অসম্পূর্ণতা   //  অভ্র ঘোষাল

856
গত বছর সেই প্রথমবার বসন্ত-পঞ্চমীতে তোকে দেখেছিলাম হলুদ chiffon-এর শাড়ির মোহময় আবরণে। তোর কপালে ছিলো খুব ছোটো একটা কালো টিপ, আর ছিলো তোর ওই দুটো চোখে হালকা একটু কাজলের ছোঁয়া! ব্যস, তুই হয়ে উঠলি সম্পূর্ণা, হয়ে উঠলি মায়াবিনী।
সেই ছিলো আমার প্রথম প্রেমের স্বাদগ্রহণ।আর তোর ওই ডান পাশের গজ দাঁতটা যখন ঝলকে উঠলো তোর ঠোঁটের মুচকি হাসির গাঢ়ত্বে তখন বুঝলাম আমি এই হাসিটাকে কতোটা ভালোবাসি! তোর চোখে ছিলো গভীরতা, তোর ওই ঠোঁটের আস্ফালনে ছিলো পৃথিবীর গূঢ় মাদকতা। আমার  মনের মধ‌্যে জানি না কেন সেই মুহূর্তেই ধ্বনিত হয়েছিলো রবি ঠাকুরের সেই গানের line-টা— “তুমি ছাড়া কেহ সাথী নাই আর, সম্মুখে অনন্ত জীবন-বিস্তার!”আমার চোখে ছিলো খুব বড়ো একটা স্বপ্ন আর ছিলো তোর জন‌্য অপেক্ষা করার একটা ফুটন্ত আকাঙ্খা!অপেক্ষরা শান্ত হলো যখন তুই এলি, এসে শান্ত করলি আমার হৃদয়কে। চোখ ফেরাতে পারিনি সেদিন তোর চোখের থেকে।
আমি বরাবরই খুব বেপরোয়া আর এলোমেলো ধরনের;তুই তা জানতি।তাও তুই একটু অনুযোগ করলি আমার সাদামাটা পাঞ্জাবী আর jeans-এর বহর দেখে। আমিও শুনেছিলাম খুব মন দিয়ে তোর সেই সুমিষ্ট কথাগুলো। কারণ, তোর সেই কথাগুলোর আড়ালে আমি দেখেছিলাম ভালোবাসার চাপা উষ্ণতা। তোর কথায় দাড়ি shave না করে, trim করতাম। তোর লাল nail-polish জড়ানো আঙুলগুলো বুলিয়ে দিয়েছিলি আমার সেই দাড়িময় গালে। হয়তো সেটাই ছিলো তোর কাছ থেকে পাওয়া প্রথম আর শেষ স্পর্শের অনুভূতি। এক সপ্তাহ পরে তোকে দেখতে গেলাম হাসপাতালের morgue-এ।সাদা কাপড়ের চাদর সরাতেই বেরিয়ে এলো তোর সুস্নাত মুখখানা।
এক রাতে তোর নারীত্ব লুন্ঠিত করে, তোকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে শেষ করে দিয়েছিলো একটা কুকুরের দল!তোর গলায় বসিয়েছিলো ছুরির কোপ! সহস্র প্রশান্তির গভীরে তখন তুই যাত্রারম্ভ করেছিস।আজ দেখতে দেখতে একটা গোটা বছর পেরিয়ে আরও একটা বসন্ত-পঞ্চমী এসে উপস্থিত হলো। আজও আমি বসে আছি তোর ছবিটার দিকে তাকিয়ে, যদি আবার শুনতে পাই তোর ডাক— “এই হনুমান, চল না! গঙ্গার ধারে একটু ঘুরে আসি কিংবা coffee house-এ! “
প্রথমটা তোর পছন্দ আর দ্বিতীয়টা আমার… 
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *