আপন ভাবনায় ব্যস্ত সবাই ক্ষণিক শোক করে

সুবরিষণ  //  মিজানুর রহমান মিজান

.

অলীক সুখের স্বপ্ন দেখে

ঘরবাড়ি ছাড়ে কতজন

ভাবে শুধু দুনিয়া নিয়ে

আর কিছুর নাই প্রয়োজন।।

অমরত্বের নাইবা নিয়ম

আদি থেকে অদ্যাবধি কেড়ে নিল দম

ভবিষ্যতে বহাল ধারা সঠিক একদম

মিছে ভাবনায় শুধু ক্ষয় দেহ মন।।

অহংকার লোভ হিংসা অর্থের বড়াই

সব ফেলে নগ্ন হয়ে যাত্রার দৃশ্য পাই

কারুনের ধন ফেরাউনের দাম্ভিকতার চিহ্ন নাই

মোহময়ী এ হাঠে সাজনা রসিক সুজন।।

অপরাধের অপরাধী সাজা ভোগ লাগে

কেবা কোথায় পেল রেহাই ভাবনা আগে

হয়তো ক্ষণিক ব্যবধান নিত্য আছে সঙ্গে

ধন্য কর জীবন হৃদয় হোক রওশন।।

আপন আপন করছ যত এ ভব মাঝারে

কেবা কোথায় সঙ্গে গেল আসা যাওয়ার সংসারে

আপন ভাবনায় ব্যস্ত সবাই ক্ষণিক শোক করে

অনুতাপে পোড়ে মরা ছাড়া বহে না সুবরিষণ।। 

.

.

.

উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের লেখা  ‘A slumber did my spirit seal’    অবলম্বনে

অবরুদ্ধ আমার মনন  //  রণেশ রায়

.

.

আমার মনন কারাগারে নিক্ষিপ্ত আজ

গভীর নিদ্রায় অবচেতন অবরুদ্ধ সে

মানবীয় ভয় স্পর্শে না তাকে

পার্থিব জগতের ছোঁয়া লাগে না মননে

বল হারিয়েছে সে, সে নির্জীব নিশ্চল

শ্রবণ যন্ত্র বিকল বিকল তার, সে দৃষ্টিহীন

প্রকৃতির প্রাত্যহিক চলনরীতিতে তার চলা

বেঁচে থাকে সমুদ্র পাহাড় বৃক্ষের সঙ্গী হয়ে।

.

.

উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের লেখা ‘She dwelt the untrodden ways’ নামক কবিতা অবলম্বনে

 

একাকী নির্জন পথে তার বাস

নির্জন সৈকতে বসন্তের স্পর্শে

সে এক তন্বী তরুণী

প্রশংসা করার কেউ ছিল না তাকে

কে আর ছিল তাকে ভালোবাসবে?

 

সে লুকিয়ে থাকে

সুগন্ধি ক্ষুদ্র শেওলা ধরা পাথরে

তার উজ্জ্বল চোখ

প্রজ্জ্বলিত তারার মত

জ্বলতে থাকে আকাশে।

 

বাস তার এক অজানা জগতে

জানা ছিল তা অল্প কজনের

মৃত্যুর পর আজ সে কবরে শুয়ে

আমার থেকে নিজেকে রেখেছে দূরে।

.

.

.

ছেলেবেলা  //     প্রবীর রায় 

.

শৈশবের সেই দিনগুলি
আজও মনে পড়ে
স্মৃতির পাতায় থাকবে
সারাজীবন ধরে।
পাঠশালায় যাওয়া-আসা
পথিমধ্যে মারামারি-দুষ্টুমি
শরৎ স্যারের কানমলা আর 
বিপদ স্যারের বেতের পিটুনি।
তাইরে নাইরে ঘুরে বেড়ানো
যখন তখন দৌড়-ছুটাছুটি 
উজলা নদীতে লাফ-ঝাপ 
ডুবাডুবি-কাদা মাখামাখি।
একসাথে দলবেধে গিয়েছি
বারুনী-বৈশাখী মেলায়
বর্ষার দিনে মাঠে ঘুরেছি 
নৌকা আর কলার ভেলায়।
পাখিও তার ডিমের সন্ধানে
ছটকা নিয়ে বনে-জঙ্গলে
কাগজে বানানো নৌকা
ভাসিয়েছি বৃষ্টির জলে।
দুষ্টুমির কারনে খেয়েছি কত
মায়ের মার আর বকুনি
ছেলেবেলার সেইসব স্মৃতি
যা আজও ভুলতে পারিনি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: