অগ্নি পরীক্ষা

সুদীপ ঘোষাল

একবার কিশোর গল্পের সহ সম্পাদক জয়ন্ত ভট্টাচার্য ও সহ সম্পাদনা সচিব হৈমন্তী রায় বিশেষ কাজে আসাম রাজ্যের এক আদিবাসী গ্রামে গিয়েছ্লেন । কত রকমের গাছ গাছালি তে ভরা এই অঞ্চল টি ।কত রকমের জন্তু জানোয়ার ।

খোলা মাঠ মনের পাঠশালা । এই খোলা আদিগন্ত বিস্তৃত আকাশ মন কেড়ে নেয় তার অপরূপ রূপের ডালি দেখি্য়ে ।

সাঁওতাল ভাষা র লোকজন । তাদের মধ্যেই শিক্ষিত লোক আছে যারা অসমিয়া ভাষা বলতে পারে । ইংরেজি ভাষা মোটামুটি বলে । তবে সবাই তো আর শিক্ষিত নয় ।  অশিক্ষিতের হার বেশি ।

সেখানে একটা রেল কোয়ার্টারে ওনারা দুজনে দুটি ঘর নিয়েছেন জি আরপি র এক বন্ধু র দৌলতে ।সামনে রেল স্টেশন ।

বন্ধু বার বার বলেছেন, জয়ন্ত এটা আদিবাসী এলাকা ।এদের নিয়ম  কানুন আলাদা ।এরা পুলিশ কে ভয় পায় না ।একটু সাবধানে থাকিস ।

কিন্তু ঢেঁকি তো স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙ্গে । তাদের যে মুখিয়া , বাতাস মুর্মু তার কথায় তাদের কাছে শেষ কথা ।

ওদের এলাকায় গাছ ই দেবতা । যুগ যুগ ধরে আমরা তো গাছকে পুজো করে আসছি । অথচ কঠিন মুহূর্তে আমরা গাছ কেটেই চলেছি ।

ওদের অঞ্চলে একদল মানুষ গাছ কেটেই চলেছে । জয়ন্ত দা বেড়াতে গিয়ে দেখেছেন । তিনি প্রতিবাদ করেছেন ।

গ্রামের মুখিয়াকে জানিয়েছেন কিন্তু কোনো প্রতিকার হয়নি ।

পরের দিন দুপুর বেলা কয়েক জন শিক্ষিত লোককে নিয়ে জয়ন্ত দা ও হৈমন্তী দি হাজির কাঠুরেদের সামনে । প্রত্যেকে এক একটা গাছের তলায় শুয়ে পড়েছে ।

দুর্বৃত্তরা বলছে , সরে যা কেনেথ না হলি কুড়াল চালিং দোবো ।

ওরা বাংলা বলার চেষ্টা করছে ।কিন্তু জগা  খিচুড়ি ভাষা হয়ে যাচ্ছে ।

জয়ন্ত দা বললেন, একটা গাছও কাটতে দেবো না আমরা ।

তবে বে , বলেই. সবাই তেড়ে মারতে এলো ।জয়ন্ত দা ও দিদি লড়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ওদের অনেক লোক এসে মারতে শুরু করে দিলো ।

জয়ন্ত ভট্টাচার্য  জি আর পি কে জানিয়ে এসেছিলেন । একটু পরেই পুলিশ চলে এলে গাছ কাটার দুজন লোককে ধরে নিয়ে গেলো ।

আর যে যেদিকে পারলো পালিয়ে গেলো ।

পরের দিন শিক্ষিত ছেলের দল মহাখুশি ।

গাছের জন্য এতবড় বিপ্লব কোনোদিন হয়নি ।

তারা বললো, দিদি আপনারা চলে যান । মুখিয়া মানে প্রধান আপনাদের বিচারের জন্য ডাক বে ।অত্যাচার. করবে ।

দিদি বললেন, শেষ দেখে ছাড়বো ।

যথারীতি সন্ধ্যা বেলা দুজনের ডাক এলো । ওরা গেলেন ।ভয় পাওয়ার লোক তারা নন । যাইহোক ওনারা গিয়ে বললেন, আমাদের অপরাধ কি ?

মুখিয়া বললো, মুর কথা শুনিস লাই । তাই তুকে আমাদের মরদের সঙ্গে কুস্তি করে জিততে হবে । আর ওই বিটিকে  অগ্নি পরীক্ষা দিতে হবেক ।

জয়ন্ত দা রাজী ।কিন্তু অগ্নি পরীক্ষা কি করে দেবে ?

হৈমন্তী দি  বললেন, কুছ পরোয়া নেহি । এই সুযোগে বিজ্ঞান বিষয়ে এদের জ্ঞান. হবে ।এই কাজই আমাদের জীবন ।

প্রথমে কুস্তি । জয়ন্ত দা সব মার্শাল আর্ট জানেন । ওদের মরদ  খুব লাফা লাফি করলো । জয়ন্ত দা সুযোগ বুঝে যুযুৎসুর এক প্যাঁচেই মরদকে কাবু করে ফেললেন ।সবাই হাততালি  দিয়ে উঠলো ।

এইবার আসল পরীক্ষা । অগ্নি পরীক্ষা ।

প্রথমে কয়লার লাল আগুন ছিটিয়ে দিলো । এইবার অই আগুনের উপর দিয়ে যেতে হবে দি দিকে ।

দিদি কয়েক সেকেন্ডে র মধ্যেই ওর উপর দিয়ে হেঁটে চলে গেলেন ।

এইবার মুখিয়া জোড় হাতে দিদির পায়ের  উপর হুমরি খেয়ে পড়লো ।

মুখিয়া বলছে , এ মানুষ লয়  এ দেবী আছে ।

সবাই বলে উঠলো ,জয় দেবীর জয় ।

হৈমন্তী দি বললেন, আমি দেবী নয় মানুষ ।

মানুষ হয়ে মানুষ কে কষ্ট দিও না মুখিয়া ।

জ্বলন্ত আগুনে তিন সেকেন্ডে র বেশি না থাকলে কিছু বিপদ হবে না । কারণ মানুষের চামড়ার বহি স্তর পুড়তে সময় নেয় সাড়ে তিন সেকেন্ড ।এটা বিজ্ঞান নির্ভর একটা পরীক্ষা মাত্র ।

মুখিয়া কথা দিলো, আর কোনোদিন গাছ কাটা হবে না ।

হৈমন্তী দি বললেন, আমার দেখে কেউ কোনোদিন আগুনের উপর হাঁটার চেষ্টা করবেন না । এসব অভ্যাসের ব্যাপার । গুরুর কাছে শিক্ষা নিতে হয় ।

জয়ন্ত দা বললেন, হাতির কাজে আর

মানুষের কাজ বা ক্ষমতা একরকম হয় না ।নিজেকে যোগ্য করে তবে এগোনো উচিত।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *