অন্ততকালের বাহিত নদী গেয়ে যায় কতো গাঁথা

বিদায় // সীমা চক্রবর্তী

     

এবার যাওয়ার সময় হলো, দাও তবে বিদায়

বেদনা-বিদুর স্মৃতির বোঝা কেমনে বহিব হায়।

স্রোতস্বিনীর দু’কুল যেমন, মিলন নাহি তো তার

তোমার আমার তেমনি সখ্য, দুইজন দুই ধার।

অন্ততকালের বাহিত নদী গেয়ে যায় কতো গাঁথা

তারই ভেজা তটে খোদিত কত শত প্রেম-উপকথা।          

অবিদিত এই যাত্রাপথের হবে বুঝি চির অন্ত

আর দূর নেই, আকাশ মাটি ঐ চুমিছে দিগন্ত।

বৃথাই হলো জন্ম আমার, বৃথাই কথ-কথন     

কাটলো দিন প্রতিটা দিন আঁকড়ে ঘরের কোন।

কতো সরব যন্ত্রণা নতমুখে নিরবে করেছি পান

অনাকাঙ্ক্ষিত বিরহ জ্বালায় থাক দুজনারই অবদান।

শেষবার তাই অনভিলাষে বলে যাই অকাতরে

দাও হে বিদায়,বেঁধো না মোরে অদেখা প্রেমডোরে।

 

 

.

 

আনন্দমেলা     //  রণেশ রায়

(প্রস্তাবিত ‘হাতে খড়ি’ নামে প্রস্তাবিত বইয়ের থেকে)

   বাঁদর ভোঁদড়  দুই বন্ধু। ঘরে বসে গল্প করে। বাঁদরের লেজটা এইয়া মোটা আর এততো বড় ! কিন্তু ভোঁদড়ের  লেজ কোথায় ? এমন সময় কট কট কট। দরজায় টোকা। কে এলো? ভোঁদড় গিয়ে দরজা খোলে। এসে গেছে বাউল বন্ধু। এসো  এসো। পাতা আছে পিঁড়ে খেতে দেব চিড়ে ।

 

তিনজনে বসে। এখন বাউল গান শোনাবে।

—– তোর একতারাটা  কই? গান শোনাবি না? বাঁদর প্রশ্ন করে

—– একতারা  গেছে মেঘ পুরীতে

—-  কেন?

—— ওখানে ওর নেমন্তন্ন ।  ও একতারা বাজাবে।

—— তবে আমরা গান শুনবো না ? ভোঁদড় বলে।

—– হবে হবে। সবুর কর। সবুরে মেওয়া ফলে। তা, তোর লেজ কই ? বাউল জানতে চায়।

—– আর বলিস না! জঙ্গলে দস্যুর আক্রমন। লেজ আগুন গায়ে লাগিয়ে মশাল জ্বালিয়ে গেছে জঙ্গল পুরীতে। দস্যুদের পুড়িয়ে জঙ্গলবন্ধুকে উদ্ধার করবে। দস্যুরা লেজের আগুনে পুড়লো। লেজের আগুন এবার কি করে নেবে।

 

বলতে বলতে মেঘ বন্ধু বৃষ্টি পাঠালো।  বৃষ্টি নেমে এলো নাচতে নাচতে। ঝম ঝম ঝমা ঝম। লেজ লাফাতে লাফাতে ঘরে ফিরে  এলো দস্যু মেরে। সে আবার ভোঁদড়ের লেজে এসে বসলো। আনন্দে বাউল বৃষ্টির তালে তালে গান ধরলো।  সে এক আনন্দ মেলা।

 

.

অন্তিম সময়   //   স্মৃতিরঞ্জন পানিগ্রাহী

আমাদের এখানেতে  মানুষের মন

সংকুচিত হয়ে আছে ধমনী শিরায়;

একদিন সমুদ্রের পানে চেয়ে দেখি –

পৃথিবীর শেষ নেই অন্ত নেই কোনও

ওদিকে পাহাড় ছোঁয়  আকাশ চুড়ায়,,,,,,

 

তাই মোরা শান্ত হয়ে পড়ে আছি

গৃহের ভিতর,

গৃহের ভিতর আছি –

মুক্তো  হয়ে পড়ে আছি ঝিনুকের পেটের ভিতর;

কখন আসবে তা কে বলতে পারে –

সে অন্তিম ক্ষণ

যখন চোখের সীমা ছুঁয়ে যাবে সমুদ্রের ঢেউ ,

পাহাড়ের চুড়া থেকে মরুভূমি বালি,

আর সব অন্তহীন যত পারাপার,

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: