অতঃপর স্বপ্ন দেখি

যাকারিয়া আহমদ

লালিত স্বপ্নটাকে ভেঙে চুরমার করি

অপবাদের সংশয়ে,

অপবাদ! না, অজানা সঙ্কায়,

শুধু তোমার অজানা সন্দেহের সঙ্কায়; অতঃপর

স্বপ্ন দেখি, আবার ভাঙি, গড়ি, এরই ভেতরে

অনেককাল পেছনে ফেলে এলুম।

নির্ধারিত পথে চাঁদের একাকি চলা ও আমার

সেই পুরাতন পথে একদম একাকি চলার মাঝে

ফারাক খুঁজি, খুঁজে ব্যর্থ হই না; দুঃখ নেই না,

ক্লান্ত হই না, ভাবি নেই-এর ভেতরে হয়তো

জীবন! নেই-এর ভেতরে হয়তো আমি নেই হয়ে

যাবো।

জানি না, আমাকে তোমার স্মরণে পড়ে কি

না, তোমার ভেতর থেকে আমাকে নেই করে

ফেলেছ কি না? তাও ভাবি না।

নদীর ঘাটে গা-পোড়া রোদ্দুরে দাঁড়িয়ে

কতোদিন যে অপেক্ষা করেছি তার ইয়ত্তা

নেই, বিশ্বাস করবেও না হয়তো, নদী পারের

গাছপালা সাক্ষী আমার।

সাদামাটা চেহারাটা নিয়ে একান্তভাবে

ভাবতে গিয়ে পথ চলায় বারবার হোঁচট খাই;

কোনো কোনো সময় অপমান সই! অপমানিত হই

আরো অনেক ‘তোমার’ সঙ্গে, তখন জ্ঞান

ফিরে, ফের হাঁটি, অতঃপর স্বপ্ন দেখি।

উনিশ বছরের ভালোবায় কেন উনিশ-বিশ হলো

তা কল্পনাও করতে পারি না, নিজেকে দোষি;

অবশিষ্ট স্বপ্নগুলোকে ভেঙে চুরমার করি, সব

ভুলে আবার গড়ি, চেতনা ফিরে পাই, অতঃপর

স্বপ্ন দেখি।

নির্দয় নদীর পারভাঙা দেখে নিজেকে

শান্তনা দেই; দেখ! দু’পারের ভেতরে জল–তবু

স্রোতে পার ভাঙে, ভাঙে নদী পারের

বাড়িঘর! তোমার হৃদয়ে যেজনকে লালন করো

হে মন, সেও তোমাকে কষ্ট দেবে! এতে তার

উপরে ‘মনভাঙার’ অজুহাত তুলে লাভ নেই;

তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখ, অতঃপর স্বপ্ন দেখি।

অতদবিরের নিমিত্তে অতঃপর স্বপ্ন দেখি না,

স্বপ্ন দেখি সব তদবিরের পর;

তোমাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে তন্দ্রা আসে,

কিন্তু স্বপ্নরা তন্দ্রাকে ভেদ করে আবারো

আসে!

অতঃপর স্বপ্ন দেখি।

কাল ক্ষেপণের মানে কি এই, তুমি আমাকে

ভুলে যাচ্ছ?

যাও, যেতে পারো;

সময়ের অবিরাম স্রোতে চলতে থাক!

কালবিৎ বুঝে চলো,

যদিও আমি হোঁচট খাচ্ছি–

অতঃপর স্বপ্ন দেখি।

যেই জায়গাতে দাঁড়িয়ে বলেছিলে ‘আমার নখ

কেটে দাও, মেন্দি দেব হাতে’ সেই মাটির গন্ধ

এখনো আসে!

কথাগুলি আজো ভুলতে পারি না, অনেক কথা

মনে পড়ে– অতঃপর স্বপ্ন দেখি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: