অনুভবের কথা

সাক্ষাৎকার

 

সাহিত্যশ্রুতি :  লেখার জগতে কি ভাবে এলেন – প্রথম লেখাটির বিষয়ে কিছু বলুন ।

.

চন্দন সেনগুপ্ত  :  আমি পেশাগত জীবনে ছিলাম একজন ভ্রাম্যমান মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ। জীবনে চলার পথে বিভিন্ন ধরনের বহু চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত হবার সুযোগ পেয়েছি। অবসর জীবনে সেই চরিত্র গুলিকেই একটু কল্পনার রঙ রাঙিয়ে উপস্থাপন করার চেষ্টা করি। আমার প্রথম লেখা একটি কবিতা  “পাগল”। লোকটি আমার ফ্ল্যাটের সামনেই ফুটপাথে সপরিবারে থাকত। হঠাৎ একদিন রাত্রে তার মেয়েটিকে কিছু নরপশু তুলে নিয়ে যায় এবং তাকে পরের দিন পরমা আইল্যান্ডের কাছে মৃতা অবস্থায় পাওয়া যায়। এর পরে তার মানসিক অবস্থার প্রতিফলনই আমার এই কবিতায় তুলে ধরতে চেষ্টা করেছিলাম।

                    .                                                                                                                           
সাহিত্যশ্রুতি: লেখা কি শিখে লেখা যায়  না কোনো অনুভবের প্রয়োজন  আছে ?
চন্দন সেনগুপ্ত  :  আমার মনে হয় লেখা ঠিক শিখে লেখা যায় না। এটা নিজের চিন্তা ধারাকে প্রকাশ করার ক্ষমতা। এটা একটা সুপ্ত প্রতিভা যা সব মানুষের মধ্যেই কম বেশী থাকে। প্রয়োজন প্রকাশ করার নিয়মিত চর্চা।

.
সাহিত্যশ্রুতি : বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ কি ভাবে আরো উজ্জ্বল করা যায় ?

.
চন্দন সেনগুপ্ত  :  এ ব্যাপারে মতামত দেবার মত উপযুক্ত আমি নই।

.
সাহিত্যশ্রুতি :  ইদানীং কোন কোন পত্রিকায় লিখছেন  ?

.
চন্দন সেনগুপ্ত  : সুপ্ত প্রতিভা বলে একটি ফেসবুক গ্রুপের ম্যাগাজিনে আমার একটি লেখা  বেশ কিছুদিন আগে প্রকাশিত হয়ে ছিল।

.
সাহিত্যশ্রুতি : ফেসবুক  কি  বাংলা সাহিত্যকে নতুন কোনো আশার আলো  দেখাচ্ছে ?

.
চন্দন সেনগুপ্ত  : কিছুটা তো বটেই। কারণ ফেসবুকের কল্যাণে আমরা বেশ কিছু ভাল অনামা লেখক ও কবির লেখা পড়তে পাই। আর এই সব লেখকরাও একটা প্ল্যাটফর্ম পান তাদের প্রতিভা প্রকাশের।

.
সাহিত্যশ্রুতি : ভালো লেখা  লিখতে গেলে কি  ধরণের বই পড়তে হবে  ?  আমরা কবিতার কথা বলছি ,

.
চন্দন সেনগুপ্ত  : আমি মনে করি শুধু কবিতা নয় সাহিত্য চর্চার জন্য সব ধরণেরই বই পড়া উচিৎ। এবং এর থেকেই প্রকাশ ভঙ্গিমার একটা রূপরেখা তৈরি করা যায়।

.
সাহিত্যশ্রুতি : লেখকের  কোন    গুণ  থাকাটা  সবচেয়ে বেশী জরুরী ?

চন্দন সেনগুপ্ত  :  চিন্তা শক্তি ও তার সুসংগঠিত প্রকাশ ভঙ্গিমা।

.
সাহিত্যশ্রুতি :  :বর্তমানে আপনি কি ধরনের লেখা বেশী  লিখছেন ?

.

চন্দন সেনগুপ্ত  :  আমি নিয়মিত লেখক নই। চলার পথে কোন বিশেষ ঘটনা বা ব্যক্তিত্বের সন্ধান পেলে তা প্রকাশ করার চেষ্টা করি মাত্র।
.
সাহিত্যশ্রুতি : আপনার কাছে ভালো লেখার সংজ্ঞা কি ?

চন্দন সেনগুপ্ত  :  গল্পের চরিত্রদের সঠিক মূল্যায়ন করে তাদের উপস্থাপন করা।
.
সাহিত্যশ্রুতি : আপনার ভাবনায় পাঠকরা কি খুব উপকৃত হচ্ছেন  ফেসবুকে  প্রকাশিত লেখা  পড়ে ?
.
চন্দন সেনগুপ্ত  :  কিছুটা তো বটেই। কারণ অনেক লেখাতেই সামাজিক সমস্যা ও তার সমাধানের পথ উপলব্ধি করা যায়।

.

আমার প্রথম লেখাটি সঙ্গে দিলাম ….

পাগল

মোর জীবনে না আছে সুর না আছে তাল নাই কোন ছন্দ

কিছুই মনে কাটে না দাগ লোকে কি বলে ভাল বা মন্দ।

হয়তো তোমরা যা ভাল বল তা ভাল নয় মোর কাছে

কিম্বা আমি যা ভাল ভাবি তা ভাল নয় তোমাদের চোখে,

তোমাদের ছন্দবদ্ধ জীবনে আমি দিশা-হীন এক পথিক

নিজের মতই চলি যে আমি ভাবি না ভুল কি ঠিক।

বিনাদোষে পেয়েছি যাতনা, দেখেছি তোমাদের লোভের থাবা

কিশোরী মেয়েটাকে তুলে নিয়ে গেল আমি নিরুপায় বাবা।

পরদিন তাকে পেলাম যখন সে তখন এক ধর্ষিতা শব

মোরা ফুটপাত বাসি তাই সেদিন ওঠেনি কোন কলরব।

মেয়ের শোকে স্তব্ধ তার মা হয়ে গেল কেমন চুপ

একদিন কাজ থেকে ফিরে দেখি সে বিষ খেয়ে নিশ্চুপ।

কাদের জন্য আমি আর বাঁচব কি আর আমার আছে

চুপি চুপি তাই দিলাম ঝাঁপ মা গঙ্গার বুকের মাঝে,

কপালের ফেরে বাঁচলাম আমি কিন্তু গেলাম সব ভুলে

কে আমি, কি ছিলাম সব যেন ছায়া ছায়া চোখে দোলে।

আমার চলার পথেতে থাকে তোমাদের হেয় দৃষ্টি

আমাকে দেখে তোমরা ভাব ভগবানের কি অনাসৃষ্টি।

কিন্তু জেনো আমার জীবনে এখন নাই কোন দুঃখ ক্লেশ

আমার নিশ্বাসে থাকে না তাই কোন হিংসা বা বিদ্বেষ,

ভাল আছি আমি আমার জীবনে আকাশ কুসুম আঁকি

নিজের জগতে বিভোর আমি নিজেকেই নিয়ে থাকি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *