আর না করি বিবাদ না করি তর্ক

 ১৪২৫  //  সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

.
হে নূতন হে অনন্তলোক
  গ্রহণ করো নব সিংহাসন
পুরোনো কুটিলতা চূর্ণ হোক
  ধুলো ঝেড়ে এসো এই ক্ষণ।
বছর হয়ে যায় শেষ
  দূরে প্রচণ্ড তাপদগ্ধ নীলাকাশ
কাল প্রভাতে ফুটুক নব ফুলদল
  লজ্জা শরম ভুলুক পরিহাস।
অপেক্ষারত মোরা তোমার তরে
  মঙ্গলশঙ্খ বাজাও সকল ঘরে
তাপদগ্ধ মধ্যাহ্নে করো আশীর্বাদ
  আগামীতে যেন পাইনা বিষাদ।
মনে শ্রান্তিহীন বিরামহীন ক্লেশ
  হয় যেন অবসান, পায় তৃপ্তির রেষ
শোনাও উদাত্ত বাণী অহরহ দিকে দিগন্তে
  পুরোনো সব কিছু ত্যজি অনন্তে
আমাদেরে দেখাও পথ মোছাও অশ্রুজল
  উড়ূক বিজয় নিশান, হৃদয়ে ফুটুক কমল।
আর না করি বিবাদ না করি তর্ক
  করছি শপথ ভুলে যাব সকল দর্প।।
ব্যাথার প্রলাপে‌ হব না শৃঙ্খলহীন
হে বৈশাখ আনো আনো আনো
  করি আহ্বান
আবার দাঁড়াব উঠি বাজাবো রণভেরী
  বাঁধিব পরান।
আবার সাজাবো আভরণে গৃহকোনে
  যে রয়েছে মলিন মোদের প্রাঙ্গণে
আবার বর্ষণমুখর মেঘ ভাসিবে আকাশে
  মৃদুমন্দ বাতাস বহিবে অবশেষে
মোদের দ্বারপ্রান্তে স্নিগ্ধ কলেবরে
  নীরবে নিশ্চিন্তে তপ্ত কোমল স্বরে।
তুমি শুধু যোগাও সাহস বাজাও বীন
  যা গেছে তা যাক আবার ফিরবে দিন
ভুলে না যাই আপন আবেগ আপন বল
  পারি যেন জিনিবারে আপন সম্বল
সুদূর সে দেশ থেকে আনো নব সুর
  যে সুর শুনে সবে বলিবে মধুর
যে চাঞ্চল্য আজ মোরে করেছে অস্থির
  তোমার অভয়মন্ত্রে হয় যেন শান্ত সুগম্ভীর।
নয়তো দাও তারে চরম শাস্তি অভিশাপ
  অন্যায় অসত্য পথে যারা করেছে মহাপাপ
নির্মম সুকঠোর অগ্নিবানে জ্বলুক অনল
  করুণ হাস্যে পড়ুক গভীর অশ্রুজল
মূর্তিহীন হে প্রাণেশ ডাকি তোমায় সৌজন্য শ্রদ্ধায়
  লও প্রণতি। বরষের শেষ প্রত্যাশায়
জ্বালাও আলো ‘বর্ণে বর্ণে বিচিত্র রেখায়’
  আর কোকিলের কুহু ডাকে গভীর তৃষায়।
আমি অর্বাচীন সেদিন উঠিব অট্টহাস্যে জাগি
  তব সুতীব্র ন্যায় বিচার দেখিবার লাগি।।
.
.

পিড়িং পিড়িং – ২৩  //    মাধব মন্ডল

ওরে আমার দুষ্টু মেয়ে
ভয়ের কিছু নাই রে
ভাতটা আমার হয়ে গেছে
দিচ্ছে সিটি প্রেসার কুকার তাই রে!
ভয় পাস না ভয় পাস না
ভয়ের কিছু নাই রে।
আমার সঙ্গে যাবি নাকি
ধীরে সুস্থে নামিয়ে রাখি
প্রেসার কুকার ভাই রে?
.
.

গাছের কান্না   //  সব্যসাচী নজরুল

তুমি আমি
ঐ নিরালায়
হেলান দিয়ে গাছের সাথে;
শীতে গরমে
আহা আরামে
কথকতায় বেলা  কাটে।

গাছের কান্না
পাতার কান্না
কখনো শুনিনি কান পেতে;
ঝরা পাতায়
গাছের কান্নায়
অশ্রু ঝরে দিনে রাতে।

ক্ষণে ক্ষণে
অক্সিজেনে
গাছের কান্না মিশে বায়ুতে;
সর্বক্ষণ ই
মোরা সবে
শ্বাস-প্রশ্বাসে বাঁচি আয়ূতে।

রসে কষে
সব শেষে
ক্লান্তিতে সর্বহারা মাটিতে
বিলান রসে
যৌবন শেষে
মিশে মিছে মায়ার ঘাটিতে।

ভোজেশ্বর, নড়িয়া, শরীয়তপুর।

.

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *