ্রতীম ওঝা

শব্দ গোনে প্রতিধ্বনি
  ছন্দ মেলার ধাঁচে,
ঝাপসা রাতে অবছায়াতে
বৃষ্টি ভেজা কাঁচে..
বৃষ্টি যখন শব্দ মেশায়
 আবেগ ভরা চোখে,
সঙ্গ দিলো ঝোড়ো হাওয়া
প্রকাশ্যে দিবালোকে..
সময় যখন ভ্রুকুটি করে
 চাপা ঠোঁটের রাগে,
আকাশ মাটি ছুঁতে পেলো
  ” দিগন্তের- দাগে “
.

খুঁজে পাবে সব  //    প্রিয়নীল পাল

.
একটু যদি সময় পেতে চাও
তাহলে তুমি ঘুরে তাকাও।
সারি সারি রোদ্দুর
আকাশে সমুদ্র
সবই দেখো এলো মেলো
একই আছে বাদলায় নি,
শুধু ছুটে চলেছো তুমি।
বিকালেতে খোলা মাঠ,
তুমি সেই ভিড় বাস
কখনো তো দু-পা হাটো।
হলে হোক মাথা গরম
তুমি হও একটু নরম
শীতে না থেকে
এসো তুমি সূর্যের নিচে
দেখো সব একই আছে।
চলো ছুটে দেখো
হাতে রঙিন বেলুন রেখো
হাওয়াদের সাথে ভেসো।
দেখো পালিয়ে নদী সমুদ্রে
অনেক না হোক একটু দূরে
আসবে তুমি নিজের কাছে।
 দুপুরে সকালে লেখো
তুমি তোমার মনের কথা
ছুড়ে ফেলো যতো আছে ব্যাস্ততা,
এক থাকবে সব
দেখবে কিছুই যেনো
বদলে যেতে চায় না।
.
পিড়িং পিড়িং – ২৩   //  মাধব মন্ডল
ওরে আমার দুষ্টু মেয়ে
ভয়ের কিছু নাই রে
ভাতটা আমার হয়ে গেছে
দিচ্ছে সিটি প্রেসার কুকার তাই রে!
ভয় পাস না ভয় পাস না
ভয়ের কিছু নাই রে।
আমার সঙ্গে যাবি নাকি
ধীরে সুস্থে নামিয়ে রাখি
প্রেসার কুকার ভাই রে?
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: